জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো নানা ধরনের দুর্যোগের সম্মুখীন হচ্ছে। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী দেশগুলো থেকে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলো ক্ষতিপূরণ আদায়ে ব্যর্থ হচ্ছে এবং একই সঙ্গে দূষণও কমানো যাচ্ছে না। এই প্রেক্ষাপটে দক্ষিণ এশিয়ায় জলবায়ু নেতৃত্ব, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং টেকসই উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে নেপালে শুরু হয়েছে পাঁচ দিনব্যাপী দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক জলবায়ু ক্যাম্প-২০২৬।
গত ৭ থেকে ১১ জুলাই পর্যন্ত কাঠমান্ডু ও পোখরায় অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে বাংলাদেশ, নেপাল, পাকিস্তানসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের দেড় শতাধিক তরুণ জলবায়ু কর্মী, গবেষক, শিক্ষার্থী ও পরিবেশ আন্দোলনের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন। সন্ধ্যায় কাঠমান্ডুর ওয়ালনাট বিস্ট্রোতে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নেপাল সরকারের মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, নেপালে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, আন্তর্জাতিক জলবায়ু বিশেষজ্ঞ এবং বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন।
বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা কোনো একক দেশের পক্ষে সম্ভব নয়, এর জন্য প্রয়োজন সমন্বিত প্রচেষ্টা। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার, তরুণদের নেতৃত্ব বিকাশ এবং ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তরের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় সীমান্ত অতিক্রম করে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ এবং তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এখন সময়ের দাবি বলে তারা মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নেপালের কৃষি, বন ও পরিবেশমন্ত্রী গীতা চৌধুরী বলেন, জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় উন্নত বিশ্বের সহযোগিতা চাওয়া মানে ভিক্ষা চাওয়া নয়, এটি আমাদের অধিকার। তারা দূষণ করে আমাদের বিপদে ফেলছে, তাই তাদেরই এর ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। অধিকার আদায়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর ঐক্য খুবই জরুরি। এ ধরনের আয়োজন সেই ঐক্য গড়ে তুলতে অত্যন্ত সহায়ক।
নেপালের সংসদ সদস্য ও এপিএমডিডি চেয়ারম্যান ড. অর্জুন কার্কি বলেন, জলবায়ু সংকট কোনো একক দেশের পক্ষে সমাধান করা সম্ভব নয়। সবার সমন্বিত প্রচেষ্টায় জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবিলা করতে হবে। আঞ্চলিক সহযোগিতার মাধ্যমে এই কাজ আরও সহজ হবে। বিনিয়োগ, জ্ঞান এবং পারস্পরিক সহায়তার মাধ্যমে এই কাজ করা আমাদের দায়িত্ব। নেপালে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার শফিকুর রহমান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন এখন আর কোনো তাত্ত্বিক বিষয় নয়; বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর জন্য এটি একটি বাস্তব সংকট।
রিপোর্টারের নাম 























