ঢাকা ১১:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬

নেত্রকোণায় নবজাতকের লাশ উদ্ধারের রহস্য উন্মোচন: ১২ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর নদীতে দেহ ফেলে দেয় ধর্ষক

নেত্রকোণার পূর্বধলা উপজেলার কালিহর নদী থেকে ইট দিয়ে বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার হওয়া এক নবজাতকের লাশের নেপথ্য রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় বেরিয়ে এসেছে এক ১২ বছর বয়সী শিশুর ধর্ষণের শিকার হয়ে গর্ভবতী হওয়া এবং পরে মৃত নবজাতকের দেহ নদীতে ফেলে দেওয়ার লোমহর্ষক কাহিনি। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে মূল অভিযুক্ত মো. সাজন মিয়াকে (২৫) আটক করেছে পুলিশ। সাজন পূর্বধলার কোনাকালিহর গ্রামের আব্দুল হামিদের ছেলে এবং পেশায় একজন কৃষক।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ জুন সকালে উপজেলার হোগলা ইউনিয়নের কালিহরকান্দা এলাকায় কালিহর নদীতে একটি নবজাতকের লাশ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্লাস্টিকের রশি দিয়ে ইটের সাথে বাঁধা এবং কালো শার্টে মোড়ানো অবস্থায় নবজাতক কন্যা শিশুটির লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় পূর্বধলা থানার এসআই ফারুক খান বাদী হয়ে দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলা দায়েরের পর জেলা পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার স্বজল কুমার সরকারের নির্দেশনায় পূর্বধলা থানা পুলিশ তদন্তে নামে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার মূল হোতা সাজন মিয়াকে আটকের পর পুরো ঘটনা উন্মোচিত হয়।

পুলিশ হেফাজতে থাকা ১২ বছর বয়সী ভুক্তভোগী শিশুটি জানায়, তার মা স্থানীয় একটি ক্লিনিকে ঝাড়ুদারের কাজ করেন। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত মা কর্মস্থলে থাকায় বাড়ি খালি থাকত। এই সুযোগে প্রায় সাত মাস আগে সাজন মিয়া তাকে ঘরে একা পেয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এরপর ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রায় প্রতিদিনই তাকে ধর্ষণ করা হতো। এর ফলে শিশুটি গর্ভবতী হয়ে পড়ে। তার বয়স ও শারীরিক গঠনের কারণে বাবা-মা প্রাথমিকভাবে বিষয়টি টের পাননি।

গত ২৮ জুন দিবাগত রাত ১টার দিকে শিশুটি তার ঘরের প্রস্রাবখানার পাশে একটি মৃত কন্যাসন্তান প্রসব করে। পরে শিশুটি তার মাকে সব খুলে বললে, মা সাজন মিয়াকে ডেকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। সাজন মিয়া ধর্ষণের কথা স্বীকার করলেও ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে ভুক্তভোগীর পরিবারকে নানাভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেয়। এরপর ৩০ জুন ভোররাতে সাজন মিয়া নিজের একটি কালো শার্ট দিয়ে মৃত নবজাতকের লাশটি পেঁচিয়ে, রশি দিয়ে ইট বেঁধে অজ্ঞাতনামা সহযোগীদের সহায়তায় কালিহর নদীতে ফেলে দেয়। পুলিশ এ ঘটনার সাথে জড়িত অন্যদেরও খুঁজে বের করার চেষ্টা চালাচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জনস্বাস্থ্য ও নারীর ক্ষমতায়নে পিএসটিসির ৫০ বছরের অবদান অনস্বীকার্য: সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী

নেত্রকোণায় নবজাতকের লাশ উদ্ধারের রহস্য উন্মোচন: ১২ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর নদীতে দেহ ফেলে দেয় ধর্ষক

আপডেট সময় : ১০:১৭:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬

নেত্রকোণার পূর্বধলা উপজেলার কালিহর নদী থেকে ইট দিয়ে বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার হওয়া এক নবজাতকের লাশের নেপথ্য রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় বেরিয়ে এসেছে এক ১২ বছর বয়সী শিশুর ধর্ষণের শিকার হয়ে গর্ভবতী হওয়া এবং পরে মৃত নবজাতকের দেহ নদীতে ফেলে দেওয়ার লোমহর্ষক কাহিনি। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে মূল অভিযুক্ত মো. সাজন মিয়াকে (২৫) আটক করেছে পুলিশ। সাজন পূর্বধলার কোনাকালিহর গ্রামের আব্দুল হামিদের ছেলে এবং পেশায় একজন কৃষক।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ জুন সকালে উপজেলার হোগলা ইউনিয়নের কালিহরকান্দা এলাকায় কালিহর নদীতে একটি নবজাতকের লাশ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্লাস্টিকের রশি দিয়ে ইটের সাথে বাঁধা এবং কালো শার্টে মোড়ানো অবস্থায় নবজাতক কন্যা শিশুটির লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় পূর্বধলা থানার এসআই ফারুক খান বাদী হয়ে দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলা দায়েরের পর জেলা পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার স্বজল কুমার সরকারের নির্দেশনায় পূর্বধলা থানা পুলিশ তদন্তে নামে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার মূল হোতা সাজন মিয়াকে আটকের পর পুরো ঘটনা উন্মোচিত হয়।

পুলিশ হেফাজতে থাকা ১২ বছর বয়সী ভুক্তভোগী শিশুটি জানায়, তার মা স্থানীয় একটি ক্লিনিকে ঝাড়ুদারের কাজ করেন। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত মা কর্মস্থলে থাকায় বাড়ি খালি থাকত। এই সুযোগে প্রায় সাত মাস আগে সাজন মিয়া তাকে ঘরে একা পেয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এরপর ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রায় প্রতিদিনই তাকে ধর্ষণ করা হতো। এর ফলে শিশুটি গর্ভবতী হয়ে পড়ে। তার বয়স ও শারীরিক গঠনের কারণে বাবা-মা প্রাথমিকভাবে বিষয়টি টের পাননি।

গত ২৮ জুন দিবাগত রাত ১টার দিকে শিশুটি তার ঘরের প্রস্রাবখানার পাশে একটি মৃত কন্যাসন্তান প্রসব করে। পরে শিশুটি তার মাকে সব খুলে বললে, মা সাজন মিয়াকে ডেকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। সাজন মিয়া ধর্ষণের কথা স্বীকার করলেও ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে ভুক্তভোগীর পরিবারকে নানাভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেয়। এরপর ৩০ জুন ভোররাতে সাজন মিয়া নিজের একটি কালো শার্ট দিয়ে মৃত নবজাতকের লাশটি পেঁচিয়ে, রশি দিয়ে ইট বেঁধে অজ্ঞাতনামা সহযোগীদের সহায়তায় কালিহর নদীতে ফেলে দেয়। পুলিশ এ ঘটনার সাথে জড়িত অন্যদেরও খুঁজে বের করার চেষ্টা চালাচ্ছে।