ঢাকা ১২:৩৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬

উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা, চার বিভাগে সতর্কতা জারি

দেশের উত্তর, উত্তর-পূর্ব এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের চার বিভাগে আগামী কয়েক দিনে স্বল্পমেয়াদী ও আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আবহাওয়া সংস্থা এবং বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলায় নদী-সংলগ্ন নিচু এলাকা এবং নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে। মূলত দেশের অভ্যন্তরে এবং ভারতের উজানে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি সামগ্রিকভাবে বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও অভ্যন্তরীণ ও উজানের বৃষ্টিপাত পরিস্থিতিকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে। গত একদিনে বন্দর নগরী চট্টগ্রামে দেশের সর্বোচ্চ ২৫৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা অতি ভারী বর্ষণের নির্দেশক। এছাড়া, সিলেট ও বরিশাল বিভাগ এবং ভারতের মেঘালয় ও ত্রিপুরা প্রদেশেও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত পরিলক্ষিত হয়েছে। ভারতের উড়িষ্যা ও ঝাড়খণ্ড এলাকায় অবস্থানরত মৌসুমি নিম্নচাপটি দুর্বল হয়ে বর্তমানে সুস্পষ্ট লঘুচাপ আকারে পূর্ব মধ্যপ্রদেশে অবস্থান করছে। এর প্রভাবে আগামী চার দিন দেশের উল্লিখিত চার বিভাগ এবং তৎসংলগ্ন ভারতের ত্রিপুরা, আসাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশে ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৩ থেকে ৪ দিন ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় দেশের নদীগুলোর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাবে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ছয়টার আগের ২৪ ঘণ্টায় গোমতী, মুহুরী, ফেনী, সেলোনিয়া, হালদা, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আগামী ৩ দিন আরও দ্রুত বাড়বে। ফলে আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বান্দরবান, কক্সবাজার, ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ি জেলার কিছু স্থানে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে স্বল্পমেয়াদী বন্যা সৃষ্টি করতে পারে। এছাড়া, লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালী জেলার নিম্নাঞ্চলও সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।

সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় কমলেও আগামী ৩ দিন তা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে সিলেট ও সুনামগঞ্জে সতর্কসীমায় পৌঁছাতে পারে। অন্যদিকে, মনু, ধলাই, খোয়াই ও কংস নদীর পানি কমলেও সারিগোয়াইন, সোমেশ্বরী, যাদুকাটা ও ভুগাই নদীর পানি বেড়েছে। আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টায় সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোণা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার নদীগুলো বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে মিসরকে হারিয়ে বিশ্বকাপ ফুটবলের কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা

উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা, চার বিভাগে সতর্কতা জারি

আপডেট সময় : ১১:৩০:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬

দেশের উত্তর, উত্তর-পূর্ব এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের চার বিভাগে আগামী কয়েক দিনে স্বল্পমেয়াদী ও আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আবহাওয়া সংস্থা এবং বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলায় নদী-সংলগ্ন নিচু এলাকা এবং নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে। মূলত দেশের অভ্যন্তরে এবং ভারতের উজানে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি সামগ্রিকভাবে বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও অভ্যন্তরীণ ও উজানের বৃষ্টিপাত পরিস্থিতিকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে। গত একদিনে বন্দর নগরী চট্টগ্রামে দেশের সর্বোচ্চ ২৫৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা অতি ভারী বর্ষণের নির্দেশক। এছাড়া, সিলেট ও বরিশাল বিভাগ এবং ভারতের মেঘালয় ও ত্রিপুরা প্রদেশেও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত পরিলক্ষিত হয়েছে। ভারতের উড়িষ্যা ও ঝাড়খণ্ড এলাকায় অবস্থানরত মৌসুমি নিম্নচাপটি দুর্বল হয়ে বর্তমানে সুস্পষ্ট লঘুচাপ আকারে পূর্ব মধ্যপ্রদেশে অবস্থান করছে। এর প্রভাবে আগামী চার দিন দেশের উল্লিখিত চার বিভাগ এবং তৎসংলগ্ন ভারতের ত্রিপুরা, আসাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশে ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৩ থেকে ৪ দিন ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় দেশের নদীগুলোর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাবে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ছয়টার আগের ২৪ ঘণ্টায় গোমতী, মুহুরী, ফেনী, সেলোনিয়া, হালদা, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আগামী ৩ দিন আরও দ্রুত বাড়বে। ফলে আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বান্দরবান, কক্সবাজার, ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ি জেলার কিছু স্থানে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে স্বল্পমেয়াদী বন্যা সৃষ্টি করতে পারে। এছাড়া, লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালী জেলার নিম্নাঞ্চলও সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।

সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় কমলেও আগামী ৩ দিন তা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে সিলেট ও সুনামগঞ্জে সতর্কসীমায় পৌঁছাতে পারে। অন্যদিকে, মনু, ধলাই, খোয়াই ও কংস নদীর পানি কমলেও সারিগোয়াইন, সোমেশ্বরী, যাদুকাটা ও ভুগাই নদীর পানি বেড়েছে। আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টায় সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোণা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার নদীগুলো বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।