সাতক্ষীরার শ্যামনগরে ঘূর্ণিঝড় আম্ফান পরবর্তী সময়ে বিএনপির ত্রাণবাহী গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় দুই ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যানসহ আওয়ামী লীগের ১০ নেতাকর্মীর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার সাতক্ষীরার মুখ্য বিচারিক হাকিম মো. সাঈদুর রহমান উভয় পক্ষের শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।
কারাগারে পাঠানো আসামিরা হলেন— নূরনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বখতিয়ার আহম্মেদ, তার ভাই হাবিবুর রহমান (হবি), জাহিদ হোসেন, রায়হান কবীর, সোলায়মান গাজী, শহীদুল গাজী, শফিউল্লাহ, ঈশ্বরীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শোকর আলী, তার ভাই আব্দুল কাদের এবং মোজাম গাজী।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ২১ জুন ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খোঁজখবর নেওয়া ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণের উদ্দেশ্যে বিএনপির নেতাকর্মীরা গাড়িবহর নিয়ে শ্যামনগর থেকে কাশিমাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন। গাড়িবহরটি কাশিমাড়ি ইউনিয়নের কাতখালী ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীরা লোহার রড, দা, লাঠি ও ককটেল নিয়ে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ হামলায় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন। পাশাপাশি প্রায় ৫ লাখ টাকার ত্রাণসামগ্রী ও ওষুধ নষ্ট এবং একটি প্রাইভেট কার, একটি মাইক্রোবাস ও ১০টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি করা হয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় চলতি বছরের ১৯ মার্চ আজিজুল ইসলাম বাদী হয়ে শ্যামনগর থানায় জিএম জগলুল হায়দারসহ ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
পরবর্তীতে মামলার ১০ আসামি হাইকোর্টে জামিন আবেদন করলে গত ১১ মে বিচারপতি কেএম জাহিদ সরোয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ তাদের আট সপ্তাহের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সাতক্ষীরার মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী সোমবার আসামিরা প্রবীণ আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবু বক্কর ছিদ্দিকের মাধ্যমে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তাদের আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। সাতক্ষীরা আদালতের পুলিশ পরিদর্শক মঈনুদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
রিপোর্টারের নাম 





















