ঢাকা ০৯:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬

ঢাবি প্রশাসনের অসহযোগিতা ও সরকারি বাধায় দুই ডজনের বেশি প্রকল্প আটকে থাকার অভিযোগ ভিপি সাদিক কায়েমের

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) প্রশাসনের ‘চরম অসহযোগিতা’ এবং সরকারের ‘বিভিন্ন মহলের’ বাধার কারণে শিক্ষার্থীদের জন্য অনুমোদিত দুই ডজনের বেশি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প আটকে আছে বলে অভিযোগ করেছেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম। মঙ্গলবার এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি এই অভিযোগ করেন, যেখানে তিনি বলেন, ডাকসুর প্রচেষ্টায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় অনেকগুলো প্রকল্প অনুমোদিত হলেও সেগুলোর বাস্তবায়ন আটকে রয়েছে।

ভিপি কায়েম জানান, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আটকে রাখা প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে ডাকসু ও আইসিটি বিভাগের সমঝোতায় হলগুলোতে কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন, শিক্ষার্থীদের আইটি প্রশিক্ষণ, ইন্টার্নশিপের সুযোগ সৃষ্টি এবং ইনোভেশন হাব প্রতিষ্ঠাসহ মোট ছয়টি বৃহৎ প্রকল্প। এছাড়া, স্থানীয় সরকার বিভাগ ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের কারিগরি সহায়তায় বাস্তবায়নের জন্য নির্ধারিত স্যার এ. এফ. রহমান হলের প্রবেশদ্বার নির্মাণ, ডাকসু ক্যাফেটেরিয়ার সংস্কার, ক্যাম্পাসের পুকুরের পাড় বাঁধাই, ওয়াকওয়ে নির্মাণ, লাইটিং ও সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্পসহ মোট পাঁচটি উদ্যোগও থমকে আছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, কাজী মোতাহার হোসেন ভবন এলাকায় ক্যান্টিন স্থাপন, ক্যাম্পাসে টেকসই ডাস্টবিন স্থাপন এবং প্রায় দুই কোটি টাকার আরেকটি ক্যান্টিন প্রকল্প মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ও সুপারিশ পাওয়ার পরও আটকে আছে। ক্যাম্পাসে রেজিস্টার্ড রিকশা ব্যবস্থা চালু, দায়িত্ব পালনের জন্য পুলিশ কর্মকর্তা নিয়োগ এবং পুরোনো যানবাহন নিলামে বিক্রি করে নতুন দুটি মিনিবাস ও দুটি মাইক্রোবাস কেনার অনুমোদিত উদ্যোগও দীর্ঘদিন ধরে আটকে রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অর্থায়নে দুই কোটি টাকার মাঠ সংস্কার প্রকল্প এবং মাঠের ডিজিটাল সার্ভের কাজও নানা অজুহাতে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) সঙ্গে ভর্তুকি মূল্যে ক্যান্টিনে খাদ্য সরবরাহের উদ্যোগ গৃহীত হলেও নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আটকে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন ভিপি।

এছাড়াও, পাবলিক ওয়াশরুম নির্মাণ, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার থেকে কলাভবন পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার, আবাসিক হলগুলোতে বাগান স্থাপন, শারীরিক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সুবিধা, আসবাবপত্র সরবরাহ, হল মসজিদ উন্নয়ন এবং কেন্দ্রীয় মসজিদে লাইব্রেরি ও এসি স্থাপনের মতো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পও আটকে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কুমিল্লায় গোমতী নদীর চরে অজ্ঞাত ব্যক্তির ভাসমান মরদেহ উদ্ধার

ঢাবি প্রশাসনের অসহযোগিতা ও সরকারি বাধায় দুই ডজনের বেশি প্রকল্প আটকে থাকার অভিযোগ ভিপি সাদিক কায়েমের

আপডেট সময় : ০৯:১১:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) প্রশাসনের ‘চরম অসহযোগিতা’ এবং সরকারের ‘বিভিন্ন মহলের’ বাধার কারণে শিক্ষার্থীদের জন্য অনুমোদিত দুই ডজনের বেশি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প আটকে আছে বলে অভিযোগ করেছেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম। মঙ্গলবার এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি এই অভিযোগ করেন, যেখানে তিনি বলেন, ডাকসুর প্রচেষ্টায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় অনেকগুলো প্রকল্প অনুমোদিত হলেও সেগুলোর বাস্তবায়ন আটকে রয়েছে।

ভিপি কায়েম জানান, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আটকে রাখা প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে ডাকসু ও আইসিটি বিভাগের সমঝোতায় হলগুলোতে কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন, শিক্ষার্থীদের আইটি প্রশিক্ষণ, ইন্টার্নশিপের সুযোগ সৃষ্টি এবং ইনোভেশন হাব প্রতিষ্ঠাসহ মোট ছয়টি বৃহৎ প্রকল্প। এছাড়া, স্থানীয় সরকার বিভাগ ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের কারিগরি সহায়তায় বাস্তবায়নের জন্য নির্ধারিত স্যার এ. এফ. রহমান হলের প্রবেশদ্বার নির্মাণ, ডাকসু ক্যাফেটেরিয়ার সংস্কার, ক্যাম্পাসের পুকুরের পাড় বাঁধাই, ওয়াকওয়ে নির্মাণ, লাইটিং ও সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্পসহ মোট পাঁচটি উদ্যোগও থমকে আছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, কাজী মোতাহার হোসেন ভবন এলাকায় ক্যান্টিন স্থাপন, ক্যাম্পাসে টেকসই ডাস্টবিন স্থাপন এবং প্রায় দুই কোটি টাকার আরেকটি ক্যান্টিন প্রকল্প মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ও সুপারিশ পাওয়ার পরও আটকে আছে। ক্যাম্পাসে রেজিস্টার্ড রিকশা ব্যবস্থা চালু, দায়িত্ব পালনের জন্য পুলিশ কর্মকর্তা নিয়োগ এবং পুরোনো যানবাহন নিলামে বিক্রি করে নতুন দুটি মিনিবাস ও দুটি মাইক্রোবাস কেনার অনুমোদিত উদ্যোগও দীর্ঘদিন ধরে আটকে রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অর্থায়নে দুই কোটি টাকার মাঠ সংস্কার প্রকল্প এবং মাঠের ডিজিটাল সার্ভের কাজও নানা অজুহাতে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) সঙ্গে ভর্তুকি মূল্যে ক্যান্টিনে খাদ্য সরবরাহের উদ্যোগ গৃহীত হলেও নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আটকে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন ভিপি।

এছাড়াও, পাবলিক ওয়াশরুম নির্মাণ, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার থেকে কলাভবন পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার, আবাসিক হলগুলোতে বাগান স্থাপন, শারীরিক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সুবিধা, আসবাবপত্র সরবরাহ, হল মসজিদ উন্নয়ন এবং কেন্দ্রীয় মসজিদে লাইব্রেরি ও এসি স্থাপনের মতো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পও আটকে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।