জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও সংসদ বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন যে, বর্তমান সরকার জনগণের সঙ্গে ‘গাদ্দারি’ করছে এবং সংস্কার বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সরকার বিরোধী মতকে মাঠে কথা বলতে দিচ্ছে না, বরং মাঠের জায়গা সংকুচিত করছে এবং মতপ্রকাশে বাধা সৃষ্টি করছে। মঙ্গলবার বিকেলে টাঙ্গাইলের সখিপুর উপজেলার তালতলা চত্বরে ‘জুলাই জাগরণ কর্মসূচির’ অংশ হিসেবে আয়োজিত জুলাই পদযাত্রা ও পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, রোদ-বৃষ্টি, ঝড় যতই আসুক না কেন, যারা দেশের সার্বভৌমত্ব, সীমান্ত সুরক্ষা, সন্ত্রাস, মাদক ও চাঁদাবাজিমুক্ত দেশ গড়ার জন্য জীবন ও রক্ত দিয়েছেন, তাদের পক্ষে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করে যাব। তিনি অভিযোগ করেন, মঙ্গলবার সাভারে তাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে ককটেল ফাটিয়ে বা বোমা মেরে গণজোয়ার বন্ধ করার চেষ্টা করা হয়েছে, যা জনগণ ব্যর্থ করে দিয়েছে।
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতা একটি পরিবর্তনের জন্য জীবন ও রক্ত দিয়েছিল। যদি দেশে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি চলতে থাকে, তবে সেই আত্মত্যাগ ও রক্তদানের কোনো মূল্য থাকবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ছাত্র-জনতা এক দলকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে আরেক দলের লুটপাটের জন্য জীবন দেয়নি।
বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ বলেন, বিগত সময়ে একটি দলের শাসনকালে অন্য কোনো দল কথা বলতে পারত না; কথা বললেই ধরে জেলে দেওয়া, গুম করা বা হয়রানি করা হতো। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, বাংলাদেশকে আবার একদলীয় শাসনের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে, যেখানে ক্ষমতাসীন দল ছাড়া সংসদেও তাদের কথা বলতে দেওয়া হয় না এবং জনসভায় কথা বললে ককটেল ফাটানো হয়।
নাহিদ ইসলাম ক্ষমতাসীন দলকে সতর্ক করে বলেন, যদি কেউ আবার একদলীয় শাসন শুরুর কথা ভাবে, তবে তাদের উচিত অতীতের পরিণতির কথা ভাবা। তিনি অভিযোগ করেন, ১৬ বছর একদলীয় শাসন চালিয়ে আওয়ামী লীগ দিল্লিতে হেলিকপ্টারে পালিয়েছিল। এখন তারা টাকা দিয়ে দেশের দুয়েকটি জায়গায় মিছিল করে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ৫ আগস্টের পর ন্যায়বিচার চাওয়ার পরিবর্তে সারা বাংলাদেশে মামলা-বাণিজ্য শুরু হয়েছে এবং শত শত সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 























