চট্টগ্রাম নগরে সাম্প্রতিক রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাতের পর কোথাও জলাবদ্ধতা হয়নি, কেবল তিনটি স্থানে সাময়িক জলজট সৃষ্টি হয়েছিল বলে দাবি করেছেন চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের পরিচালক ও সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মহসিনুল হক চৌধুরী। তার মতে, দুই থেকে তিন ঘণ্টা পানি জমে থাকাকে জলাবদ্ধতা বলা যায় না। প্রকল্পের অগ্রগতির ফলে আগের বছরের ১৭টি জলজটপ্রবণ স্থান কমে এবার তিনটিতে নেমে এসেছে।
মঙ্গলবার দুপুরে নগরের রাজাখালী এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। প্রকল্প পরিচালক জানান, এবার কাতালগঞ্জের নবপণ্ডিত বিহার, কাপাসগোলা ব্রিজের দুই পাশ এবং জাতিসংঘ পার্কের সামনে পানি জমেছিল। নিচু এলাকা হওয়ায় আশপাশের বিভিন্ন স্থানের পানি সেখানে এসে জমে সাময়িক জলজটের সৃষ্টি হয়। তবে দুই থেকে তিন ঘণ্টার মধ্যেই পানি নেমে যায়।
তিনি বলেন, ২০২৩ সালে নগরের ১২১টি স্থানে পানি জমার ঘটনা ঘটেছিল, যা ২০২৪ সালে কমে ৬১টিতে এবং গত বছর ১৭টিতে নেমে আসে। চলতি বছরে সেটি আরও কমে মাত্র তিনটি স্থানে সীমিত হয়েছে। আবহাওয়া অফিসের তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, গত ৫ জুলাই থেকে ৭ জুলাই দুপুর ১২টা পর্যন্ত চট্টগ্রামে ৫৪৬ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে, যা ১৯৮৩ সালের পর গত ৪৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এছাড়া মঙ্গলবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ৪১২ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এত বৃষ্টির পরও স্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও জানান, জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের ৯৮ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। অবশিষ্ট দুই শতাংশ কাজ বর্ষা শেষে শুষ্ক মৌসুমে সম্পন্ন করা হবে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী ডিসেম্বর অথবা পরের বছরের ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করা সম্ভব হবে।
প্রকল্প পরিচালক বলেন, তাদের ড্রেনেজ ব্যবস্থা ৫৫০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত সামাল দেওয়ার সক্ষমতা রাখে। আগে কোথাও পানি জমলে তা নামতে ৩৬ থেকে ৪০ ঘণ্টা সময় লাগত, এখন দুই থেকে তিন ঘণ্টার মধ্যেই নেমে যাচ্ছে। তবে এ ক্ষেত্রে নাগরিকদেরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, খাল ও ড্রেনে ময়লা-আবর্জনা কিংবা গৃহস্থালির বর্জ্য না ফেললে প্রকল্পের সুফল আরও বেশি পাওয়া যাবে। তিনি জানান, প্রকল্পের আওতায় থাকা ৩৬টি খালের মধ্যে ৩০টির কাজ শতভাগ শেষ হয়েছে এবং বাকি ছয়টির কাজ চলমান রয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 

























