ঢাকা ০৯:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬

চট্টগ্রামে রেকর্ড বৃষ্টিপাত ও জলাবদ্ধতা: চসিকের ১০১ সদস্যের র‌্যাপিড রেসপন্স টিম গঠন, নাগরিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান

গত ৫ থেকে ৭ জুলাই দুপুর ১২টা পর্যন্ত চট্টগ্রামে ৪৩ বছরের রেকর্ড ৫৪৬.৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এছাড়া, মঙ্গলবার বিকাল নাগাদ আগের ২৪ ঘণ্টায় নগরে ৪১২ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়, যা ব্যাপক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করেছে। এই দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন এবং সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন সরাসরি মাঠে নেমেছেন।

চসিকের পক্ষ থেকে জলাবদ্ধতাপ্রবণ ও পাহাড়ঘেঁষা এলাকার জন্য ১০১ সদস্যবিশিষ্ট একটি র‌্যাপিড রেসপন্স টিম গঠন করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন শেষে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় মেয়র এই কমিটি গঠন করেন। চসিক ও বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির যৌথ উদ্যোগে গঠিত এই কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আমিনকে এবং সদস্যসচিব হয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি রেড ক্রিসেন্টের সেক্রেটারি গোলাম বাকি মাসুদ। যেকোনো জরুরি সহযোগিতার জন্য একটি হটলাইন নম্বরও (০১৮০৫-৭৮৩৩৮৯) চালু করা হয়েছে।

মাঠ পরিদর্শনে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, চসিকের অধীনে থাকা জলাবদ্ধতা প্রকল্পের কাজ ৭০ শতাংশ শেষ হয়েছে। নগরীর বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, চকবাজারসহ অধিকাংশ এলাকায় এবার উল্লেখযোগ্য জলাবদ্ধতা হয়নি। তবে হিজড়া খাল, জামালখান ও গুলজার খালের বাকি ৩০ শতাংশ কাজ চলমান থাকায় কিছু নিচু এলাকায় সাময়িক পানি জমলেও তা দ্রুত নেমে যাচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, পুরো প্রকল্প শেষ হলে নগরবাসী এর শতভাগ সুফল পাবেন।

নালা-নর্দমায় পলিথিন, প্লাস্টিক ও ককশিট ফেলে পানি চলাচলে বাধা সৃষ্টির তীব্র সমালোচনা করে মেয়র বলেন, যারা যত্রতত্র বর্জ্য ফেলে নগরীকে সংকটে ফেলছে, তাদের বিরুদ্ধে ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে কঠোর আইনি ব্যবস্থা ও জরিমানা করা হবে। টানা বর্ষণে পাহাড়ধসের আশঙ্কা থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত চসিকের আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেন চসিক মেয়র। এছাড়া উপড়ে পড়া গাছ অপসারণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামতে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে তাৎক্ষণিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কুমিল্লায় গোমতী নদীর চরে অজ্ঞাত ব্যক্তির ভাসমান মরদেহ উদ্ধার

চট্টগ্রামে রেকর্ড বৃষ্টিপাত ও জলাবদ্ধতা: চসিকের ১০১ সদস্যের র‌্যাপিড রেসপন্স টিম গঠন, নাগরিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান

আপডেট সময় : ০৬:৪১:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬

গত ৫ থেকে ৭ জুলাই দুপুর ১২টা পর্যন্ত চট্টগ্রামে ৪৩ বছরের রেকর্ড ৫৪৬.৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এছাড়া, মঙ্গলবার বিকাল নাগাদ আগের ২৪ ঘণ্টায় নগরে ৪১২ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়, যা ব্যাপক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করেছে। এই দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন এবং সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন সরাসরি মাঠে নেমেছেন।

চসিকের পক্ষ থেকে জলাবদ্ধতাপ্রবণ ও পাহাড়ঘেঁষা এলাকার জন্য ১০১ সদস্যবিশিষ্ট একটি র‌্যাপিড রেসপন্স টিম গঠন করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন শেষে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় মেয়র এই কমিটি গঠন করেন। চসিক ও বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির যৌথ উদ্যোগে গঠিত এই কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আমিনকে এবং সদস্যসচিব হয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি রেড ক্রিসেন্টের সেক্রেটারি গোলাম বাকি মাসুদ। যেকোনো জরুরি সহযোগিতার জন্য একটি হটলাইন নম্বরও (০১৮০৫-৭৮৩৩৮৯) চালু করা হয়েছে।

মাঠ পরিদর্শনে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, চসিকের অধীনে থাকা জলাবদ্ধতা প্রকল্পের কাজ ৭০ শতাংশ শেষ হয়েছে। নগরীর বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, চকবাজারসহ অধিকাংশ এলাকায় এবার উল্লেখযোগ্য জলাবদ্ধতা হয়নি। তবে হিজড়া খাল, জামালখান ও গুলজার খালের বাকি ৩০ শতাংশ কাজ চলমান থাকায় কিছু নিচু এলাকায় সাময়িক পানি জমলেও তা দ্রুত নেমে যাচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, পুরো প্রকল্প শেষ হলে নগরবাসী এর শতভাগ সুফল পাবেন।

নালা-নর্দমায় পলিথিন, প্লাস্টিক ও ককশিট ফেলে পানি চলাচলে বাধা সৃষ্টির তীব্র সমালোচনা করে মেয়র বলেন, যারা যত্রতত্র বর্জ্য ফেলে নগরীকে সংকটে ফেলছে, তাদের বিরুদ্ধে ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে কঠোর আইনি ব্যবস্থা ও জরিমানা করা হবে। টানা বর্ষণে পাহাড়ধসের আশঙ্কা থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত চসিকের আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেন চসিক মেয়র। এছাড়া উপড়ে পড়া গাছ অপসারণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামতে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে তাৎক্ষণিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।