ঢাকা ০২:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬

জাতিসংঘে বাংলাদেশের জোরালো প্রস্তাব

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের ভূমিকা আরও জোরদার করার পাশাপাশি শান্তিরক্ষীদের সক্ষমতা বাড়ানো এবং হাইতিতে বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিট মোতায়েনের পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে জাতিসংঘের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অবস্থিত জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ডিপার্টমেন্ট অব অপারেশনাল সাপোর্টের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল অতুল খারের সঙ্গে সোমবার এই আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্যটি জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়েছে।

এই উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত বাংলাদেশের সামরিক ও পুলিশ সদস্যদের পরিচালনাগত নানাবিধ সহযোগিতা এবং প্রতিপূরণ বা রিইমবার্সমেন্ট দ্রুত নিষ্পত্তি করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। একই সঙ্গে পরিবেশগত টেকসই উন্নয়ন এবং নারী ও শান্তি এবং নিরাপত্তা এজেন্ডা বাস্তবায়নের পাশাপাশি হাইতিতে বাংলাদেশের বিশেষায়িত পুলিশ কন্টিনজেন্ট মোতায়েনের প্রস্তুতির মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আলোচনায় উঠে আসে।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে জলবায়ু পরিবর্তনের চরম ঝুঁকিতে থাকা একটি দেশ হিসেবে বাংলাদেশ শান্তিরক্ষা মিশনে পরিবেশগত ক্ষতি কমিয়ে আনতে সম্পূর্ণভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি তথ্য দেন যে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সৌর প্যানেল স্থাপনকারী প্রথম দেশ হলো বাংলাদেশ এবং এই দীর্ঘ অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে মিশন এলাকাগুলোতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার আরও বাড়াতে বাংলাদেশ গভীরভাবে আগ্রহী। পাশাপাশি তিনি নারী শান্তিরক্ষীদের জন্য একটি নিরাপদ ও অত্যন্ত উপযোগী কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জাতিসংঘকে আরও বেশি পরিবেশবান্ধব ও নারীবান্ধব অবকাঠামো নির্মাণের জোরালো আহ্বান জানান। এছাড়াও প্রতিকূল এবং বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে দায়িত্ব পালনের জন্য শান্তিরক্ষীদের উন্নততর প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

হাইতি মিশন প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেলকে অবহিত করেন যে সেখানকার বর্তমান অস্থিতিশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে বাংলাদেশ পুলিশ ইতোমধ্যে তিনটি বিশেষায়িত ফর্মড পুলিশ ইউনিট মোতায়েনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। তিনি জানান যে এসব ইউনিটে সোয়াত এবং র‍্যাপিড রেসপন্স ও বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটের পাশাপাশি ফরেনসিক এবং সাইবার অপরাধ তদন্ত ও নৌ অভিযান এবং মাদকবিরোধী অভিযানের মতো অত্যন্ত বিশেষায়িত সক্ষমতা থাকবে। এই বিষয়ে সমঝোতা স্মারক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনায় অংশ নিতে আগামী পনেরো থেকে সতেরো জুলাই বাংলাদেশ পুলিশের তিন সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সফর করবে। প্রয়োজনে অন্যান্য পুলিশ অবদানকারী দেশের সঙ্গে যৌথভাবেও এই বিশেষায়িত পুলিশ দল মোতায়েন করতে বাংলাদেশ সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

বৈঠকের শেষ পর্যায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের নীল পতাকার অধীনে বাংলাদেশের অবিচল অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন এবং বলেন যে বাংলাদেশের পেশাদারিত্ব ও জাতিসংঘের লজিস্টিক সহায়তার সমন্বয়ে এই শান্তিরক্ষা কার্যক্রম আগামীতে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে। জবাবে আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল অতুল খারে শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের অসামান্য পেশাদারিত্ব এবং সাহসিকতা ও শৃঙ্খলার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি পরিবেশ সুরক্ষায় বাংলাদেশের নেওয়া উদ্ভাবনী উদ্যোগগুলোরও প্রশংসা করেন এবং হাইতিতে বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিট মোতায়েনসহ বাংলাদেশের দেওয়া সকল প্রস্তাব অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার সুস্পষ্ট আশ্বাস প্রদান করেন।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

সাভারে এনসিপি সমাবেশে ককটেল বিস্ফোরণ: মামলা দায়ের ও তদন্ত কমিটি গঠন

জাতিসংঘে বাংলাদেশের জোরালো প্রস্তাব

আপডেট সময় : ১২:২৭:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের ভূমিকা আরও জোরদার করার পাশাপাশি শান্তিরক্ষীদের সক্ষমতা বাড়ানো এবং হাইতিতে বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিট মোতায়েনের পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে জাতিসংঘের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অবস্থিত জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ডিপার্টমেন্ট অব অপারেশনাল সাপোর্টের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল অতুল খারের সঙ্গে সোমবার এই আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্যটি জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়েছে।

এই উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত বাংলাদেশের সামরিক ও পুলিশ সদস্যদের পরিচালনাগত নানাবিধ সহযোগিতা এবং প্রতিপূরণ বা রিইমবার্সমেন্ট দ্রুত নিষ্পত্তি করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। একই সঙ্গে পরিবেশগত টেকসই উন্নয়ন এবং নারী ও শান্তি এবং নিরাপত্তা এজেন্ডা বাস্তবায়নের পাশাপাশি হাইতিতে বাংলাদেশের বিশেষায়িত পুলিশ কন্টিনজেন্ট মোতায়েনের প্রস্তুতির মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আলোচনায় উঠে আসে।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে জলবায়ু পরিবর্তনের চরম ঝুঁকিতে থাকা একটি দেশ হিসেবে বাংলাদেশ শান্তিরক্ষা মিশনে পরিবেশগত ক্ষতি কমিয়ে আনতে সম্পূর্ণভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি তথ্য দেন যে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সৌর প্যানেল স্থাপনকারী প্রথম দেশ হলো বাংলাদেশ এবং এই দীর্ঘ অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে মিশন এলাকাগুলোতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার আরও বাড়াতে বাংলাদেশ গভীরভাবে আগ্রহী। পাশাপাশি তিনি নারী শান্তিরক্ষীদের জন্য একটি নিরাপদ ও অত্যন্ত উপযোগী কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জাতিসংঘকে আরও বেশি পরিবেশবান্ধব ও নারীবান্ধব অবকাঠামো নির্মাণের জোরালো আহ্বান জানান। এছাড়াও প্রতিকূল এবং বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে দায়িত্ব পালনের জন্য শান্তিরক্ষীদের উন্নততর প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

হাইতি মিশন প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেলকে অবহিত করেন যে সেখানকার বর্তমান অস্থিতিশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে বাংলাদেশ পুলিশ ইতোমধ্যে তিনটি বিশেষায়িত ফর্মড পুলিশ ইউনিট মোতায়েনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। তিনি জানান যে এসব ইউনিটে সোয়াত এবং র‍্যাপিড রেসপন্স ও বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটের পাশাপাশি ফরেনসিক এবং সাইবার অপরাধ তদন্ত ও নৌ অভিযান এবং মাদকবিরোধী অভিযানের মতো অত্যন্ত বিশেষায়িত সক্ষমতা থাকবে। এই বিষয়ে সমঝোতা স্মারক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনায় অংশ নিতে আগামী পনেরো থেকে সতেরো জুলাই বাংলাদেশ পুলিশের তিন সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সফর করবে। প্রয়োজনে অন্যান্য পুলিশ অবদানকারী দেশের সঙ্গে যৌথভাবেও এই বিশেষায়িত পুলিশ দল মোতায়েন করতে বাংলাদেশ সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

বৈঠকের শেষ পর্যায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের নীল পতাকার অধীনে বাংলাদেশের অবিচল অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন এবং বলেন যে বাংলাদেশের পেশাদারিত্ব ও জাতিসংঘের লজিস্টিক সহায়তার সমন্বয়ে এই শান্তিরক্ষা কার্যক্রম আগামীতে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে। জবাবে আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল অতুল খারে শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের অসামান্য পেশাদারিত্ব এবং সাহসিকতা ও শৃঙ্খলার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি পরিবেশ সুরক্ষায় বাংলাদেশের নেওয়া উদ্ভাবনী উদ্যোগগুলোরও প্রশংসা করেন এবং হাইতিতে বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিট মোতায়েনসহ বাংলাদেশের দেওয়া সকল প্রস্তাব অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার সুস্পষ্ট আশ্বাস প্রদান করেন।