জুলাই বিপ্লবের উত্তাল দিনগুলোতে কিশোর ছাত্র আদিলের আত্মত্যাগের এক হৃদয়বিদারক কাহিনী উঠে এসেছে। দশম শ্রেণির ছাত্র আদিল মিছিলে যাওয়ার আগে মায়ের কাছে তার পরিচয়পত্র (আইডি কার্ড) চেয়েছিল এই ভেবে যে, যদি সে মারা যায় তবে যেন সহজেই তার লাশ শনাক্ত করা যায়। ছেলের এমন আশঙ্কায় মা আইডি কার্ডটি লুকিয়ে ফেললেও শেষ পর্যন্ত আদিলকে ঘরে আটকে রাখা সম্ভব হয়নি। ছাদে যাওয়ার কথা বলে সে নেমে পড়েছিল রাজপথের লড়াইয়ে, যেখানে ঘাতকের বুলেট কেড়ে নেয় তার প্রাণ।
আদিলের বাবা তার সন্তানের রক্তের বিনিময়ে এক নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছেন। তিনি সরকারের কাছে তিনটি সুনির্দিষ্ট দাবি জানিয়েছেন—শহীদদের নিয়ে কোনো রাজনৈতিক চর্চা না করা, বিচার বিভাগকে সম্পূর্ণ স্বাধীন করা এবং একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন করা। তিনি চান দেশের সাধারণ মানুষ যেন খুব সহজেই ন্যায়বিচার পায় এবং একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের অধিকার ফিরে পায়।
আদিলের মা আজও সযত্নে আগলে রেখেছেন ছেলের দেওয়া সেই শেষ ৫০০ টাকার নোটটি। যে টাকা দিয়ে ওইদিন বিকেলে মা-ছেলের একসঙ্গে গ্রিল খাওয়ার কথা ছিল, তা আর পূরণ হয়নি। পরিচয়পত্র সাথে না থাকায় আদিল গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তাকে শনাক্ত করতেও বেশ সময় লেগেছিল। এই কিশোরের আত্মত্যাগ এখন দেশের মানুষের কাছে এক অনুপ্রেরণা ও বেদনার নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 





















