গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোয় (ডিআর কঙ্গো) ইবোলা প্রাদুর্ভাবে মৃতের সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়ে গেছে, যা দেশটির জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থায় গভীর সংকট তৈরি করেছে। এমন পরিস্থিতিতে কম মজুরি ও কাজের প্রতিকূল পরিবেশের কারণে সম্মুখসারির স্বাস্থ্যকর্মীরা ধর্মঘটের হুমকি দিয়েছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, কঙ্গোর স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইবোলায় এ পর্যন্ত অন্তত ৫০৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১ হাজার ৫৬১ জন নিশ্চিতভাবে আক্রান্ত হয়েছেন। প্রতিবেশী উগান্ডায় মৃতের সংখ্যা দুই এবং নিশ্চিত আক্রান্তের সংখ্যা ২০ জনে অপরিবর্তিত রয়েছে।
ইবোলা ভাইরাস শরীরের তরল পদার্থের সংস্পর্শে ছড়ায় এবং রক্তক্ষরণজনিত জ্বর সৃষ্টি করে। গত ৫০ বছরে আফ্রিকায় এই ভাইরাসে ১৫ হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। ডিআর কঙ্গোয় সবচেয়ে মারাত্মক প্রাদুর্ভাবটি ২০১৮ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে ঘটেছিল, যেখানে প্রায় ২ হাজার ৩০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।
গত ১৫ মে ডিআর কঙ্গোয় আনুষ্ঠানিকভাবে এই ভাইরাসের ১৭তম মহামারি ঘোষণা করা হয়। এবারের প্রাদুর্ভাবটি বান্ডিবুগিও ভাইরাসের কারণে, যার কোনো প্রতিষেধক বা টিকা এখন পর্যন্ত নেই। ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, এই বিরল স্ট্রেনের দুটি চিকিৎসার ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল সম্প্রতি শুরু হয়েছে এবং ভাইরাসের প্রথম মলিকুলার ডায়াগনস্টিক পরীক্ষার জরুরি ব্যবহারের অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে। তবে কর্মকর্তারা এখনো এই প্রাদুর্ভাবের প্রথম রোগী শনাক্ত করতে পারেননি এবং আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা হাজার হাজার মানুষকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। ইতুরি প্রদেশের খনি অঞ্চল মংবওয়ালুকে এই মহামারির উৎপত্তিস্থল মনে করা হচ্ছে, যেখানে মৃত্যুর উচ্চ হার (৫০.৭ শতাংশ) প্রাথমিক ব্যবস্থাপনা ও চিকিৎসায় বড় চ্যালেঞ্জের ইঙ্গিত দেয়।
রিপোর্টারের নাম 























