পরিবেশ সুরক্ষায় পলিথিন শপিং ব্যাগ ও অন্যান্য ক্ষতিকর পলিইথাইলিন বা পলিপ্রপাইলিন সামগ্রীর উৎপাদন, আমদানি, বাজারজাতকরণ, বিক্রি এবং প্রদর্শনে ১৯৯৫ সালের ‘বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন’-এর ৬(ক) ধারা অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এই আইন প্রয়োগের দায়িত্ব বাংলাদেশ পরিবেশ অধিদপ্তরের। শুরুতে আইনটির প্রয়োগে কিছুটা শিথিলতা থাকলেও, ২০০৪ সালে ঢাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতা দেখা দিলে পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে ওঠে। সে সময় পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা পলিথিন ও প্লাস্টিক সামগ্রী দ্বারা আটকে থাকার বিষয়টি স্পষ্ট হয়।
তৎকালীন বন ও পরিবেশমন্ত্রী শাহজাহান সিরাজের নেতৃত্বে সরকার পলিথিন ব্যাগের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে সক্ষম হয়। কিন্তু ২০০৮ সালে ক্ষমতার পালাবদলের পর নজরদারির অভাবে পলিথিন শপিং ব্যাগ আবার বাজারে ফিরে আসে। যেহেতু এগুলো নিষিদ্ধ পণ্য, তাই অসাধু উৎপাদনকারী ও বিতরণকারীদের কোনো ট্রেড লাইসেন্স, ভ্যাট বা ট্যাক্স দিতে হয় না, যা তাদের জন্য ‘রেগুলেটরি রিলেটেড কস্ট’ শূন্য করে দেয়।
এর ফলে পলিথিন ব্যাগ বিনামূল্যে ব্যবহারকারীদের হাতে পৌঁছাতে শুরু করে। অতীতে পলিথিন যখন বৈধ ছিল, মানুষ টাকা দিয়ে কিনে ব্যবহার করত এবং একটি বড় অংশ পুনর্ব্যবহৃত হতো। কিন্তু ২০০৮-০৯ সালের পর থেকে বিনামূল্যে নিম্নমানের ব্যাগ পাওয়ায় পুনর্ব্যবহারের প্রবণতা কমে যায়, যা পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। বর্তমানে দেশের মাটি, নালা, খাল এবং মহাসড়কের পাশে সর্বত্রই একবার ব্যবহার্য পলিথিন ও প্লাস্টিক সামগ্রীর ব্যাপকতা দেখা যাচ্ছে, যা পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করছে। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে উচ্চ শুল্কহার আরোপ একটি কার্যকর সমাধান হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
রিপোর্টারের নাম 
























