ঢাকা ১২:২৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬

রাজনগরে স্ত্রীকে হত্যার পর মাটিচাপা: ২০ দিন পর উদ্ধার মরদেহ, স্বামীসহ আটক ৪

মৌলভীবাজারের রাজনগরে নিখোঁজের ২০ দিন পর এক গৃহবধূর মাটিচাপা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের স্বামীসহ চারজনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বামী তাঁর স্ত্রীকে হত্যার পর বাড়ির উঠানে মরদেহ পুঁতে রাখার কথা স্বীকার করেছেন।

সোমবার উপজেলার মুন্সিবাজার ইউনিয়নের করিমপুর গ্রামে আলমগীর হোসেনের বাড়ির উঠান খুঁড়ে জায়েদা বেগম (৩১) নামের ওই গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার সোনাটিকি গ্রামের আব্দুল হান্নানের মেয়ে জায়েদা বেগমের সঙ্গে করিমপুর গ্রামের আলমগীর হোসেনের বিয়ে হয়েছিল। পারিবারিক কলহের জেরে গত ১৮ জুন আলমগীর হোসেন তাঁর স্ত্রীকে হত্যার পর বাড়ির উঠানে প্রায় আট ফুট গভীর গর্তে লাশ পুঁতে রাখেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন। এরপর তিনি আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের কাছে দাবি করেন যে, তাঁর স্ত্রী বিদেশে চলে গেছেন।

জায়েদার কোনো খোঁজ না পেয়ে তাঁর বাবা গত ৩ জুলাই রাজনগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশ আলমগীরকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি লাশ পুঁতে রাখার স্থানটি দেখিয়ে দেন।

পরে জেলা পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলাম ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বিপুল শিকদারের উপস্থিতিতে বাড়ির উঠান খুঁড়ে জায়েদা বেগমের লাশ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এ ঘটনায় আলমগীর হোসেন ছাড়াও জালাল আহমদ, আমিনুল ইসলাম ও নুরুল মিয়াকে আটক করেছে পুলিশ। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, নিখোঁজের জিডির পর তদন্তে আলমগীরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বাড়ির উঠান থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে দাম্পত্য কলহের জেরে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে আরও তদন্ত চলছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গোপালগঞ্জে স্ত্রীকে পুকুরে চুবিয়ে হত্যার অভিযোগ, গা ঢাকা দিয়েছেন স্বামী

রাজনগরে স্ত্রীকে হত্যার পর মাটিচাপা: ২০ দিন পর উদ্ধার মরদেহ, স্বামীসহ আটক ৪

আপডেট সময় : ১১:২৫:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

মৌলভীবাজারের রাজনগরে নিখোঁজের ২০ দিন পর এক গৃহবধূর মাটিচাপা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের স্বামীসহ চারজনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বামী তাঁর স্ত্রীকে হত্যার পর বাড়ির উঠানে মরদেহ পুঁতে রাখার কথা স্বীকার করেছেন।

সোমবার উপজেলার মুন্সিবাজার ইউনিয়নের করিমপুর গ্রামে আলমগীর হোসেনের বাড়ির উঠান খুঁড়ে জায়েদা বেগম (৩১) নামের ওই গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার সোনাটিকি গ্রামের আব্দুল হান্নানের মেয়ে জায়েদা বেগমের সঙ্গে করিমপুর গ্রামের আলমগীর হোসেনের বিয়ে হয়েছিল। পারিবারিক কলহের জেরে গত ১৮ জুন আলমগীর হোসেন তাঁর স্ত্রীকে হত্যার পর বাড়ির উঠানে প্রায় আট ফুট গভীর গর্তে লাশ পুঁতে রাখেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন। এরপর তিনি আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের কাছে দাবি করেন যে, তাঁর স্ত্রী বিদেশে চলে গেছেন।

জায়েদার কোনো খোঁজ না পেয়ে তাঁর বাবা গত ৩ জুলাই রাজনগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশ আলমগীরকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি লাশ পুঁতে রাখার স্থানটি দেখিয়ে দেন।

পরে জেলা পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলাম ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বিপুল শিকদারের উপস্থিতিতে বাড়ির উঠান খুঁড়ে জায়েদা বেগমের লাশ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এ ঘটনায় আলমগীর হোসেন ছাড়াও জালাল আহমদ, আমিনুল ইসলাম ও নুরুল মিয়াকে আটক করেছে পুলিশ। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, নিখোঁজের জিডির পর তদন্তে আলমগীরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বাড়ির উঠান থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে দাম্পত্য কলহের জেরে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে আরও তদন্ত চলছে।