ঢাকা ১১:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬

করছাড়ের সুফল অধরা, নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা তুঙ্গে

চলতি অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে জনস্বার্থে ৬৩টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে করছাড়ের ঘোষণা দিয়েছিল সরকার। এর উদ্দেশ্য ছিল আমদানি ও বাজারজাতকরণ ব্যয় কমিয়ে খুচরা বাজারে পণ্যের দাম সহনীয় রাখা। তবে বাজেট ঘোষণার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এর কোনো সুফল ভোক্তা পর্যায়ে পৌঁছায়নি। উল্টো চাল, ভোজ্য তেলসহ বেশ কিছু নিত্যপণ্যের দাম না কমে বরং বৃদ্ধির প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়েছে।

কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর অভিযোগ, সরকারের দেওয়া রাজস্ব ছাড়ের সুবিধা ব্যবসায়ীরাই ভোগ করছেন, যার ফলে সাধারণ মানুষ এর কোনো সুফল পাচ্ছে না। ক্যাবের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি এসএম নাজের হোসাইন গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলেন, সরকারের উদ্দেশ্য ছিল কর কমানোর মাধ্যমে পণ্যের দাম কমিয়ে সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘব করা। কিন্তু বাজারে এর কোনো প্রতিফলন নেই। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাজেট ঘোষণার পর ক্যাব এটিকে স্বাগত জানালেও বাস্তবে সাধারণ মানুষ সুফল পাচ্ছে না। একদিকে বাজার তদারকি সংস্থার অভাব, অন্যদিকে অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্যে নিত্যপণ্যের বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে।

ক্যাবের তথ্য অনুযায়ী, ধান, চাল, গম, আটা, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি, মাছ, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, চিনি, ভোজ্য তেল ও বীজসহ ৬৩টি নিত্যপণ্যের উৎসে কর ৫ শতাংশ, ২ শতাংশ ও ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়েছে। এছাড়াও সব ধরনের ভোজ্য তেলের উৎসে কর ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়। এত ব্যাপক করছাড়ের পরও খুচরা বাজারে এর কোনো ইতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে না।

বাজারে পণ্যের দাম না কমার কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা দাবি করছেন, বর্তমানে বাজারে থাকা পণ্যগুলো আগের বেশি শুল্কে আমদানি করা। নতুন চালান আসার পর দাম কমতে পারে। তবে ক্যাবের পর্যবেক্ষণে ব্যবসায়ীদের এই যুক্তি ধোপে টেকে না। নাজের হোসাইন বলেন, ‘যেসব পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়ানো হয়েছে, সেগুলো কম দামে আমদানি হওয়া সত্ত্বেও ব্যবসায়ীরা দ্রুত দাম বাড়িয়ে দেন। কিন্তু করছাড়ের সুবিধা দেওয়ার পরও দাম কমানোর ক্ষেত্রে তাদের মধ্যে অনীহা দেখা যায়। এটি ব্যবসায়ীদের দ্বিমুখী নীতি।’ বাজেটে সব ধরনের আমদানি করা মসলা ও খেজুরের ওপর থেকে ৫ শতাংশ রেগুলেটরি শুল্ক প্রত্যাহার করা হলেও এর সুফলও বাজারে দৃশ্যমান নয়, বরং দারুচিনি, লবঙ্গ, জয়ত্রী, পোস্তদানা, কাজুবাদাম ও কাঠবাদামের মতো পণ্যগুলোর দাম অপরিবর্তিত রয়েছে অথবা বেড়েছে বলে ক্যাব অভিযোগ করেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

৪৭তম বিসিএস ফল ঘিরে শেকৃবিতে উত্তেজনা: টানা দ্বিতীয় দিন ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন

করছাড়ের সুফল অধরা, নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা তুঙ্গে

আপডেট সময় : ১০:০৯:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

চলতি অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে জনস্বার্থে ৬৩টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে করছাড়ের ঘোষণা দিয়েছিল সরকার। এর উদ্দেশ্য ছিল আমদানি ও বাজারজাতকরণ ব্যয় কমিয়ে খুচরা বাজারে পণ্যের দাম সহনীয় রাখা। তবে বাজেট ঘোষণার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এর কোনো সুফল ভোক্তা পর্যায়ে পৌঁছায়নি। উল্টো চাল, ভোজ্য তেলসহ বেশ কিছু নিত্যপণ্যের দাম না কমে বরং বৃদ্ধির প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়েছে।

কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর অভিযোগ, সরকারের দেওয়া রাজস্ব ছাড়ের সুবিধা ব্যবসায়ীরাই ভোগ করছেন, যার ফলে সাধারণ মানুষ এর কোনো সুফল পাচ্ছে না। ক্যাবের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি এসএম নাজের হোসাইন গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলেন, সরকারের উদ্দেশ্য ছিল কর কমানোর মাধ্যমে পণ্যের দাম কমিয়ে সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘব করা। কিন্তু বাজারে এর কোনো প্রতিফলন নেই। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাজেট ঘোষণার পর ক্যাব এটিকে স্বাগত জানালেও বাস্তবে সাধারণ মানুষ সুফল পাচ্ছে না। একদিকে বাজার তদারকি সংস্থার অভাব, অন্যদিকে অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্যে নিত্যপণ্যের বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে।

ক্যাবের তথ্য অনুযায়ী, ধান, চাল, গম, আটা, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি, মাছ, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, চিনি, ভোজ্য তেল ও বীজসহ ৬৩টি নিত্যপণ্যের উৎসে কর ৫ শতাংশ, ২ শতাংশ ও ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়েছে। এছাড়াও সব ধরনের ভোজ্য তেলের উৎসে কর ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়। এত ব্যাপক করছাড়ের পরও খুচরা বাজারে এর কোনো ইতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে না।

বাজারে পণ্যের দাম না কমার কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা দাবি করছেন, বর্তমানে বাজারে থাকা পণ্যগুলো আগের বেশি শুল্কে আমদানি করা। নতুন চালান আসার পর দাম কমতে পারে। তবে ক্যাবের পর্যবেক্ষণে ব্যবসায়ীদের এই যুক্তি ধোপে টেকে না। নাজের হোসাইন বলেন, ‘যেসব পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়ানো হয়েছে, সেগুলো কম দামে আমদানি হওয়া সত্ত্বেও ব্যবসায়ীরা দ্রুত দাম বাড়িয়ে দেন। কিন্তু করছাড়ের সুবিধা দেওয়ার পরও দাম কমানোর ক্ষেত্রে তাদের মধ্যে অনীহা দেখা যায়। এটি ব্যবসায়ীদের দ্বিমুখী নীতি।’ বাজেটে সব ধরনের আমদানি করা মসলা ও খেজুরের ওপর থেকে ৫ শতাংশ রেগুলেটরি শুল্ক প্রত্যাহার করা হলেও এর সুফলও বাজারে দৃশ্যমান নয়, বরং দারুচিনি, লবঙ্গ, জয়ত্রী, পোস্তদানা, কাজুবাদাম ও কাঠবাদামের মতো পণ্যগুলোর দাম অপরিবর্তিত রয়েছে অথবা বেড়েছে বলে ক্যাব অভিযোগ করেছে।