ঢাকা ১২:২৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬

ব্রাজিলের বিশ্বকাপ স্বপ্নভঙ্গ: ব্যর্থতার দায় কার? কাঠগড়ায় কোচ আনচেলত্তি

শেষ ষোলোর ম্যাচে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে আরও একবার বিশ্বকাপ মিশন থেকে বিদায় নিয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। নেইমার জুনিয়রদের হেক্সা জয়ের স্বপ্নভঙ্গের পর ফুটবলবিশ্বজুড়ে এখন একটাই প্রশ্ন—এই ব্যর্থতার দায় কার? ব্রাজিলের সাবেক তারকা ও ফুটবল বোদ্ধারা এই হারের জন্য সরাসরি কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছেন দলের ইতালিয়ান কোচ কার্লো আনচেলত্তি এবং ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনকে (সিবিএফ)।

ব্রাজিলের সাবেক ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার ও ২০১০ বিশ্বকাপের তারকা ফেলিপে মেলো ‘সেলেকাও স্পোর টিভি’র এক অনুষ্ঠানে এই পরাজয়ের জন্য সরাসরি আনচেলত্তিকে দায়ী করেছেন। তার মতে, কোচের ভুল সিদ্ধান্তের খেসারত দিতে হয়েছে দলকে। মেলো বলেন, ‘কোচের ঘাড়ে দোষ চাপানো খুব সহজ। কিন্তু কোচকেই দোষ দিতে হবে। ইতিহাসে অন্যতম সেরা কোচকে নিয়ে এসেছি আমরা। সবার আগে দোষটা তারই।’

মেলোর আপত্তির মূল জায়গা ছিল দলের সেরা তারকা নেইমারকে শুরুর একাদশে না রাখা। চোটের কারণে এই ম্যাচে নিয়মিত মিডফিল্ডার লুকাস পাকেতা অনুপস্থিত ছিলেন। আনচেলত্তি তার জায়গায় গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লিকে নামালেও নেইমারকে বেঞ্চে বসিয়ে রাখেন। ম্যাচের ১৪ মিনিটে ব্রাজিল একটি পেনাল্টি পেলেও ব্রুনো গিমারাইস তা থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন। অথচ ম্যাচের ৬৭ মিনিটে বদলি হিসেবে নেমে শেষ দিকে পেনাল্টি থেকে ব্রাজিলের একমাত্র গোলটি করেন নেইমার খোদ। মেলোর দাবি, নেইমার শুরুতে মাঠে থাকলে পেনাল্টি মিস হতো না এবং ম্যাচের গল্প অন্যরকম হতে পারত। খোদ আনচেলত্তিও ম্যাচ শেষে স্বীকার করেছেন যে, পেনাল্টি নেওয়ায় নেইমারই দলে সবচেয়ে দক্ষ।

১৯৯৪ বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি তারকা রোমারিও সংবাদমাধ্যম ‘ও গ্লোবো’তে লেখা তার কলামে আনচেলত্তির ম্যাচ পরিচালনার কৌশল এবং সিবিএফের দূরদর্শিতা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন। দ্বিতীয়ার্ধে ব্রুনো গিমারাইসকে মাঠ থেকে তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্তটি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেননি রোমারিও, ‘সত্যি বলতে, তার কিছু পরিবর্তন আমি বুঝতে পারিনি, যেমন ব্রুনো গিমারাইসকে মাঠ থেকে তুলে নেওয়া। জানি না সে কোনো চোট পেয়েছিল কিংবা পেনাল্টি মিস করার কারণে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল কি না। বাস্তবতা হলো, দ্বিতীয়ার্ধে এই পরিবর্তনের পর এমনিতেই ধুঁকতে থাকা দলটির খেলার ধার আরও কমে যায়। এতে প্রতিপক্ষ মাঠের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় এবং হলান্ড অবাধ সুযোগ পেয়ে যায়।’

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গোপালগঞ্জে স্ত্রীকে পুকুরে চুবিয়ে হত্যার অভিযোগ, গা ঢাকা দিয়েছেন স্বামী

ব্রাজিলের বিশ্বকাপ স্বপ্নভঙ্গ: ব্যর্থতার দায় কার? কাঠগড়ায় কোচ আনচেলত্তি

আপডেট সময় : ১১:২৫:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

শেষ ষোলোর ম্যাচে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে আরও একবার বিশ্বকাপ মিশন থেকে বিদায় নিয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। নেইমার জুনিয়রদের হেক্সা জয়ের স্বপ্নভঙ্গের পর ফুটবলবিশ্বজুড়ে এখন একটাই প্রশ্ন—এই ব্যর্থতার দায় কার? ব্রাজিলের সাবেক তারকা ও ফুটবল বোদ্ধারা এই হারের জন্য সরাসরি কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছেন দলের ইতালিয়ান কোচ কার্লো আনচেলত্তি এবং ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনকে (সিবিএফ)।

ব্রাজিলের সাবেক ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার ও ২০১০ বিশ্বকাপের তারকা ফেলিপে মেলো ‘সেলেকাও স্পোর টিভি’র এক অনুষ্ঠানে এই পরাজয়ের জন্য সরাসরি আনচেলত্তিকে দায়ী করেছেন। তার মতে, কোচের ভুল সিদ্ধান্তের খেসারত দিতে হয়েছে দলকে। মেলো বলেন, ‘কোচের ঘাড়ে দোষ চাপানো খুব সহজ। কিন্তু কোচকেই দোষ দিতে হবে। ইতিহাসে অন্যতম সেরা কোচকে নিয়ে এসেছি আমরা। সবার আগে দোষটা তারই।’

মেলোর আপত্তির মূল জায়গা ছিল দলের সেরা তারকা নেইমারকে শুরুর একাদশে না রাখা। চোটের কারণে এই ম্যাচে নিয়মিত মিডফিল্ডার লুকাস পাকেতা অনুপস্থিত ছিলেন। আনচেলত্তি তার জায়গায় গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লিকে নামালেও নেইমারকে বেঞ্চে বসিয়ে রাখেন। ম্যাচের ১৪ মিনিটে ব্রাজিল একটি পেনাল্টি পেলেও ব্রুনো গিমারাইস তা থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন। অথচ ম্যাচের ৬৭ মিনিটে বদলি হিসেবে নেমে শেষ দিকে পেনাল্টি থেকে ব্রাজিলের একমাত্র গোলটি করেন নেইমার খোদ। মেলোর দাবি, নেইমার শুরুতে মাঠে থাকলে পেনাল্টি মিস হতো না এবং ম্যাচের গল্প অন্যরকম হতে পারত। খোদ আনচেলত্তিও ম্যাচ শেষে স্বীকার করেছেন যে, পেনাল্টি নেওয়ায় নেইমারই দলে সবচেয়ে দক্ষ।

১৯৯৪ বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি তারকা রোমারিও সংবাদমাধ্যম ‘ও গ্লোবো’তে লেখা তার কলামে আনচেলত্তির ম্যাচ পরিচালনার কৌশল এবং সিবিএফের দূরদর্শিতা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন। দ্বিতীয়ার্ধে ব্রুনো গিমারাইসকে মাঠ থেকে তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্তটি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেননি রোমারিও, ‘সত্যি বলতে, তার কিছু পরিবর্তন আমি বুঝতে পারিনি, যেমন ব্রুনো গিমারাইসকে মাঠ থেকে তুলে নেওয়া। জানি না সে কোনো চোট পেয়েছিল কিংবা পেনাল্টি মিস করার কারণে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল কি না। বাস্তবতা হলো, দ্বিতীয়ার্ধে এই পরিবর্তনের পর এমনিতেই ধুঁকতে থাকা দলটির খেলার ধার আরও কমে যায়। এতে প্রতিপক্ষ মাঠের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় এবং হলান্ড অবাধ সুযোগ পেয়ে যায়।’