চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে আট বছর বয়সী শিশু জান্নাতুল নাঈম ইরাকে ধর্ষণের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে শ্বাসনালি কেটে হত্যার বহুল আলোচিত মামলার রায় আগামীকাল মঙ্গলবার ঘোষণা করা হবে। চট্টগ্রাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বিচারক জান্নাতুল ফেরদৌস আলেয়া এ রায় ঘোষণা করবেন। মামলার একমাত্র আসামি নিহত ইরার প্রতিবেশী বাবু শেখ (৫০) বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ১ মার্চ সীতাকুণ্ডের চন্দ্রনাথ পাহাড় এলাকায় এ নৃশংস ঘটনা ঘটে। আসামি বাবু শেখ শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে ধারালো ছুরি দিয়ে জবাই করে মৃত ভেবে পাহাড়ের খাদে ফেলে পালিয়ে যায়। কিন্তু গুরুতর আহত ও রক্তাক্ত অবস্থায় ইরা অলৌকিকভাবে পাহাড়ের ঢাল বেয়ে ওপরে উঠে এসে বাঁচার আকুতি জানায়। পরে সড়ক সংস্কার কাজে নিয়োজিত শ্রমিক ও স্থানীয় সিএনজি চালকেরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইরা নিজের ওপর সংঘটিত পাশবিক নির্যাতনের বর্ণনা দেয়। দীর্ঘ দুই দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে ৩ মার্চ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ১৫ জুন অভিযোগপত্র দাখিল করেন এবং ১৮ জুন আসামির বিরুদ্ধে অপহরণ, ধর্ষণের চেষ্টা ও হত্যার অভিযোগে অভিযোগ গঠন করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষ ১৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য উপস্থাপন করেছে।
বাদীপক্ষের আইনজীবীরা জানান, মামলাটি স্বরাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয়সহ সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে নিয়মিত তদারকি করা হলেও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগ থেকে সময়মতো সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। তাদের দাবি, ইরার ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেতে দুই মাসেরও বেশি সময় লেগেছে, যা তদন্ত প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করেছে।
রিপোর্টারের নাম 























