ঢাকা ১১:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬

বিতর্কের মুখে প্রাথমিকের পাঠাগারে জিয়া-খালেদা ও তারেকের বই রাখার নির্দেশনা বাতিল

তীব্র বিতর্কের মুখে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠাগারে ‘প্রেসিডেন্ট জিয়া: রাজনৈতিক জীবনী’, ‘বেগম খালেদা জিয়া: জীবন ও সংগ্রাম’ এবং ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ শীর্ষক তিনটি বই সংরক্ষণের নির্দেশনা বাতিল করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। সোমবার মন্ত্রণালয়ের উপসচিব রোশন আরা পলি স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে পূর্বের এই নির্দেশনাটি বাতিল করা হয়।

মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, শিক্ষামন্ত্রীর অগোচরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের ইচ্ছায় গত ৩ জুন এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে বিভিন্ন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও তীব্র বিতর্ক শুরু হলে অবশেষে সোমবার নির্দেশনাটি বাতিল করা হয়। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী সোমবার সন্ধ্যায় মন্ত্রণালয়ের এই বাতিল আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জানা গেছে, গত ৩ জুন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে পঠনের জন্য উক্ত বইগুলোর অন্তত এক সেট সংগ্রহ নিশ্চিত করতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরকে (ডিপিই) নির্দেশনাপত্র দেওয়া হয়েছিল। ডিপিই-ও তা বাস্তবায়নের জন্য মাঠপর্যায়ে চিঠি পাঠায়। বইগুলোর মধ্যে দুটি প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জীবনভিত্তিক এবং অন্যটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের লেখা, যা জাতীয়তাবাদী প্রকাশনা সংস্থা থেকে প্রকাশিত।

সরকারি বিদ্যালয়ে এভাবে সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের বই বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নিয়ে শিক্ষাবিদদের মাঝে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়। বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, “স্কুল পাঠাগারে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ঘরানার নয়, বরং দেশের সব গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় নেতার বই থাকা উচিত। নতুন প্রজন্মকে সঠিক ইতিহাস জানানোর জন্য ভারসাম্য থাকা জরুরি।” তিনি আরও বলেন, জিয়াউর রহমানের অবদান ও ইতিহাস শিক্ষার্থীরা জানতে পারে, তা নিয়ে আপত্তি নেই, তবে মওলানা ভাসানী, জেনারেল ওসমানীর মতো অন্যান্য জাতীয় নেতাদের বইও থাকা উচিত।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

৪৭তম বিসিএস ফল ঘিরে শেকৃবিতে উত্তেজনা: টানা দ্বিতীয় দিন ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন

বিতর্কের মুখে প্রাথমিকের পাঠাগারে জিয়া-খালেদা ও তারেকের বই রাখার নির্দেশনা বাতিল

আপডেট সময় : ১০:১২:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

তীব্র বিতর্কের মুখে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠাগারে ‘প্রেসিডেন্ট জিয়া: রাজনৈতিক জীবনী’, ‘বেগম খালেদা জিয়া: জীবন ও সংগ্রাম’ এবং ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ শীর্ষক তিনটি বই সংরক্ষণের নির্দেশনা বাতিল করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। সোমবার মন্ত্রণালয়ের উপসচিব রোশন আরা পলি স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে পূর্বের এই নির্দেশনাটি বাতিল করা হয়।

মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, শিক্ষামন্ত্রীর অগোচরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের ইচ্ছায় গত ৩ জুন এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে বিভিন্ন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও তীব্র বিতর্ক শুরু হলে অবশেষে সোমবার নির্দেশনাটি বাতিল করা হয়। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী সোমবার সন্ধ্যায় মন্ত্রণালয়ের এই বাতিল আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জানা গেছে, গত ৩ জুন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে পঠনের জন্য উক্ত বইগুলোর অন্তত এক সেট সংগ্রহ নিশ্চিত করতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরকে (ডিপিই) নির্দেশনাপত্র দেওয়া হয়েছিল। ডিপিই-ও তা বাস্তবায়নের জন্য মাঠপর্যায়ে চিঠি পাঠায়। বইগুলোর মধ্যে দুটি প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জীবনভিত্তিক এবং অন্যটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের লেখা, যা জাতীয়তাবাদী প্রকাশনা সংস্থা থেকে প্রকাশিত।

সরকারি বিদ্যালয়ে এভাবে সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের বই বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নিয়ে শিক্ষাবিদদের মাঝে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়। বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, “স্কুল পাঠাগারে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ঘরানার নয়, বরং দেশের সব গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় নেতার বই থাকা উচিত। নতুন প্রজন্মকে সঠিক ইতিহাস জানানোর জন্য ভারসাম্য থাকা জরুরি।” তিনি আরও বলেন, জিয়াউর রহমানের অবদান ও ইতিহাস শিক্ষার্থীরা জানতে পারে, তা নিয়ে আপত্তি নেই, তবে মওলানা ভাসানী, জেনারেল ওসমানীর মতো অন্যান্য জাতীয় নেতাদের বইও থাকা উচিত।