কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে আলোচিত প্রবাসী শফিকুল ইসলাম হত্যা মামলার আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং নিহতের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন এলাকাবাসী। সোমবার বিকেলে উপজেলার লোহাজুরী ইউনিয়নের উত্তর ঝিড়ারপাড় চৌকিদার বাড়ির মোড়ে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে স্থানীয় শতাধিক নারী-পুরুষ অংশ নেন, যেখানে বক্তারা ন্যায়বিচার দাবি করেন।
মানববন্ধনে লোহাজুরী ইউপি সদস্য জসিম উদ্দিন, নিহতের বাবা আব্দুল কাদির, স্ত্রী খালেদা আক্তার, মো. শফিক, খালাতো ভাই খোকন মিয়া এবং মামলার বাদী বেগমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বক্তব্য রাখেন। তারা বলেন, শফিকুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে নিহতের পরিবারের সদস্যদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিও জানান তারা।
উল্লেখ্য, গত ২৭ জুন শনিবার সন্ধ্যার পর প্রবাসীফেরত যুবক শফিকুল ইসলাম তার বাড়ি থেকে রসুলপুর বাজারে যাওয়ার পথে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে নিহত হন। পথচারীরা ঈদগাহ মাঠ সংলগ্ন সড়কের পাশের একটি ডোবায় তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে উদ্ধার করে বাজিতপুর জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত শফিকুল ইসলাম লোহাজুরী ইউনিয়নের দক্ষিণ ঝিড়ারপার গ্রামের দুলা মিয়ার ছেলে। তিনি ৭ বছর প্রবাস জীবন শেষে বাড়িতে কৃষি পেশায় নিয়োজিত ছিলেন।
নিহতের স্ত্রী রিমা আক্তার মানববন্ধনে বলেন, ‘বাড়ির জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আমার স্বামীকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। এখন আসামিরা আমাকে এবং আমার ৪ বছর ও ১ বছর বয়সী দুই সন্তানকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে। আমি আমার স্বামী হত্যার বিচার এবং আমার সন্তানদের নিরাপত্তা চাই।’ মামলার বাদী ও নিহত শফিকুল ইসলামের বড় বোন বেগম অভিযোগ করে বলেন, কটিয়াদী মডেল থানার ওসি তাদের প্রস্তুত করা এজাহার গ্রহণ না করে নিজের মতো করে অন্য একটি এজাহার প্রস্তুত করিয়েছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, তাদের চিহ্নিত আসামিদের বাদ দিয়ে ওসির ইচ্ছামতো অন্যদের আসামি করা হয়েছে এবং প্রকৃত আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে ও তাদের ছোট ছোট সন্তানদের হত্যার হুমকি দিচ্ছে। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন।
রিপোর্টারের নাম 























