মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার সাবাজপুর টি কোম্পানি লিমিটেডের সাবাজপুর চা-বাগানে বন বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই গত প্রায় দুই মাস ধরে ব্যাপক হারে গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, দিনের পর দিন প্রকাশ্যে গাছ কাটা হলেও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অবশেষে উপজেলা প্রশাসনের অভিযানে প্রায় ৭ শতাধিক ঘনফুট কাঠ জব্দ হওয়ার পর বিষয়টি জনসম্মুখে আসে। বর্তমানে বন বিভাগ কাটা গাছের মাপযোগ করছে।
একাধিক নির্ভরযোগ্য স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, গত দুই মাসে চা-বাগানের দক্ষিণাঞ্চলের বৈকুণ্ঠনগর, বিপিন টিলা, আন্ডার টিলা এবং আশপাশের বিভিন্ন টিলা ও পাহাড়ি এলাকায় শত শত গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে যে, পাহাড়ি ঢালে থাকা বড় বড় গাছ হাতির সাহায্যে নিচে নামিয়ে ট্রাকে করে বিয়ানীবাজারের কাঠ ব্যবসায়ী মিজানসহ স্থানীয় কয়েকজনের কাছে বিক্রি করা হয়েছে।
সূত্রগুলো আরও জানায়, কাটা গাছের কাঠ প্রথমে বাগানের কার্যালয় ও কারখানার আশপাশে মজুত রাখা হতো। এরপর ভোরবেলা লোকচক্ষুর আড়ালে সেগুলো বিভিন্ন স-মিলে পাঠানো হতো। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি লিজের জমিতে থাকা এসব গাছ কেটে বিক্রির পেছনে একটি প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়া রয়েছে। দিনের পর দিন এত বড় পরিসরে গাছ কাটার ঘটনা কীভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজর এড়িয়ে গেল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, বন বিভাগের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের নীরবতা নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে এবং কিছু কর্মকর্তার সঙ্গে গোপন সমঝোতার কারণেই দীর্ঘদিন এ কার্যক্রম চলেছে।
গত শনিবার বিকেলে বড়লেখা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাইমা নাদিয়া বন বিভাগের কর্মকর্তাদের নিয়ে চা-বাগান পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি বাগানের বিভিন্ন স্থানে বিপুল পরিমাণ কাটা গাছ পড়ে থাকতে দেখেন। বাগান কর্তৃপক্ষ গাছ কাটার পক্ষে বন বিভাগ, বাংলাদেশ চা বোর্ড কিংবা অন্য কোনো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বৈধ অনুমোদনের কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। পরে সহকারী কমিশনারের নির্দেশে বড়লেখা বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা বাগানের কার্যালয়সংলগ্ন এলাকা থেকে প্রায় ৫০০ ঘনফুট কাঠ জব্দ করেন। একইসঙ্গে বাগানের বিভিন্ন টিলায় পড়ে থাকা কাটা গাছের বিষয়েও তদন্ত চলছে।
রিপোর্টারের নাম 
























