ঢাকা ১২:২০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬

বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফি অধরাই রয়ে গেল নেইমারের

ফুটবল ইতিহাসে এমন কিছু কিংবদন্তি আছেন, যারা ট্রফি জিতে অমরত্ব লাভ করেন। আবার এমনও কেউ কেউ আছেন, যারা ট্রফি ছাড়াই কোটি মানুষের হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকেন। নেইমার দ্য সিলভা জুনিয়রের গল্পটি ঠিক দ্বিতীয়টির মতো, তবে তাতে মিশে আছে এক গভীর বিষাদ। ফুটবলের সবচেয়ে উজ্জ্বল মঞ্চ, ‘গ্রেটেস্ট শো অন দ্য আর্থ’ খ্যাত বিশ্বকাপে তিনি ছিলেন ব্রাজিলের আশা, স্বপ্ন, আনন্দ এবং হতাশার প্রতিচ্ছবি। অথচ ১৬টি বছর ধরে কাঙ্ক্ষিত সোনালি ট্রফিটি তাকে ছুঁয়ে দেখার সুযোগ দেয়নি, অধরাই রয়ে গেছে তার বিশ্বকাপ স্বপ্ন।

একসময় মনে করা হয়েছিল, ব্রাজিলের ফুটবলে পেলের উত্তরসূরি হয়ে এসেছেন তিনি। সান্তোসে কৈশোরেই জাদু দেখানো এই ফুটবলার যখন ২০১৪ বিশ্বকাপে নিজের দেশের মাটিতে নামলেন, পুরো ব্রাজিল যেন তাকে ঘিরেই নিজেদের ভবিষ্যৎ রচনা করতে শুরু করেছিল। সেই বিশ্বকাপ ছিল নেইমারের বিশ্বমঞ্চে প্রথম বড় পরীক্ষা। গ্রুপ পর্বেই চার গোল করে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, তিনিই ব্রাজিলের আক্রমণের প্রাণভোমরা। ক্যামেরুনের বিপক্ষে জোড়া গোল, ক্রোয়েশিয়া ও মেক্সিকোর বিপক্ষে তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্স তাকে পাদপ্রদীপের আলোয় নিয়ে আসে।

কিন্তু কোয়ার্টার ফাইনালে কলম্বিয়ার হুয়ান কামিলো জুনিগার হাঁটুর আঘাতে তার কোমরের একটি কশেরুকা ভেঙে যায়। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে থাকা নেইমারের চোখের পানি যেন হয়ে উঠেছিল পুরো ব্রাজিলের কান্না। এই ইনজুরি তার ক্যারিয়ারের গতিপথ বদলে দেয়। তার অনুপস্থিতিতেই জার্মানির কাছে সেমিফাইনালে সেই অবিশ্বাস্য ৭-১ গোলের লজ্জাজনক হার যেন শুধু একটি ম্যাচের পরাজয় ছিল না; সেটি ছিল একটি প্রজন্মের স্বপ্নভঙ্গও।

চার বছর পর রাশিয়া বিশ্বকাপে ইনজুরি কাটিয়ে ফিরেছিলেন নেইমার। এর আগেও পায়ের চোটের কারণে মৌসুমের বড় একটি অংশ মিস করেছিলেন। অনেকেই সন্দেহ করেছিলেন, আগের নেইমারকে আর দেখা যাবে কি না। তবে তিনি ফিরেছিলেন স্বরূপে। কোস্টারিকার বিপক্ষে কান্নাভেজা গোল, সার্বিয়ার বিপক্ষে আরেকটি গোল—সব মিলিয়ে তিনি দুটি গোল ও দুটি অ্যাসিস্ট করেছিলেন। কিন্তু কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের বিপক্ষে আবারও থমকে যায় ব্রাজিলের বিশ্বকাপ যাত্রা।

২০২২ কাতার বিশ্বকাপ ছিল সম্ভবত নেইমারের সবচেয়ে পরিণত সংস্করণ। তিনি দলের জন্য খেলছিলেন, সুযোগ তৈরি করছিলেন এবং প্রয়োজনে পিছিয়ে এসে বল নিচ্ছিলেন। দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে গোল করার পর ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে এমন এক গোল করেন, যা অনেকেই তার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা বলে মনে করেন। সেই গোলের মাধ্যমে তিনি পেলের ব্রাজিলের হয়ে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করেছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে ক্রোয়েশিয়ার কাছে হেরে বিদায় নিতে হয় ব্রাজিলকে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গোপালগঞ্জে স্ত্রীকে পুকুরে চুবিয়ে হত্যার অভিযোগ, গা ঢাকা দিয়েছেন স্বামী

বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফি অধরাই রয়ে গেল নেইমারের

আপডেট সময় : ১০:০৮:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

ফুটবল ইতিহাসে এমন কিছু কিংবদন্তি আছেন, যারা ট্রফি জিতে অমরত্ব লাভ করেন। আবার এমনও কেউ কেউ আছেন, যারা ট্রফি ছাড়াই কোটি মানুষের হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকেন। নেইমার দ্য সিলভা জুনিয়রের গল্পটি ঠিক দ্বিতীয়টির মতো, তবে তাতে মিশে আছে এক গভীর বিষাদ। ফুটবলের সবচেয়ে উজ্জ্বল মঞ্চ, ‘গ্রেটেস্ট শো অন দ্য আর্থ’ খ্যাত বিশ্বকাপে তিনি ছিলেন ব্রাজিলের আশা, স্বপ্ন, আনন্দ এবং হতাশার প্রতিচ্ছবি। অথচ ১৬টি বছর ধরে কাঙ্ক্ষিত সোনালি ট্রফিটি তাকে ছুঁয়ে দেখার সুযোগ দেয়নি, অধরাই রয়ে গেছে তার বিশ্বকাপ স্বপ্ন।

একসময় মনে করা হয়েছিল, ব্রাজিলের ফুটবলে পেলের উত্তরসূরি হয়ে এসেছেন তিনি। সান্তোসে কৈশোরেই জাদু দেখানো এই ফুটবলার যখন ২০১৪ বিশ্বকাপে নিজের দেশের মাটিতে নামলেন, পুরো ব্রাজিল যেন তাকে ঘিরেই নিজেদের ভবিষ্যৎ রচনা করতে শুরু করেছিল। সেই বিশ্বকাপ ছিল নেইমারের বিশ্বমঞ্চে প্রথম বড় পরীক্ষা। গ্রুপ পর্বেই চার গোল করে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, তিনিই ব্রাজিলের আক্রমণের প্রাণভোমরা। ক্যামেরুনের বিপক্ষে জোড়া গোল, ক্রোয়েশিয়া ও মেক্সিকোর বিপক্ষে তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্স তাকে পাদপ্রদীপের আলোয় নিয়ে আসে।

কিন্তু কোয়ার্টার ফাইনালে কলম্বিয়ার হুয়ান কামিলো জুনিগার হাঁটুর আঘাতে তার কোমরের একটি কশেরুকা ভেঙে যায়। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে থাকা নেইমারের চোখের পানি যেন হয়ে উঠেছিল পুরো ব্রাজিলের কান্না। এই ইনজুরি তার ক্যারিয়ারের গতিপথ বদলে দেয়। তার অনুপস্থিতিতেই জার্মানির কাছে সেমিফাইনালে সেই অবিশ্বাস্য ৭-১ গোলের লজ্জাজনক হার যেন শুধু একটি ম্যাচের পরাজয় ছিল না; সেটি ছিল একটি প্রজন্মের স্বপ্নভঙ্গও।

চার বছর পর রাশিয়া বিশ্বকাপে ইনজুরি কাটিয়ে ফিরেছিলেন নেইমার। এর আগেও পায়ের চোটের কারণে মৌসুমের বড় একটি অংশ মিস করেছিলেন। অনেকেই সন্দেহ করেছিলেন, আগের নেইমারকে আর দেখা যাবে কি না। তবে তিনি ফিরেছিলেন স্বরূপে। কোস্টারিকার বিপক্ষে কান্নাভেজা গোল, সার্বিয়ার বিপক্ষে আরেকটি গোল—সব মিলিয়ে তিনি দুটি গোল ও দুটি অ্যাসিস্ট করেছিলেন। কিন্তু কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের বিপক্ষে আবারও থমকে যায় ব্রাজিলের বিশ্বকাপ যাত্রা।

২০২২ কাতার বিশ্বকাপ ছিল সম্ভবত নেইমারের সবচেয়ে পরিণত সংস্করণ। তিনি দলের জন্য খেলছিলেন, সুযোগ তৈরি করছিলেন এবং প্রয়োজনে পিছিয়ে এসে বল নিচ্ছিলেন। দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে গোল করার পর ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে এমন এক গোল করেন, যা অনেকেই তার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা বলে মনে করেন। সেই গোলের মাধ্যমে তিনি পেলের ব্রাজিলের হয়ে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করেছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে ক্রোয়েশিয়ার কাছে হেরে বিদায় নিতে হয় ব্রাজিলকে।