ঢাকা ১০:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬

বিশ্বকাপে নরওয়ের রূপকথা: ব্রাজিলকে হারিয়ে সোলবাক্কেনের ঐতিহাসিক অর্জন

পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে নরওয়ে। রোমাঞ্চকর শেষ ষোলোর এই লড়াইয়ে স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশটি ২-১ গোলে জয়লাভ করে ফুটবল ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় রচনা করেছে। এই ঐতিহাসিক জয়ের পর নরওয়ের খেলোয়াড়দের উল্লাসে মাঠ মুখরিত হয়, আর গ্যালারিতে দর্শকদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো।

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে নরওয়ের কোচ স্টালে সোলবাক্কেন এই জয়কে তার দেশের ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে গৌরবময় দিন হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, ‘এটি নরওয়ের ফুটবল ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ দিন। আমি মনে করি, প্রতিটি নরওয়েজিয়ান এই জয় উদযাপন করতে পারে।’

সোলবাক্কেনের মতে, এই জয়ের মূল কারণ কোনো একক খেলোয়াড় নয়, বরং পুরো দলের অটুট ঐক্য। তিনি বলেন, ‘এটি অসাধারণ একটি দল। তারা একসঙ্গে থাকতে ভালোবাসে, দারুণভাবে অনুশীলন করে, একে অপরকে সাহায্য করে এবং একে অপরকে রক্ষা করে। আমাদের একটি শক্তিশালী সংস্কৃতি রয়েছে। আমরা প্রত্যেককে নিজের মতো করে থাকতে এবং নিজের কথা বলতে উৎসাহ দিই। ভালো সময় হোক কিংবা কঠিন সময় – এই সংস্কৃতিই আমাদের শক্তি।

নরওয়ের বিখ্যাত ‘রোয়িং’ উদযাপন, যেখানে খেলোয়াড়রা গোলের পর একসঙ্গে বৈঠা বাইছেন এমন ভঙ্গিতে উদযাপন করেন, তা কেবল একটি উদযাপন নয়, বরং পুরো জাতির ঐক্যের প্রতীক বলে মন্তব্য করেন কোচ। তিনি বলেন, ‘আজ শুধু আমাদের দল নয়, পুরো দেশ একসঙ্গে বৈঠা বাইছে। এই অনুভূতিটা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।’

ব্রাজিলের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে ম্যাচের বড় একটা সময় বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা নরওয়ের একটি পূর্বপরিকল্পিত কৌশল ছিল বলে জানান সোলবাক্কেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের পরিকল্পনা ছিল বল নিজেদের কাছে রাখা, তাদের ব্যস্ত রাখা এবং ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া। খেলোয়াড়রা পরিকল্পনাটি দারুণভাবে বাস্তবায়ন করেছে। আমি মনে করি, আমরা আমাদের সেরা ফুটবলটাই খেলেছি।’

তবে, সামনে অপেক্ষা করছে আরো কঠিন পরীক্ষা। কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ে মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড অথবা মেক্সিকোর। কিন্তু সোলবাক্কেন আপাতত সেই লড়াই নিয়ে ভাবতে রাজি নন, বরং এই ঐতিহাসিক জয় উদযাপনে মগ্ন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রাম বোর্ডে এইচএসসির ইংরেজি পরীক্ষায় অনুপস্থিত ২ সহস্রাধিক শিক্ষার্থী, বহিষ্কার ৩

বিশ্বকাপে নরওয়ের রূপকথা: ব্রাজিলকে হারিয়ে সোলবাক্কেনের ঐতিহাসিক অর্জন

আপডেট সময় : ০৮:৫৮:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে নরওয়ে। রোমাঞ্চকর শেষ ষোলোর এই লড়াইয়ে স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশটি ২-১ গোলে জয়লাভ করে ফুটবল ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় রচনা করেছে। এই ঐতিহাসিক জয়ের পর নরওয়ের খেলোয়াড়দের উল্লাসে মাঠ মুখরিত হয়, আর গ্যালারিতে দর্শকদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো।

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে নরওয়ের কোচ স্টালে সোলবাক্কেন এই জয়কে তার দেশের ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে গৌরবময় দিন হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, ‘এটি নরওয়ের ফুটবল ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ দিন। আমি মনে করি, প্রতিটি নরওয়েজিয়ান এই জয় উদযাপন করতে পারে।’

সোলবাক্কেনের মতে, এই জয়ের মূল কারণ কোনো একক খেলোয়াড় নয়, বরং পুরো দলের অটুট ঐক্য। তিনি বলেন, ‘এটি অসাধারণ একটি দল। তারা একসঙ্গে থাকতে ভালোবাসে, দারুণভাবে অনুশীলন করে, একে অপরকে সাহায্য করে এবং একে অপরকে রক্ষা করে। আমাদের একটি শক্তিশালী সংস্কৃতি রয়েছে। আমরা প্রত্যেককে নিজের মতো করে থাকতে এবং নিজের কথা বলতে উৎসাহ দিই। ভালো সময় হোক কিংবা কঠিন সময় – এই সংস্কৃতিই আমাদের শক্তি।

নরওয়ের বিখ্যাত ‘রোয়িং’ উদযাপন, যেখানে খেলোয়াড়রা গোলের পর একসঙ্গে বৈঠা বাইছেন এমন ভঙ্গিতে উদযাপন করেন, তা কেবল একটি উদযাপন নয়, বরং পুরো জাতির ঐক্যের প্রতীক বলে মন্তব্য করেন কোচ। তিনি বলেন, ‘আজ শুধু আমাদের দল নয়, পুরো দেশ একসঙ্গে বৈঠা বাইছে। এই অনুভূতিটা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।’

ব্রাজিলের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে ম্যাচের বড় একটা সময় বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা নরওয়ের একটি পূর্বপরিকল্পিত কৌশল ছিল বলে জানান সোলবাক্কেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের পরিকল্পনা ছিল বল নিজেদের কাছে রাখা, তাদের ব্যস্ত রাখা এবং ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া। খেলোয়াড়রা পরিকল্পনাটি দারুণভাবে বাস্তবায়ন করেছে। আমি মনে করি, আমরা আমাদের সেরা ফুটবলটাই খেলেছি।’

তবে, সামনে অপেক্ষা করছে আরো কঠিন পরীক্ষা। কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ে মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড অথবা মেক্সিকোর। কিন্তু সোলবাক্কেন আপাতত সেই লড়াই নিয়ে ভাবতে রাজি নন, বরং এই ঐতিহাসিক জয় উদযাপনে মগ্ন।