মার্কিন স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগানের এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা আকস্মিকভাবে স্থগিত করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে লাল কার্ড দেখার পর এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছিল। আগামীকালের বেলজিয়ামের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এটি বড় স্বস্তি নিয়ে এলেও, ফিফার এই সিদ্ধান্ত তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে। ট্রাম্প নিজেই নিশ্চিত করেছেন যে, বালোগানের নিষেধাজ্ঞা পুনর্বিবেচনার জন্য তিনি ফিফাকে অনুরোধ করেছিলেন। তার এই হস্তক্ষেপে ফিফার সিদ্ধান্তে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় বইছে আন্তর্জাতিক ফুটবল মহলে।
ইউরোপিয়ান ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা উয়েফা ফিফার এই পদক্ষেপের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। উয়েফা এক বিবৃতিতে একে ‘নজিরবিহীন, অবিশ্বাস্য ও অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত’ বলে আখ্যায়িত করেছে। তাদের মতে, লাল কার্ড পাওয়ার পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার কথা ছিল, যা এক বছরের জন্য স্থগিত করার সিদ্ধান্ত সব সীমা অতিক্রম করেছে। নরওয়ের কোচ সালবাক্যানও ফিফার কড়া সমালোচনা করে এই সিদ্ধান্তকে ‘খুবই বড় ভুল’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
সাধারণত বিশ্বকাপে সরাসরি লাল কার্ড দেখলে এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা বাধ্যতামূলক এবং এর বিরুদ্ধে আপিলের কোনো সুযোগ থাকে না। কিন্তু ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটি তাদের শৃঙ্খলা বিধির ২৭ নম্বর ধারা এবং জুডিশিয়াল কমিটির একটি বিরল ফাঁকফোকর ব্যবহার করে এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। ফিফা জানিয়েছে, বালোগানের এই নিষেধাজ্ঞা আগামী এক বছরের জন্য স্থগিত থাকবে। এই সময়ের মধ্যে যদি তিনি আর কোনো গুরুতর ফাউল না করেন, তবে এটি সম্পূর্ণ বাতিল হয়ে যাবে। গত বছরের নভেম্বরে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর ক্ষেত্রেও একই নিয়ম ব্যবহার করে তার আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করেছিল ফিফা, যা নিয়েও তখন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল।
রিপোর্টারের নাম 























