ঢাকা ১২:২০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬

সুদানে ছয় মাসে ৩০০ শিশুর প্রাণহানি, বেশিরভাগই ড্রোন হামলার শিকার: ইউনিসেফ

সুদানে চলমান ভয়াবহ সংঘাতে গত ছয় মাসে অন্তত ৩০০ শিশু প্রাণ হারিয়েছে, যাদের অধিকাংশই ড্রোন হামলার শিকার। জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ এই মর্মান্তিক তথ্য জানিয়েছে। ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে দেশটির সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনী (আরএসএফ)-এর মধ্যে চলা এই সংঘাত সুদানকে এক চরম মানবিক সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

ইউনিসেফের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সংঘাত মূলত কর্দোফান, দারফোর এবং ব্লু নাইল অঞ্চলে তীব্র আকার ধারণ করেছে। এসব এলাকায় মোট হতাহতের প্রায় ৬০ শতাংশই ড্রোন হামলার কারণে ঘটছে। জাতিসংঘের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশ উত্তর কর্দোফানের কৌশলগত শহর এল-ওবেইদের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চলমান সংঘর্ষে সম্ভাব্য নৃশংসতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

এ পর্যন্ত এই যুদ্ধে অন্তত ৫৯ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন, প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং দেশের বহু অঞ্চল এখন দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে। বর্তমানে ৩ কোটিরও বেশি মানুষের জরুরি মানবিক সহায়তা প্রয়োজন। ড্রোন হামলা ও অব্যাহত গোলাবর্ষণে স্কুল, বাজার, জ্বালানি ডিপো এবং পানি সরবরাহ কেন্দ্রসহ অসংখ্য বেসামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা ৫ লাখেরও বেশি মানুষকে ঝুঁকিতে ফেলেছে। অনেক এলাকায় মানুষ এক বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রায় অবরুদ্ধ অবস্থায় জীবনযাপন করছে।

সুদানে ইউনিসেফের প্রতিনিধি শেলডন ইয়েট বলেন, “শিশুরা সহিংসতা, বাস্তুচ্যুতি ও বঞ্চনার এক নিরবচ্ছিন্ন চক্রে আটকা পড়েছে।” জাতিসংঘ সংঘাতের উভয় পক্ষের প্রতি বেসামরিক মানুষ ও অবকাঠামো সুরক্ষিত রাখা, বাধাহীন মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে দেওয়া এবং শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গোপালগঞ্জে স্ত্রীকে পুকুরে চুবিয়ে হত্যার অভিযোগ, গা ঢাকা দিয়েছেন স্বামী

সুদানে ছয় মাসে ৩০০ শিশুর প্রাণহানি, বেশিরভাগই ড্রোন হামলার শিকার: ইউনিসেফ

আপডেট সময় : ১০:০৭:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

সুদানে চলমান ভয়াবহ সংঘাতে গত ছয় মাসে অন্তত ৩০০ শিশু প্রাণ হারিয়েছে, যাদের অধিকাংশই ড্রোন হামলার শিকার। জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ এই মর্মান্তিক তথ্য জানিয়েছে। ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে দেশটির সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনী (আরএসএফ)-এর মধ্যে চলা এই সংঘাত সুদানকে এক চরম মানবিক সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

ইউনিসেফের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সংঘাত মূলত কর্দোফান, দারফোর এবং ব্লু নাইল অঞ্চলে তীব্র আকার ধারণ করেছে। এসব এলাকায় মোট হতাহতের প্রায় ৬০ শতাংশই ড্রোন হামলার কারণে ঘটছে। জাতিসংঘের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশ উত্তর কর্দোফানের কৌশলগত শহর এল-ওবেইদের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চলমান সংঘর্ষে সম্ভাব্য নৃশংসতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

এ পর্যন্ত এই যুদ্ধে অন্তত ৫৯ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন, প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং দেশের বহু অঞ্চল এখন দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে। বর্তমানে ৩ কোটিরও বেশি মানুষের জরুরি মানবিক সহায়তা প্রয়োজন। ড্রোন হামলা ও অব্যাহত গোলাবর্ষণে স্কুল, বাজার, জ্বালানি ডিপো এবং পানি সরবরাহ কেন্দ্রসহ অসংখ্য বেসামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা ৫ লাখেরও বেশি মানুষকে ঝুঁকিতে ফেলেছে। অনেক এলাকায় মানুষ এক বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রায় অবরুদ্ধ অবস্থায় জীবনযাপন করছে।

সুদানে ইউনিসেফের প্রতিনিধি শেলডন ইয়েট বলেন, “শিশুরা সহিংসতা, বাস্তুচ্যুতি ও বঞ্চনার এক নিরবচ্ছিন্ন চক্রে আটকা পড়েছে।” জাতিসংঘ সংঘাতের উভয় পক্ষের প্রতি বেসামরিক মানুষ ও অবকাঠামো সুরক্ষিত রাখা, বাধাহীন মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে দেওয়া এবং শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।