ঢাকা ০৬:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬

তিস্তার চরাঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবার চরম সংকট: চিকিৎসার অভাবে বাড়ছে মৃত্যুঝুঁকি

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার তিস্তা নদীবেষ্টিত চরাঞ্চলের মানুষের কাছে অসুস্থতা মানেই এক বিভীষিকাময় জীবন-সংগ্রাম। যাতায়াতের সুব্যবস্থা এবং দ্রুত চিকিৎসার অভাব এখানে নিত্যদিনের সঙ্গী। আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় গুরুতর অসুস্থ রোগী কিংবা অন্তঃসত্ত্বা নারীদের হাসপাতালে নিতে বাঁশের লাঠিতে ভর করে কাঁধে বয়ে নিয়ে যেতে হয় মাইলের পর মাইল। অনেক সময় হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই পথেই নিভে যায় মূল্যবান প্রাণ।

উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে কয়েক হাজার মানুষের বসবাস থাকলেও সেখানে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা এখনো অধরা। অ্যাম্বুলেন্স চলাচলের মতো রাস্তা না থাকায় স্থানীয়রা বাধ্য হয়ে খাটলি বা চেয়ারে করে রোগী বহন করেন। সম্প্রতি এক অসুস্থ বৃদ্ধকে কাঁধে করে নদীর ঘাটে নেওয়ার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে চরাঞ্চলের এই করুণ চিত্র আবারও সামনে আসে। সঠিক সময়ে নৌযান না পাওয়ায় অনাগত সন্তানের মৃত্যুর মতো হৃদয়বিদারক ঘটনাও এখানে নিয়মিত ঘটছে।

এই সংকট নিরসনে স্থানীয় বাসিন্দারা সরকারি ব্যবস্থাপনায় স্পিডবোট ও দক্ষ চালক নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন। তারা বলছেন, নদীর মাঝখানে অবস্থিত চরগুলো থেকে উপজেলা সদরে পৌঁছানোর একমাত্র মাধ্যম নৌপথ। জরুরি মুহূর্তে দ্রুতগতির নৌযান থাকলে অনেক প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হতো। এ লক্ষ্যে ইতিমধ্যে উপজেলা প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সিরাজগঞ্জে মাদক মামলায় একজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

তিস্তার চরাঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবার চরম সংকট: চিকিৎসার অভাবে বাড়ছে মৃত্যুঝুঁকি

আপডেট সময় : ০৪:১১:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার তিস্তা নদীবেষ্টিত চরাঞ্চলের মানুষের কাছে অসুস্থতা মানেই এক বিভীষিকাময় জীবন-সংগ্রাম। যাতায়াতের সুব্যবস্থা এবং দ্রুত চিকিৎসার অভাব এখানে নিত্যদিনের সঙ্গী। আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় গুরুতর অসুস্থ রোগী কিংবা অন্তঃসত্ত্বা নারীদের হাসপাতালে নিতে বাঁশের লাঠিতে ভর করে কাঁধে বয়ে নিয়ে যেতে হয় মাইলের পর মাইল। অনেক সময় হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই পথেই নিভে যায় মূল্যবান প্রাণ।

উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে কয়েক হাজার মানুষের বসবাস থাকলেও সেখানে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা এখনো অধরা। অ্যাম্বুলেন্স চলাচলের মতো রাস্তা না থাকায় স্থানীয়রা বাধ্য হয়ে খাটলি বা চেয়ারে করে রোগী বহন করেন। সম্প্রতি এক অসুস্থ বৃদ্ধকে কাঁধে করে নদীর ঘাটে নেওয়ার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে চরাঞ্চলের এই করুণ চিত্র আবারও সামনে আসে। সঠিক সময়ে নৌযান না পাওয়ায় অনাগত সন্তানের মৃত্যুর মতো হৃদয়বিদারক ঘটনাও এখানে নিয়মিত ঘটছে।

এই সংকট নিরসনে স্থানীয় বাসিন্দারা সরকারি ব্যবস্থাপনায় স্পিডবোট ও দক্ষ চালক নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন। তারা বলছেন, নদীর মাঝখানে অবস্থিত চরগুলো থেকে উপজেলা সদরে পৌঁছানোর একমাত্র মাধ্যম নৌপথ। জরুরি মুহূর্তে দ্রুতগতির নৌযান থাকলে অনেক প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হতো। এ লক্ষ্যে ইতিমধ্যে উপজেলা প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।