ভারতের বর্তমান জাতীয় রাজনীতিতে এক বিশেষ সমীকরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। লোকসভায় একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকলেও বিজেপি কৌশলগতভাবে ভারতকে প্রায় একদলীয় শাসনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে, আঞ্চলিক দলগুলোর শক্তিক্ষয় হওয়ার ফলে কংগ্রেসই এখন প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে টিকে আছে। তবে নির্বাচনী ময়দানে বিজেপির শক্তিশালী অবস্থানের বিপরীতে কংগ্রেস এখনো কাঙ্ক্ষিত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পারছে না।
বিজেপির রাজনৈতিক সাফল্যের মূলে রয়েছে কট্টর হিন্দুত্ববাদ, জাতীয়তাবাদ এবং বিস্তৃত জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি। এর বিপরীতে কংগ্রেসের কোনো সুস্পষ্ট বিকল্প আদর্শ বা শক্তিশালী কর্মসূচি জনগণের সামনে দৃশ্যমান হচ্ছে না। অর্থনীতি, প্রতিরক্ষা বা বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কংগ্রেসের অবস্থান বিজেপির চেয়ে কতটা আলাদা, তা নিয়ে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে অস্পষ্টতা রয়েছে। সমালোচকদের মতে, কেবল নীতিগত বিরোধিতার বদলে কংগ্রেসকে একটি বিশ্বাসযোগ্য বিকল্প ভিশন নিয়ে আসতে হবে।
ভারতের রাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষায় একটি শক্তিশালী বিরোধী দলের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আঞ্চলিক দলগুলো যেখানে অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে, সেখানে কংগ্রেসের ঘুরে দাঁড়ানো এখন সময়ের বড় চ্যালেঞ্জ। বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ জানাতে হলে কংগ্রেসকে তাদের সাংগঠনিক দুর্বলতা কাটিয়ে উঠে নতুন রাজনৈতিক কৌশল গ্রহণ করতে হবে। ভারতের ভবিষ্যৎ রাজনীতি এই দুই দলের দ্বৈরথে কোন দিকে মোড় নেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
রিপোর্টারের নাম 
























