ঢাকা ০১:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬

বাকেরগঞ্জের মুগা খান মসজিদ: চারশ বছরের পুরনো মুঘল স্থাপত্যের এক অনন্য নিদর্শন

বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলার চরামদ্দি ইউনিয়নে অবস্থিত ঐতিহাসিক মুগা খান জামে মসজিদটি দক্ষিণাঞ্চলের মুসলিম স্থাপত্যের এক অনন্য নিদর্শন হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। প্রায় চার শতাব্দী প্রাচীন এই মসজিদটি মুঘল আমলের শেষভাগে নির্মিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। মসজিদটির প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন প্রখ্যাত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ইসমাইল চৌধুরীর পরিবারের আদি পুরুষ মুগা খান।

তিন গম্বুজবিশিষ্ট এই প্রাচীন মসজিদটি ইট, চুন ও সুরকির নিখুঁত কারুকার্যে তৈরি। এর অলংকৃত দেয়াল, খিলান এবং ভেতরের নান্দনিক লিপি মুঘল স্থাপত্যশৈলীর গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের সাক্ষ্য দেয়। সময়ের বিবর্তনে ২০১৭ সালে মসজিদটির সংস্কার ও সম্প্রসারণ করা হলেও মূল স্থাপত্যের বৈশিষ্ট্যগুলো অক্ষুণ্ণ রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। বর্তমানে এই মসজিদ চত্বরে একটি হেফজ ও একটি কওমি মাদরাসা পরিচালিত হচ্ছে, যা স্থানীয় ধর্মীয় শিক্ষার প্রসারে ভূমিকা রাখছে।

ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় গুরুত্বের কারণে প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক পর্যটক এবং স্থাপত্যপ্রেমী এই মসজিদটি দেখতে আসেন। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সরকারি উদ্যোগের মাধ্যমে এই প্রাচীন স্থাপনাটিকে যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হলে এটি দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে। একটি পূর্ণাঙ্গ তথ্যফলক স্থাপন এবং মসজিদ প্রাঙ্গণে পর্যটনবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে কটাক্ষের অভিযোগ: শাওন ও মাহির বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় ডায়েরি

বাকেরগঞ্জের মুগা খান মসজিদ: চারশ বছরের পুরনো মুঘল স্থাপত্যের এক অনন্য নিদর্শন

আপডেট সময় : ১১:৫৮:৫২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬

বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলার চরামদ্দি ইউনিয়নে অবস্থিত ঐতিহাসিক মুগা খান জামে মসজিদটি দক্ষিণাঞ্চলের মুসলিম স্থাপত্যের এক অনন্য নিদর্শন হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। প্রায় চার শতাব্দী প্রাচীন এই মসজিদটি মুঘল আমলের শেষভাগে নির্মিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। মসজিদটির প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন প্রখ্যাত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ইসমাইল চৌধুরীর পরিবারের আদি পুরুষ মুগা খান।

তিন গম্বুজবিশিষ্ট এই প্রাচীন মসজিদটি ইট, চুন ও সুরকির নিখুঁত কারুকার্যে তৈরি। এর অলংকৃত দেয়াল, খিলান এবং ভেতরের নান্দনিক লিপি মুঘল স্থাপত্যশৈলীর গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের সাক্ষ্য দেয়। সময়ের বিবর্তনে ২০১৭ সালে মসজিদটির সংস্কার ও সম্প্রসারণ করা হলেও মূল স্থাপত্যের বৈশিষ্ট্যগুলো অক্ষুণ্ণ রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। বর্তমানে এই মসজিদ চত্বরে একটি হেফজ ও একটি কওমি মাদরাসা পরিচালিত হচ্ছে, যা স্থানীয় ধর্মীয় শিক্ষার প্রসারে ভূমিকা রাখছে।

ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় গুরুত্বের কারণে প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক পর্যটক এবং স্থাপত্যপ্রেমী এই মসজিদটি দেখতে আসেন। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সরকারি উদ্যোগের মাধ্যমে এই প্রাচীন স্থাপনাটিকে যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হলে এটি দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে। একটি পূর্ণাঙ্গ তথ্যফলক স্থাপন এবং মসজিদ প্রাঙ্গণে পর্যটনবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।