ঢাকা ০৫:৫১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬

পরশুরাম সীমান্তে সক্রিয় চোরাচালান: ভারতীয় পণ্যের অবাধ প্রবেশ, ৫০ পয়েন্ট ব্যবহার

ফেনীর পরশুরাম সীমান্তে এখন আর কেবল রাতের অন্ধকারে নয়, দিন-রাত উপজেলার অন্তত ৫০টিরও বেশি পয়েন্ট ব্যবহার করে সক্রিয়ভাবে ভারতীয় পণ্য চোরাচালান হচ্ছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, পূর্বে চিনি চোরাচালান বেশি হলেও বর্তমানে শাড়ি-কাপড়, থ্রিপিস, লেহেঙ্গা, প্রসাধন সামগ্রী, ইলেকট্রনিকস, মোবাইল যন্ত্রাংশ, গাড়ির পার্টস এবং ওষুধের মতো পণ্যের চোরাচালান ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

গত আগস্ট মাসের পর থেকে স্থানীয় রাজনৈতিক দলের দ্বিতীয় ও তৃতীয় সারির কিছু নেতাকর্মীও এই চোরাচালান চক্রের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্যের সঙ্গে চোরাকারবারি চক্রের সখ্যের বিষয়টিও আলোচনায় আসছে, যদিও এ বিষয়ে কোনো পক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সীমান্ত ঘেষা বাড়ি বা গোপন আস্তানায় প্রথমে ভারতীয় পণ্য মজুত করা হয়। এরপর সিএনজি, মোটরসাইকেল বা মিনি ট্রাক ব্যবহার করে তা ফেনীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়। রাতের বেলা সীমান্ত সড়কে সন্দেহজনক যানবাহনের চলাচল বেড়ে যায়। একটি প্রচলিত কৌশল হিসেবে কাঁটাতারের বেড়ার ওপার থেকে ছোট ছোট বান্ডিল বা প্যাকেট ছুড়ে দেওয়া হয়, যা এপারে অবস্থান করা লোকজন সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট স্থানে নিয়ে যায়।

বিলোনিয়া, নিজ কালিকাপুর, মুহুরী নদী, মুহুরীরচর, বাঁশপদুয়া, নরনীয়া, রাজষপুর, সত্যনগর, মধুগ্রাম, বীরচন্দ্র নগর এবং মহেশপুষ্করণী সীমান্ত এলাকাগুলো চোরাচালানের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। বর্ষাকালে ড্রাম বা ওয়াটারপ্রুফ পলিথিনে মুড়িয়ে পানিতে ভাসিয়ে পণ্য আনা হয়, আর শুষ্ক মৌসুমে চর ও ঝোপঝাড় ব্যবহার করে সীমান্ত পারাপার করা হয়। এ সকল রুটে প্রতিদিন কোটি টাকার ভারতীয় পণ্য বাংলাদেশে প্রবেশ করছে বলে জানা গেছে। এই কাজে স্থানীয় প্রভাবশালী সিন্ডিকেটগুলোর পাশাপাশি সীমান্তবর্তী এলাকার বেকার যুবকদের একাংশকে ব্যবহার করা হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লালমনিরহাটে ধরলার তীব্র ভাঙন: বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, হুমকির মুখে জনজীবন

পরশুরাম সীমান্তে সক্রিয় চোরাচালান: ভারতীয় পণ্যের অবাধ প্রবেশ, ৫০ পয়েন্ট ব্যবহার

আপডেট সময় : ০৪:২০:১৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

ফেনীর পরশুরাম সীমান্তে এখন আর কেবল রাতের অন্ধকারে নয়, দিন-রাত উপজেলার অন্তত ৫০টিরও বেশি পয়েন্ট ব্যবহার করে সক্রিয়ভাবে ভারতীয় পণ্য চোরাচালান হচ্ছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, পূর্বে চিনি চোরাচালান বেশি হলেও বর্তমানে শাড়ি-কাপড়, থ্রিপিস, লেহেঙ্গা, প্রসাধন সামগ্রী, ইলেকট্রনিকস, মোবাইল যন্ত্রাংশ, গাড়ির পার্টস এবং ওষুধের মতো পণ্যের চোরাচালান ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

গত আগস্ট মাসের পর থেকে স্থানীয় রাজনৈতিক দলের দ্বিতীয় ও তৃতীয় সারির কিছু নেতাকর্মীও এই চোরাচালান চক্রের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্যের সঙ্গে চোরাকারবারি চক্রের সখ্যের বিষয়টিও আলোচনায় আসছে, যদিও এ বিষয়ে কোনো পক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সীমান্ত ঘেষা বাড়ি বা গোপন আস্তানায় প্রথমে ভারতীয় পণ্য মজুত করা হয়। এরপর সিএনজি, মোটরসাইকেল বা মিনি ট্রাক ব্যবহার করে তা ফেনীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়। রাতের বেলা সীমান্ত সড়কে সন্দেহজনক যানবাহনের চলাচল বেড়ে যায়। একটি প্রচলিত কৌশল হিসেবে কাঁটাতারের বেড়ার ওপার থেকে ছোট ছোট বান্ডিল বা প্যাকেট ছুড়ে দেওয়া হয়, যা এপারে অবস্থান করা লোকজন সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট স্থানে নিয়ে যায়।

বিলোনিয়া, নিজ কালিকাপুর, মুহুরী নদী, মুহুরীরচর, বাঁশপদুয়া, নরনীয়া, রাজষপুর, সত্যনগর, মধুগ্রাম, বীরচন্দ্র নগর এবং মহেশপুষ্করণী সীমান্ত এলাকাগুলো চোরাচালানের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। বর্ষাকালে ড্রাম বা ওয়াটারপ্রুফ পলিথিনে মুড়িয়ে পানিতে ভাসিয়ে পণ্য আনা হয়, আর শুষ্ক মৌসুমে চর ও ঝোপঝাড় ব্যবহার করে সীমান্ত পারাপার করা হয়। এ সকল রুটে প্রতিদিন কোটি টাকার ভারতীয় পণ্য বাংলাদেশে প্রবেশ করছে বলে জানা গেছে। এই কাজে স্থানীয় প্রভাবশালী সিন্ডিকেটগুলোর পাশাপাশি সীমান্তবর্তী এলাকার বেকার যুবকদের একাংশকে ব্যবহার করা হচ্ছে।