ঢাকা ০৪:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬

রায়পুরে মায়ের ও তিন মেয়ের নৃশংস হত্যাকাণ্ড: সাত দিনেও রহস্য উদঘাটন, জনমনে উদ্বেগ

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে তিন মেয়েসহ মাকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার সাত দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো রহস্যের জট খোলেনি। গণপিটুনিতে সন্দেহভাজন ঘাতক নিহত হওয়ায় এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল কারণ অজানা রয়ে গেছে, যা স্থানীয় জনমনে গভীর উদ্বেগ ও নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

পুলিশ অবশ্য দ্রুত এই মামলার রহস্য উদঘাটনের ব্যাপারে আশাবাদী। তারা বলছেন, খুব শীঘ্রই এই হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উন্মোচন করা সম্ভব হবে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ধারণা, ঘাতক অন্তর মজুমদার মাদকাসক্ত ছিল এবং নিহতদের সঙ্গে তার পূর্বপরিচয়, স্বর্ণালংকার লুট, অর্থ লেনদেন বা পূর্ববিরোধের মতো বিষয়গুলো হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য কারণ হতে পারে। অন্তর প্রায় দেড় বছর ওই ভবনের পঞ্চম তলায় ভাড়া থাকত এবং প্রায় আট মাস আগে বাসা ছেড়ে চলে যায়। সে জানত যে বাসার ভাড়া সবাই শাহিনুরকে দিত এবং তার কিছু স্বর্ণালংকারও ছিল। এই তথ্যগুলো ডাকাতির উদ্দেশ্যে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্থানীয় প্রতিবেশী ঝর্না আক্তার মিলি জানান, এমন ভয়াবহ ঘটনা তারা আগে কখনো দেখেননি। নিহত পরিবারের কারো সঙ্গে কারো কোনো ঝগড়া-বিবাদ ছিল না। নিহত শাহিনুর বেগমের স্বামী দীর্ঘদিন আগে মারা যান এবং তিনি পরিবার নিয়ে কোনোভাবে চলতেন, বিভিন্ন ব্যক্তির সহায়তায় তাদের দিন কাটত।

সমাজকর্মী আব্দুর রহমান তুহিন জানান, শাহিনুর বেগমের স্বামী কামাল হোসেন ২০১৯ সালের রমজান মাসে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। তিনি ছিলেন অত্যন্ত পরহেজগার এবং তার মৃত্যুতে পরিবারটি সহানুভূতি পেয়েছিল। অনেকেই তাদের পাশে দাঁড়িয়েছিল। সে সময় শাহিনুরের নামে ৪ লাখ টাকার একটি এফডিআর করা হয়। তার সন্তানদের মেধাবী হওয়ায় অনেকে তাদের পড়ালেখার দায়িত্ব নেয় এবং শাহিনুরকে একটি হাসপাতালে চাকরিও দেওয়া হয়। বিভিন্ন দানশীল ব্যক্তি পরিবারটিকে সহায়তা করতেন। এই পরিস্থিতিতে তাদের সঙ্গে কারো শত্রুতা থাকার সম্ভাবনা কম, যা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের কারণ হতে পারে।

হত্যাকাণ্ডের সময় বাড়িতে না থাকায় একমাত্র ছেলে ১৮ বছর বয়সী জুনাইদ ইসলাম সিফাত প্রাণে বেঁচে যায়। সে রায়পুর বণিক সমিতির সভাপতি সাইফুল ইসলাম মুরাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে এবং দীর্ঘদিন ধরে সেখানে কর্মরত। ঘটনার দিন সকালে সিফাত কর্মস্থলে চলে গিয়েছিল। সিফাত ঘটনার সুষ্ঠু বিচার কামনা করেছে এবং আশা প্রকাশ করেছে যে প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নেবে।

রায়পুর বাজার বণিক সমিতির সভাপতি সাইফুল ইসলাম মুরাদ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মাগুরার শ্রীপুরে টিসিবির পণ্যের মান নিয়ে ক্রেতাদের অসন্তোষ: দাম বৃদ্ধি, নিম্নমানের পণ্য সরবরাহ

রায়পুরে মায়ের ও তিন মেয়ের নৃশংস হত্যাকাণ্ড: সাত দিনেও রহস্য উদঘাটন, জনমনে উদ্বেগ

আপডেট সময় : ০৩:১৮:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে তিন মেয়েসহ মাকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার সাত দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো রহস্যের জট খোলেনি। গণপিটুনিতে সন্দেহভাজন ঘাতক নিহত হওয়ায় এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল কারণ অজানা রয়ে গেছে, যা স্থানীয় জনমনে গভীর উদ্বেগ ও নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

পুলিশ অবশ্য দ্রুত এই মামলার রহস্য উদঘাটনের ব্যাপারে আশাবাদী। তারা বলছেন, খুব শীঘ্রই এই হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উন্মোচন করা সম্ভব হবে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ধারণা, ঘাতক অন্তর মজুমদার মাদকাসক্ত ছিল এবং নিহতদের সঙ্গে তার পূর্বপরিচয়, স্বর্ণালংকার লুট, অর্থ লেনদেন বা পূর্ববিরোধের মতো বিষয়গুলো হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য কারণ হতে পারে। অন্তর প্রায় দেড় বছর ওই ভবনের পঞ্চম তলায় ভাড়া থাকত এবং প্রায় আট মাস আগে বাসা ছেড়ে চলে যায়। সে জানত যে বাসার ভাড়া সবাই শাহিনুরকে দিত এবং তার কিছু স্বর্ণালংকারও ছিল। এই তথ্যগুলো ডাকাতির উদ্দেশ্যে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্থানীয় প্রতিবেশী ঝর্না আক্তার মিলি জানান, এমন ভয়াবহ ঘটনা তারা আগে কখনো দেখেননি। নিহত পরিবারের কারো সঙ্গে কারো কোনো ঝগড়া-বিবাদ ছিল না। নিহত শাহিনুর বেগমের স্বামী দীর্ঘদিন আগে মারা যান এবং তিনি পরিবার নিয়ে কোনোভাবে চলতেন, বিভিন্ন ব্যক্তির সহায়তায় তাদের দিন কাটত।

সমাজকর্মী আব্দুর রহমান তুহিন জানান, শাহিনুর বেগমের স্বামী কামাল হোসেন ২০১৯ সালের রমজান মাসে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। তিনি ছিলেন অত্যন্ত পরহেজগার এবং তার মৃত্যুতে পরিবারটি সহানুভূতি পেয়েছিল। অনেকেই তাদের পাশে দাঁড়িয়েছিল। সে সময় শাহিনুরের নামে ৪ লাখ টাকার একটি এফডিআর করা হয়। তার সন্তানদের মেধাবী হওয়ায় অনেকে তাদের পড়ালেখার দায়িত্ব নেয় এবং শাহিনুরকে একটি হাসপাতালে চাকরিও দেওয়া হয়। বিভিন্ন দানশীল ব্যক্তি পরিবারটিকে সহায়তা করতেন। এই পরিস্থিতিতে তাদের সঙ্গে কারো শত্রুতা থাকার সম্ভাবনা কম, যা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের কারণ হতে পারে।

হত্যাকাণ্ডের সময় বাড়িতে না থাকায় একমাত্র ছেলে ১৮ বছর বয়সী জুনাইদ ইসলাম সিফাত প্রাণে বেঁচে যায়। সে রায়পুর বণিক সমিতির সভাপতি সাইফুল ইসলাম মুরাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে এবং দীর্ঘদিন ধরে সেখানে কর্মরত। ঘটনার দিন সকালে সিফাত কর্মস্থলে চলে গিয়েছিল। সিফাত ঘটনার সুষ্ঠু বিচার কামনা করেছে এবং আশা প্রকাশ করেছে যে প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নেবে।

রায়পুর বাজার বণিক সমিতির সভাপতি সাইফুল ইসলাম মুরাদ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।