ঢাকা ১১:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬

বাজেট-মুদ্রানীতির সাংঘর্ষিক অবস্থান অর্থনীতিকে গভীর সংকটে ফেলবে: এবি পার্টি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৫৬:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

সরকারের বাজেট ও বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রানীতির মধ্যে বিদ্যমান সাংঘর্ষিক অবস্থান দেশের অর্থনীতিকে আরও গভীর সংকটের দিকে ঠেলে দেবে বলে মন্তব্য করেছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণার পর এক বিবৃতিতে দলটির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ এ মন্তব্য করেন।

বিবৃতিতে ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, সরকারের সম্প্রসারণমুখী জাতীয় বাজেট এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণে গুরুতর সমন্বয়হীনতার ইঙ্গিত দেয়। একই সরকারের পক্ষ থেকে একদিকে বিপুল ঋণনির্ভর বাজেট বাস্তবায়ন এবং অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের নামে কঠোর মুদ্রানীতি গ্রহণ অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারের পরিবর্তে আরও বড় সংকটে ফেলবে।

তিনি আরও যোগ করেন, জাতীয় বাজেট পাসের দিনই সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি ঘোষণা প্রমাণ করে যে সরকারের ভেতরেই অর্থনৈতিক দর্শন ও নীতির কোনো ঐক্য নেই। এমন পরিস্থিতিতে এর চূড়ান্ত খেসারত দিতে হবে দেশের সাধারণ মানুষ, উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের।

ফুয়াদ বলেন, টানা কয়েক বছর ধরে দেশের মানুষ উচ্চ মূল্যস্ফীতির যন্ত্রণা ভোগ করছে। অথচ সরকার উৎপাদন ব্যয় কমানো, বাজারের সিন্ডিকেট ভাঙা, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ এবং সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী করার মতো মৌলিক পদক্ষেপ না নিয়ে কেবল ঋণনির্ভর বাজেটের ওপর নির্ভর করছে। এর ফলে মূল্যস্ফীতি কমার পরিবর্তে অর্থনীতির ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি হবে।

ব্যারিস্টার ফুয়াদ মনে করেন, বর্তমান মূল্যস্ফীতি মূলত ব্যয় বৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকটজনিত। এটিকে শুধুমাত্র সুদের হার বাড়িয়ে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। সরকারের ভুল নীতি, ব্যাংকিং খাতের অব্যবস্থাপনা, খেলাপি ঋণ, জ্বালানি সংকট এবং বাজার ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতা দূর না করলে কঠোর মুদ্রানীতিও কাঙ্ক্ষিত ফল দেবে না। তিনি সরকারের প্রতি কৃত্রিম প্রবৃদ্ধির গল্প শোনানো বন্ধ করে জনগণের প্রকৃত অর্থনৈতিক বাস্তবতা স্বীকার করার এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করে প্রকৃত উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ অর্থায়নের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। অন্যথায় দেশের অর্থনীতি আরও গভীর অনিশ্চয়তার দিকে ধাবিত হবে বলে তিনি সতর্ক করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ব্যক্তি ও রাষ্ট্রীয় কল্যাণে বিশুদ্ধ আকিদা অনুসরণের বিকল্প নেই: রাবেতাতুল ওয়ায়েজীন

বাজেট-মুদ্রানীতির সাংঘর্ষিক অবস্থান অর্থনীতিকে গভীর সংকটে ফেলবে: এবি পার্টি

আপডেট সময় : ০৯:৫৬:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

সরকারের বাজেট ও বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রানীতির মধ্যে বিদ্যমান সাংঘর্ষিক অবস্থান দেশের অর্থনীতিকে আরও গভীর সংকটের দিকে ঠেলে দেবে বলে মন্তব্য করেছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণার পর এক বিবৃতিতে দলটির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ এ মন্তব্য করেন।

বিবৃতিতে ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, সরকারের সম্প্রসারণমুখী জাতীয় বাজেট এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণে গুরুতর সমন্বয়হীনতার ইঙ্গিত দেয়। একই সরকারের পক্ষ থেকে একদিকে বিপুল ঋণনির্ভর বাজেট বাস্তবায়ন এবং অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের নামে কঠোর মুদ্রানীতি গ্রহণ অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারের পরিবর্তে আরও বড় সংকটে ফেলবে।

তিনি আরও যোগ করেন, জাতীয় বাজেট পাসের দিনই সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি ঘোষণা প্রমাণ করে যে সরকারের ভেতরেই অর্থনৈতিক দর্শন ও নীতির কোনো ঐক্য নেই। এমন পরিস্থিতিতে এর চূড়ান্ত খেসারত দিতে হবে দেশের সাধারণ মানুষ, উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের।

ফুয়াদ বলেন, টানা কয়েক বছর ধরে দেশের মানুষ উচ্চ মূল্যস্ফীতির যন্ত্রণা ভোগ করছে। অথচ সরকার উৎপাদন ব্যয় কমানো, বাজারের সিন্ডিকেট ভাঙা, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ এবং সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী করার মতো মৌলিক পদক্ষেপ না নিয়ে কেবল ঋণনির্ভর বাজেটের ওপর নির্ভর করছে। এর ফলে মূল্যস্ফীতি কমার পরিবর্তে অর্থনীতির ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি হবে।

ব্যারিস্টার ফুয়াদ মনে করেন, বর্তমান মূল্যস্ফীতি মূলত ব্যয় বৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকটজনিত। এটিকে শুধুমাত্র সুদের হার বাড়িয়ে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। সরকারের ভুল নীতি, ব্যাংকিং খাতের অব্যবস্থাপনা, খেলাপি ঋণ, জ্বালানি সংকট এবং বাজার ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতা দূর না করলে কঠোর মুদ্রানীতিও কাঙ্ক্ষিত ফল দেবে না। তিনি সরকারের প্রতি কৃত্রিম প্রবৃদ্ধির গল্প শোনানো বন্ধ করে জনগণের প্রকৃত অর্থনৈতিক বাস্তবতা স্বীকার করার এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করে প্রকৃত উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ অর্থায়নের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। অন্যথায় দেশের অর্থনীতি আরও গভীর অনিশ্চয়তার দিকে ধাবিত হবে বলে তিনি সতর্ক করেন।