সিরাজগঞ্জে পৃথক দুটি মাদক মামলায় চার আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার দুপুরে সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত দায়রা জজ-৩ এর আদালতের বিচারক নজরুল ইসলাম এই রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—ঝিনাইদহ জেলার যাদবপুর গ্রামের ট্রাক চালক কাজী বুলবুল হোসেন, একই জেলার ডেরবা সাত পোতা গ্রামের কবির হোসেন (ট্রাক হেলপার), সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার শাহেদ নগর ব্যাপারিপাড়া মহল্লার সুজন শেখ এবং সদর উপজেলার খোকশাবাড়ি ইউনিয়নের শালুয়াভিটা গ্রামের মাসুদ রানা বাবু। রায় ঘোষণার সময় তারা সবাই পলাতক ছিলেন।
অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর হামিদুল ইসলাম দুলাল জানান, আসামি সুজন শেখ ও রানা বাবুকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, কাজী বুলবুল হোসেন ও কবির হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২২ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর সিরাজগঞ্জ সদর থানা এলাকায় মাদক উদ্ধারে অভিযান চালায় ডিবি পুলিশ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শহরের মিলন মোড় এলাকায় মাদকদ্রব্য ক্রয়-বিক্রয়ের খবর পেয়ে সেখানে অভিযান চালানো হয়। এসময় মাদক ব্যবসায়ী সুজন শেখ পালানোর চেষ্টা করলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। তার দেহ তল্লাশি করে ৫টি বুপ্রেনরফিন ইনজেকশন জব্দ করা হয়। সুজনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সদর উপজেলার খোকশাবাড়ি ইউনিয়নের শালুয়াভিটা গ্রামের মাসুদ রানা বাবুকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তার কাছ থেকে ১০০টি বুপ্রেনরফিন ইনজেকশন উদ্ধার করা হয়।
অপরদিকে, ২০১৩ সালের ২১ মার্চ যমুনা সেতু পশ্চিম থানা পুলিশ ডিউটি করার সময় জানতে পারে যে, ঝিনাইদহ ভারতীয় সীমান্ত থেকে ভারতীয় ফেনসিডিল নিয়ে একটি ট্রাক গাজীপুরের দিকে যাচ্ছে। পুলিশ সেতু গোলচত্বর এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি শুরু করে। বিকেলের দিকে একটি ট্রাক দেখতে পেয়ে থামানোর সংকেত দিলে চালক ও হেলপার পালানোর চেষ্টা করেন। পুলিশ ধাওয়া করে ট্রাকসহ তাদের আটক করে। পরে ট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে ৪৯৭ বোতল ভারতীয় ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়। এই দুটি ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করে এবং একই আদালত চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করে।
রিপোর্টারের নাম 























