ঢাকা ০৮:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

বিশ্বকাপ নকআউটে অপরাজিত মেক্সিকো বনাম চমক জাগানো ইকুয়েডর

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এবার মুখোমুখি হচ্ছে দুই ভিন্ন মেরুর দল—গ্রুপ পর্বে শতভাগ সাফল্য নিয়ে উড়তে থাকা মেক্সিকো এবং গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে হারিয়ে চমক দেখানো ইকুয়েডর। মেক্সিকো সিটি স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল ৭টায় এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মাঠে নামবে দুদল।

হাভিয়ের আগিরের মেক্সিকো এবারের বিশ্বকাপে শুরু থেকেই তাদের আধিপত্য বজায় রেখেছে। দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২-০ গোলে হারানোর পর দক্ষিণ কোরিয়াকে ১-০ এবং শেষ ম্যাচে চেক প্রজাতন্ত্রকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে পূর্ণ ৯ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ‘এল ত্রি’। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো, তিন ম্যাচে ছয় গোল করলেও তাদের নিজেদের জালে একবারও বল তুলতে হয়নি। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ছয়টি ম্যাচ জিতেছে মেক্সিকো, যা তাদের আত্মবিশ্বাসকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

অন্যদিকে, ইকুয়েডরের পথ ছিল অনেক বেশি বন্ধুর। প্রথম ম্যাচে আইভরি কোস্টের কাছে ৯০ মিনিটের গোলে ১-০ ব্যবধানে হারের পর কুরাসাওয়ের বিপক্ষে ২৭টি শট নিয়েও গোলশূন্য ড্র করে তারা। ফলে শেষ ম্যাচে জার্মানির বিপক্ষে জয় ছাড়া তাদের সামনে এগোনোর আর কোনো পথ ছিল না।

সেই ম্যাচেই দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের গল্প লেখে ইকুয়েডর। শুরুতে লেরয় সানের গোলে পিছিয়ে পড়লেও নিলসন অ্যাঙ্গুলো সমতা ফেরান। এরপর ৭৭ মিনিটে গঞ্জালো প্লাতার জয়সূচক গোলে ২-১ ব্যবধানে জিতে শেষ ৩২-এ জায়গা করে নেয় দক্ষিণ আমেরিকার এই দলটি। ইতিহাসে এ নিয়ে দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব পেরিয়েছে ইকুয়েডর। এর আগে ২০০৬ বিশ্বকাপে শেষ ষোলোয় উঠলেও ডেভিড বেকহামের ফ্রি-কিকে ইংল্যান্ডের কাছে হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল তাদের।

পরিসংখ্যান অবশ্য মেক্সিকোর পক্ষেই কথা বলছে। দুই দল এখন পর্যন্ত ২৮ বার মুখোমুখি হয়েছে, যার মধ্যে মেক্সিকো জিতেছে ১৭টি ম্যাচ। ইকুয়েডরের জয় মাত্র চারটি, আর সাতটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। সর্বশেষ ২০২৫ সালের অক্টোবরে প্রীতি ম্যাচে ১-১ সমতা ছিল ফল। বিশ্বকাপে তাদের একমাত্র দেখায় ২০০২ সালে মেক্সিকো ২-১ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল।

দুদলই প্রায় পূর্ণ শক্তির স্কোয়াড নিয়ে মাঠে নামবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্রামের পর অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার রাউল হিমেনেজ আবার শুরুর একাদশে ফিরতে পারেন। গোলবারের নিচে থাকবেন রাউল রাঙ্গেল, যিনি চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে খেলেই লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর বিশ্বকাপের ছয় আসরে মাঠে নামা তৃতীয় ফুটবলার হওয়ার কীর্তি গড়েছেন। ১৭ বছর বয়সি গিলবার্তো মোরা বেঞ্চে থাকলেও প্রয়োজনে তাকে ব্যবহার করতে পারেন কোচ আগিরে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ব্রহ্মপুত্র নদের ভয়াবহ ভাঙন: বকশীগঞ্জে মানববন্ধন, স্থায়ী সমাধানের দাবি

বিশ্বকাপ নকআউটে অপরাজিত মেক্সিকো বনাম চমক জাগানো ইকুয়েডর

আপডেট সময় : ০৬:১১:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এবার মুখোমুখি হচ্ছে দুই ভিন্ন মেরুর দল—গ্রুপ পর্বে শতভাগ সাফল্য নিয়ে উড়তে থাকা মেক্সিকো এবং গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে হারিয়ে চমক দেখানো ইকুয়েডর। মেক্সিকো সিটি স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল ৭টায় এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মাঠে নামবে দুদল।

হাভিয়ের আগিরের মেক্সিকো এবারের বিশ্বকাপে শুরু থেকেই তাদের আধিপত্য বজায় রেখেছে। দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২-০ গোলে হারানোর পর দক্ষিণ কোরিয়াকে ১-০ এবং শেষ ম্যাচে চেক প্রজাতন্ত্রকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে পূর্ণ ৯ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ‘এল ত্রি’। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো, তিন ম্যাচে ছয় গোল করলেও তাদের নিজেদের জালে একবারও বল তুলতে হয়নি। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ছয়টি ম্যাচ জিতেছে মেক্সিকো, যা তাদের আত্মবিশ্বাসকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

অন্যদিকে, ইকুয়েডরের পথ ছিল অনেক বেশি বন্ধুর। প্রথম ম্যাচে আইভরি কোস্টের কাছে ৯০ মিনিটের গোলে ১-০ ব্যবধানে হারের পর কুরাসাওয়ের বিপক্ষে ২৭টি শট নিয়েও গোলশূন্য ড্র করে তারা। ফলে শেষ ম্যাচে জার্মানির বিপক্ষে জয় ছাড়া তাদের সামনে এগোনোর আর কোনো পথ ছিল না।

সেই ম্যাচেই দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের গল্প লেখে ইকুয়েডর। শুরুতে লেরয় সানের গোলে পিছিয়ে পড়লেও নিলসন অ্যাঙ্গুলো সমতা ফেরান। এরপর ৭৭ মিনিটে গঞ্জালো প্লাতার জয়সূচক গোলে ২-১ ব্যবধানে জিতে শেষ ৩২-এ জায়গা করে নেয় দক্ষিণ আমেরিকার এই দলটি। ইতিহাসে এ নিয়ে দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব পেরিয়েছে ইকুয়েডর। এর আগে ২০০৬ বিশ্বকাপে শেষ ষোলোয় উঠলেও ডেভিড বেকহামের ফ্রি-কিকে ইংল্যান্ডের কাছে হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল তাদের।

পরিসংখ্যান অবশ্য মেক্সিকোর পক্ষেই কথা বলছে। দুই দল এখন পর্যন্ত ২৮ বার মুখোমুখি হয়েছে, যার মধ্যে মেক্সিকো জিতেছে ১৭টি ম্যাচ। ইকুয়েডরের জয় মাত্র চারটি, আর সাতটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। সর্বশেষ ২০২৫ সালের অক্টোবরে প্রীতি ম্যাচে ১-১ সমতা ছিল ফল। বিশ্বকাপে তাদের একমাত্র দেখায় ২০০২ সালে মেক্সিকো ২-১ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল।

দুদলই প্রায় পূর্ণ শক্তির স্কোয়াড নিয়ে মাঠে নামবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্রামের পর অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার রাউল হিমেনেজ আবার শুরুর একাদশে ফিরতে পারেন। গোলবারের নিচে থাকবেন রাউল রাঙ্গেল, যিনি চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে খেলেই লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর বিশ্বকাপের ছয় আসরে মাঠে নামা তৃতীয় ফুটবলার হওয়ার কীর্তি গড়েছেন। ১৭ বছর বয়সি গিলবার্তো মোরা বেঞ্চে থাকলেও প্রয়োজনে তাকে ব্যবহার করতে পারেন কোচ আগিরে।