ঢাকা ০৩:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

নাটকীয় প্রত্যাবর্তন, ব্রাজিলের জয়ে মুগ্ধ বিশ্ব গণমাধ্যম

জাপানের বিপক্ষে নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের পর শুধু শেষ ষোলোই নিশ্চিত করেনি ব্রাজিল, বরং বিশ্ব গণমাধ্যমেরও মনোযোগ কেড়েছে। শেষ মুহূর্তে গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লির গোলে ২-১ ব্যবধানের এই জয়কে বিশ্বের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যমগুলো ভিন্ন ভিন্ন বিশেষণে বর্ণনা করেছে। কারও কাছে এটি ‘মহাকাব্যিক’, কারও চোখে ‘রোমাঞ্চকর’, আবার কেউ দেখেছে ‘নাটকীয়’ এক ফুটবল নাট্যরূপ।

ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান মনে করছে, এবারের বিশ্বকাপে ব্রাজিল এখনও তাদের সেরা ফুটবল খেলতে পারেনি। তবু কার্লো আনচেলত্তির দলের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো, তারা শেষ পর্যন্ত ম্যাচে টিকে থাকতে জানে। গার্ডিয়ানের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই টুর্নামেন্টে একাধিকবার দীর্ঘ সময় ধরে দর্শকদের মুগ্ধ করতে ব্যর্থ হলেও আনচেলত্তির সেই পুরোনো দর্শন—প্রতিপক্ষের ভুল কিংবা নিজের দলের কোনো তারকার অসাধারণ মুহূর্তের অপেক্ষায় থাকা—আবারও ফল দিয়েছে। রিয়াল মাদ্রিদে যে কৌশলে সাফল্য পেয়েছিলেন ইতালিয়ান কোচ, সেটিই যেন নতুন করে দেখা গেল সেলেসাওদের খেলায়। একই প্রতিবেদনে জাপানের পারফরম্যান্সেরও প্রশংসা করেছে গার্ডিয়ান। তাদের মতে, বিশ্বকাপের মঞ্চে এটাই ছিল জাপানের অন্যতম সেরা প্রদর্শনী। অন্যদিকে, জয়সূচক গোল করা গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লির ভূয়সী প্রশংসা করেছে সংবাদমাধ্যমটি।

দ্য নিউইয়র্ক টাইমস ম্যাচটিকে অভিহিত করেছে ‘রোমাঞ্চকর’ ও ‘নাটকীয়’ হিসেবে। তাদের প্রতিবেদনে বিশেষভাবে উঠে এসেছে মার্টিনেল্লির ৯৬তম মিনিটের গোল, যা ব্রাজিলকে শেষ ষোলোয় তুলে দেয়। মার্কিন সংবাদমাধ্যমটি কাসেমিরোর পারফরম্যান্স নিয়েও আলাদা বিশ্লেষণ করেছে। তাদের মতে, প্রথমার্ধে অভিজ্ঞ এই মিডফিল্ডারকে দেখে অনেকেই ভেবেছিলেন বিরতির পর তাকে তুলে নেওয়া হবে। কিন্তু আনচেলত্তি কৌশল বদলে কাসেমিরোকে আরও স্বাধীনভাবে খেলতে দেন। সেই সিদ্ধান্তই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে তার হেড থেকেই আসে সমতাসূচক গোল। নিউইয়র্ক টাইমস লিখেছে, কাসেমিরো আবারও প্রমাণ করলেন—প্রত্যাশাকে ভুল প্রমাণ করা যেন তার পুরোনো অভ্যাস।

স্পেনের জনপ্রিয় ক্রীড়া দৈনিক মার্কা ব্রাজিলের এই জয়কে তুলনা করেছে জাপানের বিখ্যাত অ্যানিমেশন ক্যাপ্টেন সুবাসা–র গল্পের সঙ্গে। তাদের ভাষায়, ম্যাচের সমাপ্তি ছিল যেন কোনো অ্যানিমেটেড চলচ্চিত্রের শেষ দৃশ্য। মার্কা আরও লিখেছে, বর্তমান ব্রাজিল হয়তো সবচেয়ে দৃষ্টিনন্দন দল নয়, কিন্তু তাদের রয়েছে অসাধারণ মান এবং জয় ছিনিয়ে আনার ক্ষমতা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সোনালু: গ্রীষ্মের রুক্ষতায় এক পশলা সোনালি সৌন্দর্যের ছোঁয়া

নাটকীয় প্রত্যাবর্তন, ব্রাজিলের জয়ে মুগ্ধ বিশ্ব গণমাধ্যম

আপডেট সময় : ০১:৪৮:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

জাপানের বিপক্ষে নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের পর শুধু শেষ ষোলোই নিশ্চিত করেনি ব্রাজিল, বরং বিশ্ব গণমাধ্যমেরও মনোযোগ কেড়েছে। শেষ মুহূর্তে গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লির গোলে ২-১ ব্যবধানের এই জয়কে বিশ্বের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যমগুলো ভিন্ন ভিন্ন বিশেষণে বর্ণনা করেছে। কারও কাছে এটি ‘মহাকাব্যিক’, কারও চোখে ‘রোমাঞ্চকর’, আবার কেউ দেখেছে ‘নাটকীয়’ এক ফুটবল নাট্যরূপ।

ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান মনে করছে, এবারের বিশ্বকাপে ব্রাজিল এখনও তাদের সেরা ফুটবল খেলতে পারেনি। তবু কার্লো আনচেলত্তির দলের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো, তারা শেষ পর্যন্ত ম্যাচে টিকে থাকতে জানে। গার্ডিয়ানের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই টুর্নামেন্টে একাধিকবার দীর্ঘ সময় ধরে দর্শকদের মুগ্ধ করতে ব্যর্থ হলেও আনচেলত্তির সেই পুরোনো দর্শন—প্রতিপক্ষের ভুল কিংবা নিজের দলের কোনো তারকার অসাধারণ মুহূর্তের অপেক্ষায় থাকা—আবারও ফল দিয়েছে। রিয়াল মাদ্রিদে যে কৌশলে সাফল্য পেয়েছিলেন ইতালিয়ান কোচ, সেটিই যেন নতুন করে দেখা গেল সেলেসাওদের খেলায়। একই প্রতিবেদনে জাপানের পারফরম্যান্সেরও প্রশংসা করেছে গার্ডিয়ান। তাদের মতে, বিশ্বকাপের মঞ্চে এটাই ছিল জাপানের অন্যতম সেরা প্রদর্শনী। অন্যদিকে, জয়সূচক গোল করা গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লির ভূয়সী প্রশংসা করেছে সংবাদমাধ্যমটি।

দ্য নিউইয়র্ক টাইমস ম্যাচটিকে অভিহিত করেছে ‘রোমাঞ্চকর’ ও ‘নাটকীয়’ হিসেবে। তাদের প্রতিবেদনে বিশেষভাবে উঠে এসেছে মার্টিনেল্লির ৯৬তম মিনিটের গোল, যা ব্রাজিলকে শেষ ষোলোয় তুলে দেয়। মার্কিন সংবাদমাধ্যমটি কাসেমিরোর পারফরম্যান্স নিয়েও আলাদা বিশ্লেষণ করেছে। তাদের মতে, প্রথমার্ধে অভিজ্ঞ এই মিডফিল্ডারকে দেখে অনেকেই ভেবেছিলেন বিরতির পর তাকে তুলে নেওয়া হবে। কিন্তু আনচেলত্তি কৌশল বদলে কাসেমিরোকে আরও স্বাধীনভাবে খেলতে দেন। সেই সিদ্ধান্তই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে তার হেড থেকেই আসে সমতাসূচক গোল। নিউইয়র্ক টাইমস লিখেছে, কাসেমিরো আবারও প্রমাণ করলেন—প্রত্যাশাকে ভুল প্রমাণ করা যেন তার পুরোনো অভ্যাস।

স্পেনের জনপ্রিয় ক্রীড়া দৈনিক মার্কা ব্রাজিলের এই জয়কে তুলনা করেছে জাপানের বিখ্যাত অ্যানিমেশন ক্যাপ্টেন সুবাসা–র গল্পের সঙ্গে। তাদের ভাষায়, ম্যাচের সমাপ্তি ছিল যেন কোনো অ্যানিমেটেড চলচ্চিত্রের শেষ দৃশ্য। মার্কা আরও লিখেছে, বর্তমান ব্রাজিল হয়তো সবচেয়ে দৃষ্টিনন্দন দল নয়, কিন্তু তাদের রয়েছে অসাধারণ মান এবং জয় ছিনিয়ে আনার ক্ষমতা।