বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানকে আন্তর্জাতিক মাদক চোরাচালানের জন্য একটি ভয়াবহ ঝুঁকির কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, এই মারাত্মক হুমকি মোকাবিলায় সরকার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন এবং সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।
শনিবার আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস উপলক্ষে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অ্যান্টি ড্রাগ সোসাইটি আয়োজিত এক মাদকবিরোধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আলাল বলেন, মাদক কেবল একজন ব্যক্তিকে নয়, বরং একটি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকেও ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দেয়।
সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, এশিয়ার তিনটি প্রধান মাদক উৎপাদন ও চোরাচালান অঞ্চল—গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গল (মিয়ানমার, লাওস ও থাইল্যান্ড), গোল্ডেন ক্রিসেন্ট (ইরান, আফগানিস্তান ও পাকিস্তান) এবং গোল্ডেন ওয়েজের মধ্যবর্তী অবস্থানে থাকায় আন্তর্জাতিক মাদক ব্যবসায়ী চক্র বাংলাদেশকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহার করছে। এই পরিস্থিতি দেশের জন্য ব্যাপক ঝুঁকি তৈরি করেছে।
সমাবেশে উপস্থিত অন্যান্য বক্তারাও মাদকের ভয়াবহতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং এর প্রতিরোধে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। তাঁরা মাদক চোরাচালান রোধে সীমান্তে কঠোর নজরদারি বাড়ানো, মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা এবং তরুণ সমাজকে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতন করতে দেশব্যাপী কার্যকর কর্মসূচি গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অ্যান্টি ড্রাগ সোসাইটির সভাপতি মো. আল হাদীর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে ডেইলি নিউ নেশনের উপদেষ্টা সম্পাদক সৈয়দ তোশাররফ আলী, ডিইউজের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, শিক্ষক নেতা অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম, জাতীয় মানবাধিকার পরিষদের চেয়ারম্যান প্রিন্সিপাল এ এস এম মোস্তফা কামালসহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং সচেতন নাগরিকেরা অংশ নেন। বক্তারা একমত পোষণ করেন যে, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সম্মিলিত প্রচেষ্টা অপরিহার্য।
রিপোর্টারের নাম 
























