ঢাকা ০৩:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

এল নিনোর প্রভাবে বর্ষায় ছন্দপতন: কম বৃষ্টি, বাড়বে তাপমাত্রা, উদ্বিগ্ন বিশেষজ্ঞরা

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব এবং প্রশান্ত মহাসাগরে এল নিনোর সক্রিয়তার কারণে চলতি বর্ষা মৌসুমের আবহাওয়ার স্বাভাবিকতায় বড় ধরনের ছন্দপতন ঘটেছে। এ নিয়ে জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) এবং সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক ফোরামের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বর্ষায় স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাত এবং তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

ইতিমধ্যে বর্ষাকালের স্বাভাবিক ছন্দপতন শুরু হয়েছে। বছরের দ্বিতীয় বৃষ্টিবহুল মাস জুনে দেশে গড়ে ৪৫৯ মিলিমিটার বৃষ্টি হওয়ার কথা থাকলেও, এবার ৪৭ শতাংশ কম বৃষ্টি হয়েছে। গত এক দশকের মধ্যে চলতি জুন মাসেই সবচেয়ে কম বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয় জুলাই মাসে—গড়ে ৫২৩ মিলিমিটার। তবে চলতি বছর জুলাই মাসেও কম বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়াবিদ আফরোজা সুলতানা জানান, বিগত এক দশকের মধ্যে এ ধরনের কম বৃষ্টিপাত আর কখনো লক্ষ্য করা যায়নি এবং এবার জুলাই মাসেও কম বৃষ্টি হতে পারে।

আবহাওয়াবিদ ড. আবুল কালাম মল্লিক বলেন, বর্তমানে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু এবার সময়মতো প্রবেশ করলেও সারা দেশে সেভাবে সক্রিয় হতে পারছে না। মাঝেমধ্যে বৃষ্টি হলেও তা উষ্ণ বৃষ্টি ঝরাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বৃষ্টি হলেও এবার বর্ষায় স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা থাকবে। এল নিনো সক্রিয় থাকায় সারা বিশ্বেই এর প্রভাব থাকবে, যার ফলে বর্ষাকালে থেমে থেমে বৃষ্টি হলেও বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেড়ে তাপমাত্রার তুলনায় বেশি ভ্যাপসা গরম অনুভূত হতে পারে।

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, এল নিনো হলো প্রশান্ত মহাসাগরের নিরক্ষীয় অঞ্চলের পানির অস্বাভাবিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি, যা বিশ্বজুড়ে বায়ুমণ্ডলের স্বাভাবিক চলাচলে পরিবর্তন ঘটায়। বর্তমানে এই প্রাকৃতিক প্রক্রিয়াটি জুন-আগস্ট মাসে ৮০ শতাংশ শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর সরাসরি প্রভাবে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে মৌসুমি বায়ুর স্বাভাবিক গতিপথ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, যা দেশে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিচ্ছে। মৌসুমি বায়ু দুর্বল হয়ে পড়ায় জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে যে পরিমাণ বৃষ্টি হওয়ার কথা, তা না হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, এল নিনোর বছরে বাংলাদেশে বার্ষিক বৃষ্টিপাত গড়ে প্রায় ১৪৫ মিলিমিটার পর্যন্ত কম হতে পারে। বৃষ্টির অভাবে বাতাসে জলীয় বাষ্পের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে, যার ফলে ভ্যাপসা গরমের তীব্রতা বাড়ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চীনের সামরিক বাহিনীতে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান: আইনসভা থেকে ৬ জেনারেল বরখাস্ত

এল নিনোর প্রভাবে বর্ষায় ছন্দপতন: কম বৃষ্টি, বাড়বে তাপমাত্রা, উদ্বিগ্ন বিশেষজ্ঞরা

আপডেট সময় : ০১:৩২:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব এবং প্রশান্ত মহাসাগরে এল নিনোর সক্রিয়তার কারণে চলতি বর্ষা মৌসুমের আবহাওয়ার স্বাভাবিকতায় বড় ধরনের ছন্দপতন ঘটেছে। এ নিয়ে জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) এবং সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক ফোরামের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বর্ষায় স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাত এবং তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

ইতিমধ্যে বর্ষাকালের স্বাভাবিক ছন্দপতন শুরু হয়েছে। বছরের দ্বিতীয় বৃষ্টিবহুল মাস জুনে দেশে গড়ে ৪৫৯ মিলিমিটার বৃষ্টি হওয়ার কথা থাকলেও, এবার ৪৭ শতাংশ কম বৃষ্টি হয়েছে। গত এক দশকের মধ্যে চলতি জুন মাসেই সবচেয়ে কম বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয় জুলাই মাসে—গড়ে ৫২৩ মিলিমিটার। তবে চলতি বছর জুলাই মাসেও কম বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়াবিদ আফরোজা সুলতানা জানান, বিগত এক দশকের মধ্যে এ ধরনের কম বৃষ্টিপাত আর কখনো লক্ষ্য করা যায়নি এবং এবার জুলাই মাসেও কম বৃষ্টি হতে পারে।

আবহাওয়াবিদ ড. আবুল কালাম মল্লিক বলেন, বর্তমানে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু এবার সময়মতো প্রবেশ করলেও সারা দেশে সেভাবে সক্রিয় হতে পারছে না। মাঝেমধ্যে বৃষ্টি হলেও তা উষ্ণ বৃষ্টি ঝরাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বৃষ্টি হলেও এবার বর্ষায় স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা থাকবে। এল নিনো সক্রিয় থাকায় সারা বিশ্বেই এর প্রভাব থাকবে, যার ফলে বর্ষাকালে থেমে থেমে বৃষ্টি হলেও বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেড়ে তাপমাত্রার তুলনায় বেশি ভ্যাপসা গরম অনুভূত হতে পারে।

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, এল নিনো হলো প্রশান্ত মহাসাগরের নিরক্ষীয় অঞ্চলের পানির অস্বাভাবিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি, যা বিশ্বজুড়ে বায়ুমণ্ডলের স্বাভাবিক চলাচলে পরিবর্তন ঘটায়। বর্তমানে এই প্রাকৃতিক প্রক্রিয়াটি জুন-আগস্ট মাসে ৮০ শতাংশ শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর সরাসরি প্রভাবে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে মৌসুমি বায়ুর স্বাভাবিক গতিপথ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, যা দেশে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিচ্ছে। মৌসুমি বায়ু দুর্বল হয়ে পড়ায় জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে যে পরিমাণ বৃষ্টি হওয়ার কথা, তা না হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, এল নিনোর বছরে বাংলাদেশে বার্ষিক বৃষ্টিপাত গড়ে প্রায় ১৪৫ মিলিমিটার পর্যন্ত কম হতে পারে। বৃষ্টির অভাবে বাতাসে জলীয় বাষ্পের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে, যার ফলে ভ্যাপসা গরমের তীব্রতা বাড়ছে।