দেশের বৃহত্তম চিকিৎসাকেন্দ্র ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চরম অব্যবস্থা ও রোগীদের অন্তহীন ভোগান্তি চরমে উঠেছে। জরুরি বিভাগের ভেতরেই মাদুর বিছিয়ে প্রায় ৪৫ জন রোগী তাদের স্বজনদের নিয়ে শুয়ে আছেন। নিচতলা থেকে তৃতীয় তলা পর্যন্ত একই চিত্র দেখা যায়। নিউরো সার্জারি বিভাগের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গাতেও টয়লেটের পাশে রোগীদের ঠাঁই নিতে হচ্ছে। টয়লেটের নোংরা পানি, ডাস্টবিনের উচ্ছিষ্ট, ময়লা-আবর্জনা এবং বৃষ্টির পানি মিশে একাকার হয়ে এক অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এই দুর্গন্ধময়, কাদাভর্তি পরিবেশে জীবন বাঁচানোর সংগ্রাম করছেন রোগীরা। দৃশ্যটি দেখে মনে হয় যেন এটি কোনো হাসপাতাল নয়, বরং এক ময়লার ভাগাড়।
শিশু ওয়ার্ডেও একই রকম ভয়াবহ চিত্র। ১৮ শয্যার একটি কক্ষে ১১৫ শিশু, ১৯ শয্যার কক্ষে ৯১ জন এবং ১৪ শয্যার স্থানে ৮২ শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। অর্থাৎ, প্রতিটি কক্ষেই শয্যার তুলনায় পাঁচ থেকে ছয় গুণ বেশি রোগী ভর্তি। হাম, নিউমোনিয়া, ডেঙ্গু, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া ও কিডনিসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত শিশুদের নিয়ে তাদের স্বজনরা দিশেহারা। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ জীবন বাঁচানোর শেষ আশ্রয় হিসেবে এই হাসপাতালে ছুটে আসেন। রোগীর অস্বাভাবিক চাপের কারণে হাসপাতালের ধারণক্ষমতার চেয়ে পাঁচ থেকে ছয় গুণ বেশি রোগী চিকিৎসা নেওয়ায় প্রতিটি ওয়ার্ডে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। অনেক রোগীকে মেঝেতে, করিডোরে, সিঁড়ির পাশে, এমনকি শৌচাগারের পাশেও চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
হাসপাতালের বেসিন ও ওয়াশরুমগুলো অত্যন্ত নোংরা এবং ভাঙাচোরা। প্রায়শই সেগুলোতে পানি বা আলো থাকে না। ওয়ার্ডগুলোতে টিস্যু, তুলা, কাগজের টুকরা, পানির বোতল, ময়লা ভর্তি পলিথিন ব্যাগ, ফলের খোসা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে। দেয়ালগুলোতে কফ, থুতু এবং পানের পিকের ছোপ দেখা যায়। ডাস্টবিনগুলো ময়লা-আবর্জনায় স্তূপ হয়ে আছে, যা মশা-মাছির উপদ্রব বাড়াচ্ছে। এই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের মধ্যেই রোগীদের চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এছাড়া, বহির্বিভাগ, জরুরি বিভাগ, টিকিট কাউন্টার এবং বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য রোগীদের দীর্ঘ সময় ধরে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। অতিরিক্ত রোগীর চাপ এবং দীর্ঘসূত্রিতা চিকিৎসাসেবার মানকে আরও ম্লান করে দিচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 

























