ঢাকা ১১:২০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

রাজনগরে বিলুপ্তির পথে ঐতিহ্যবাহী জারিগান ও লাঠিখেলা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:০১:৩৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

আধুনিকতার দাপট আর আকাশ সংস্কৃতির প্রভাবে মৌলভীবাজারের রাজনগর থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে গ্রাম-বাংলার প্রাচীন ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি। এক সময় পবিত্র আশুরা বা মহররম উপলক্ষে এ অঞ্চলে জারিগান ও লাঠিখেলার যে জমজমাট আসর বসত, তা এখন বিলুপ্তির পথে। নতুন প্রজন্মের অনাগ্রহ আর যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে কয়েক দশকের পুরনো এই লোকজ সংস্কৃতি এখন কেবলই স্মৃতিতে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ছে।

স্থানীয়রা জানান, রাজনগর উপজেলার দক্ষিণ খারপাড়া মোকামবাড়িতে এক সময় ১০ মহররম দিনব্যাপী নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হতো। কারবালার শোকাবহ ঘটনাকে কেন্দ্র করে জারিগানের মাধ্যমে ইমাম হোসেনের বীরত্ব আর ত্যাগের কাহিনী বর্ণনা করতেন শিল্পীরা। সেই বিষাদমাখা সুর আর বর্ণনায় এক শোকাতুর পরিবেশ তৈরি হতো। জারিগানের পাশাপাশি লাঠিখেলার রোমাঞ্চকর লড়াই দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ভিড় জমাতেন। ঢোল আর লাঠির তালে তালে লাটিয়ালদের কসরত দর্শকদের মুগ্ধ করত।

বর্তমানে সেই জৌলুস আর নেই। এক সময়কার নামী লাটিয়াল ও জারিগান শিল্পীদের অনেকেই আজ বেঁচে নেই, আর যারা আছেন তারাও বয়সের ভারে ন্যুব্জ। গ্রামীণ বিনোদনের অন্যতম এই মাধ্যমটি রক্ষায় কোনো প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ না থাকায় ব্যথিত প্রবীণরা। তারা মনে করেন, বাঙালির এই নিজস্ব ঐতিহ্যগুলো টিকিয়ে রাখতে হলে তরুণ সমাজকে আগ্রহী করে তোলার পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি সাংস্কৃতিক উদ্যোগ প্রয়োজন। অন্যথায় অচিরেই ইতিহাসের পাতা থেকে মুছে যাবে রাজনগরের এই সমৃদ্ধ লোকসংস্কৃতি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আশুরার ইতিহাস: কারবালা থেকে কায়রো পর্যন্ত শির মোবারকের যাত্রা

রাজনগরে বিলুপ্তির পথে ঐতিহ্যবাহী জারিগান ও লাঠিখেলা

আপডেট সময় : ১০:০১:৩৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

আধুনিকতার দাপট আর আকাশ সংস্কৃতির প্রভাবে মৌলভীবাজারের রাজনগর থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে গ্রাম-বাংলার প্রাচীন ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি। এক সময় পবিত্র আশুরা বা মহররম উপলক্ষে এ অঞ্চলে জারিগান ও লাঠিখেলার যে জমজমাট আসর বসত, তা এখন বিলুপ্তির পথে। নতুন প্রজন্মের অনাগ্রহ আর যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে কয়েক দশকের পুরনো এই লোকজ সংস্কৃতি এখন কেবলই স্মৃতিতে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ছে।

স্থানীয়রা জানান, রাজনগর উপজেলার দক্ষিণ খারপাড়া মোকামবাড়িতে এক সময় ১০ মহররম দিনব্যাপী নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হতো। কারবালার শোকাবহ ঘটনাকে কেন্দ্র করে জারিগানের মাধ্যমে ইমাম হোসেনের বীরত্ব আর ত্যাগের কাহিনী বর্ণনা করতেন শিল্পীরা। সেই বিষাদমাখা সুর আর বর্ণনায় এক শোকাতুর পরিবেশ তৈরি হতো। জারিগানের পাশাপাশি লাঠিখেলার রোমাঞ্চকর লড়াই দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ভিড় জমাতেন। ঢোল আর লাঠির তালে তালে লাটিয়ালদের কসরত দর্শকদের মুগ্ধ করত।

বর্তমানে সেই জৌলুস আর নেই। এক সময়কার নামী লাটিয়াল ও জারিগান শিল্পীদের অনেকেই আজ বেঁচে নেই, আর যারা আছেন তারাও বয়সের ভারে ন্যুব্জ। গ্রামীণ বিনোদনের অন্যতম এই মাধ্যমটি রক্ষায় কোনো প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ না থাকায় ব্যথিত প্রবীণরা। তারা মনে করেন, বাঙালির এই নিজস্ব ঐতিহ্যগুলো টিকিয়ে রাখতে হলে তরুণ সমাজকে আগ্রহী করে তোলার পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি সাংস্কৃতিক উদ্যোগ প্রয়োজন। অন্যথায় অচিরেই ইতিহাসের পাতা থেকে মুছে যাবে রাজনগরের এই সমৃদ্ধ লোকসংস্কৃতি।