ঢাকা ১২:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

অসহায় বৃদ্ধার মানবেতর জীবন: রোগ, ক্ষুধা ও অবহেলায় দিনযাপন

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:১১:৫২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

টাঙ্গাইলের গোপালপুর পৌরসভার ভূয়ারপাড়া এলাকায় রাস্তার পাশে দুই ফালি টিনে ঘেরা একটি ছোট জরাজীর্ণ ঘরে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন ৭০ বছর বয়সী বৃদ্ধা আনোয়ারা বেগম। ঘরটিতে নেই কোনো দরজা, জানালা বা বিদ্যুতের সুব্যবস্থা, যার ফলে দিনের আলোও ঠিকমতো প্রবেশ করে না। অন্ধকার, স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে একাকী বসবাস করা এই বৃদ্ধার জীবন দারিদ্র্য, অসুস্থতা ও অবহেলার এক করুণ প্রতিচ্ছবি বহন করছে।

প্রায় ৩৮ বছর আগে স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে চরম অভাব-অনটনের মধ্য দিয়ে জীবনযুদ্ধ চালিয়ে আসছেন আনোয়ারা বেগম। বয়সের ভারে ন্যুব্জ হওয়ার পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত। ঠিকমতো হাঁটাচলা করতে না পারায় এবং ভিক্ষা করার মতো শারীরিক সক্ষমতাও হারিয়ে ফেলায় তার জীবন যেন অন্যের দয়ার উপর নির্ভরশীল। খাবার পেলে খান, না পেলে প্রায়ই অনাহারে দিন কাটে তার।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আনোয়ারা বেগমের বিয়ে হয়েছিল উপজেলার মাদারজানী এলাকায়। স্বামীর মৃত্যুর পর দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে সংগ্রাম করে জীবন পার করেছেন। অনেক কষ্টে দুই মেয়ের বিয়ে দিলেও একমাত্র ছেলে বর্তমানে শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করেন। স্বামীর বাড়ির সামান্য জমি বিক্রি হয়ে যাওয়ায় তিনি এখন সম্পূর্ণ আশ্রয়হীন ও অসহায়।

দীর্ঘদিন রাস্তার পাশে দুটি ছেঁড়া পলিথিন টাঙিয়ে মানবেতর অবস্থায় বসবাস করার পর স্থানীয় কয়েকজন মানবিক যুবকের উদ্যোগে তার জন্য ছোট একটি টিনের ঘর নির্মাণ করা হলেও সেখানে নেই দরজা, জানালা, বিদ্যুৎ কিংবা বসবাসের ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা। বর্তমানে তার ঘরে কোনো স্যানিটারি টয়লেট, টিউবওয়েল বা সুপেয় পানির ব্যবস্থা নেই। রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় অন্ধকারে ও মশার উপদ্রবে চরম দুর্ভোগে রাত কাটাতে হয় তাকে। স্থানীয়দের অভিযোগ, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) না থাকায় আনোয়ারা বেগম বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা কিংবা সরকারের অন্যান্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির কোনো সুবিধা পাননি, ফলে রাষ্ট্রীয় সহায়তা থেকেও তিনি দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত।

আনোয়ারা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘অনেক দিন না খেয়ে কাটিয়েছি। এমন ঈদও গেছে, যেদিন সেমাই বা মাংস খেতে পারিনি। আমি অসুস্থ, চিকিৎসার প্রয়োজন। রাতে একা থাকতে খুব ভয় লাগে।’ তিনি সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সমাজের বিত্তবানদের কাছে সহযোগিতা কামনা করেছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এসএসসি পরীক্ষার সময়সূচি এগিয়ে আসায় বিপাকে পরীক্ষার্থীরা, সিলেবাস নিয়ে দুশ্চিন্তা

অসহায় বৃদ্ধার মানবেতর জীবন: রোগ, ক্ষুধা ও অবহেলায় দিনযাপন

আপডেট সময় : ১১:১১:৫২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

টাঙ্গাইলের গোপালপুর পৌরসভার ভূয়ারপাড়া এলাকায় রাস্তার পাশে দুই ফালি টিনে ঘেরা একটি ছোট জরাজীর্ণ ঘরে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন ৭০ বছর বয়সী বৃদ্ধা আনোয়ারা বেগম। ঘরটিতে নেই কোনো দরজা, জানালা বা বিদ্যুতের সুব্যবস্থা, যার ফলে দিনের আলোও ঠিকমতো প্রবেশ করে না। অন্ধকার, স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে একাকী বসবাস করা এই বৃদ্ধার জীবন দারিদ্র্য, অসুস্থতা ও অবহেলার এক করুণ প্রতিচ্ছবি বহন করছে।

প্রায় ৩৮ বছর আগে স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে চরম অভাব-অনটনের মধ্য দিয়ে জীবনযুদ্ধ চালিয়ে আসছেন আনোয়ারা বেগম। বয়সের ভারে ন্যুব্জ হওয়ার পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত। ঠিকমতো হাঁটাচলা করতে না পারায় এবং ভিক্ষা করার মতো শারীরিক সক্ষমতাও হারিয়ে ফেলায় তার জীবন যেন অন্যের দয়ার উপর নির্ভরশীল। খাবার পেলে খান, না পেলে প্রায়ই অনাহারে দিন কাটে তার।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আনোয়ারা বেগমের বিয়ে হয়েছিল উপজেলার মাদারজানী এলাকায়। স্বামীর মৃত্যুর পর দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে সংগ্রাম করে জীবন পার করেছেন। অনেক কষ্টে দুই মেয়ের বিয়ে দিলেও একমাত্র ছেলে বর্তমানে শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করেন। স্বামীর বাড়ির সামান্য জমি বিক্রি হয়ে যাওয়ায় তিনি এখন সম্পূর্ণ আশ্রয়হীন ও অসহায়।

দীর্ঘদিন রাস্তার পাশে দুটি ছেঁড়া পলিথিন টাঙিয়ে মানবেতর অবস্থায় বসবাস করার পর স্থানীয় কয়েকজন মানবিক যুবকের উদ্যোগে তার জন্য ছোট একটি টিনের ঘর নির্মাণ করা হলেও সেখানে নেই দরজা, জানালা, বিদ্যুৎ কিংবা বসবাসের ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা। বর্তমানে তার ঘরে কোনো স্যানিটারি টয়লেট, টিউবওয়েল বা সুপেয় পানির ব্যবস্থা নেই। রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় অন্ধকারে ও মশার উপদ্রবে চরম দুর্ভোগে রাত কাটাতে হয় তাকে। স্থানীয়দের অভিযোগ, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) না থাকায় আনোয়ারা বেগম বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা কিংবা সরকারের অন্যান্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির কোনো সুবিধা পাননি, ফলে রাষ্ট্রীয় সহায়তা থেকেও তিনি দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত।

আনোয়ারা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘অনেক দিন না খেয়ে কাটিয়েছি। এমন ঈদও গেছে, যেদিন সেমাই বা মাংস খেতে পারিনি। আমি অসুস্থ, চিকিৎসার প্রয়োজন। রাতে একা থাকতে খুব ভয় লাগে।’ তিনি সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সমাজের বিত্তবানদের কাছে সহযোগিতা কামনা করেছেন।