যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে ১৬ দিনব্যাপী জাতীয় উদযাপনের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ওয়াশিংটনের ন্যাশনাল মলে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া তার ভাষণকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সমালোচকদের অভিযোগ, এই জাতীয় উদযাপনের মঞ্চকে ট্রাম্প নির্বাচনি প্রচারণার মতো ব্যবহার করেছেন।
ভাষণে ট্রাম্প দাবি করেন, স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তির প্রাক্কালে যুক্তরাষ্ট্র নতুন শক্তি ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে এবং সম্প্রতি নানা সংকট মোকাবিলা করেও দেশটি বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী ও আলোচিত রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। তিনি মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানবিরোধী সামরিক পদক্ষেপকে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেন। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটকের ঘটনাকেও তিনি ইতিহাসের অন্যতম সফল সামরিক অভিযান বলে বর্ণনা করেন।
দেশীয় বিষয়ে ট্রাম্প অর্থনৈতিক অগ্রগতির দাবি তুলে ধরে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ১৯ ট্রিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ এসেছে বলে দাবি করলেও এ পরিসংখ্যানের যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এই আয়োজনের অংশ হিসেবে শুরু হয়েছে ‘গ্রেট আমেরিকান স্টেট ফেয়ার’, যা আগামী ১০ জুলাই পর্যন্ত চলবে। মেলায় যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্য ও ৬টি অঞ্চল তাদের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং বিশেষ বৈশিষ্ট্য তুলে ধরছে। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, এখানে বিভিন্ন অঞ্চলের খাবার, সাংস্কৃতিক প্রদর্শনী, সামরিক ব্যান্ডের পরিবেশনা, বিমান মহড়া, ১১০ ফুট উচ্চতার ফেরিস হুইল এবং দেশাত্মবোধক নানা আয়োজন রয়েছে।
তবে সমালোচকদের মতে, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও রাজতন্ত্রবিরোধী সংগ্রামের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা উদযাপনকে ট্রাম্প ব্যক্তিগত রাজনৈতিক প্রচারের অংশে পরিণত করেছেন। তাদের দাবি, জাতীয় অনুষ্ঠান ও রাজনৈতিক প্রচারণার মধ্যকার সীমারেখা ক্রমেই অস্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এই বিতর্ক আরও বাড়ে যখন কয়েকজন শিল্পী অংশগ্রহণ থেকে সরে দাঁড়ান, তাদের অভিযোগ ছিল আয়োজনটি অতিমাত্রায় রাজনৈতিক হয়ে উঠেছে। পরে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেকে অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
রিপোর্টারের নাম 






















