ঢাকা ০৬:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

শিবগঞ্জে ঐতিহ্যবাহী দশহারা গঙ্গাস্নান: পুণ্যার্থীদের উপচে পড়া ভিড়

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাটে পাগলা নদীর তীরে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ঐতিহ্যবাহী জাহ্নমণির দশহারা গঙ্গাস্নান উৎসব। বুধবার ভোর থেকেই পাপমোচন ও আত্মশুদ্ধির আশায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা হাজার হাজার নারী-পুরুষ এই পুণ্যস্নানে অংশ নেন। দিনভর গঙ্গা দেবীর পূজা-অর্চনা, বিশেষ প্রার্থনা, গীতাপাঠ ও কীর্তনের মধ্য দিয়ে এই ধর্মীয় উৎসব পালন করা হয়।

প্রতি বছর জ্যৈষ্ঠ মাসের শেষ ভাগে কানসাটের গঙ্গা আশ্রম ও গুজরঘাট এলাকায় এই গঙ্গাস্নানের আয়োজন করা হয়। পূর্বপুরুষদের আমল থেকে চলে আসা এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে দূর-দূরান্ত থেকে ভক্তরা এখানে সমবেত হন। স্নান শেষে পুণ্যার্থীরা গঙ্গা দেবীর চরণে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন এবং দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় প্রার্থনা করেন।

গঙ্গাস্নান উপলক্ষ্যে নদীর তীরে বিশাল এক গ্রামীণ মেলার আয়োজন করা হয়েছে। মেলায় মাটির তৈরি খেলনা, কাঠের আসবাবপত্র, ঘর সাজানোর সামগ্রী ও নানা ধরনের মুখরোচক খাবারের পসরা সাজিয়ে বসেছেন দোকানিরা। মেলা প্রাঙ্গণে কীর্তনের সুর উৎসবের আমেজে এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে। স্থানীয়দের মতে, এই উৎসব কেবল ধর্মীয় আচার নয়, বরং এটি এই অঞ্চলের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণ।

অনুষ্ঠান সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। কানসাট ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে স্বেচ্ছাসেবক ও গ্রাম পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া জেলা পুলিশ ও গোয়েন্দা শাখার সদস্যরা পুরো এলাকায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। উৎসবস্থল ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার থাকায় নির্বিঘ্নে উৎসবে অংশ নিতে পারছেন ভক্তরা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাউজানে জনপ্রতিনিধিদের অবহেলা: স্বেচ্ছাশ্রমে সড়ক সংস্কার করলেন গ্রামবাসী

শিবগঞ্জে ঐতিহ্যবাহী দশহারা গঙ্গাস্নান: পুণ্যার্থীদের উপচে পড়া ভিড়

আপডেট সময় : ০৫:১২:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাটে পাগলা নদীর তীরে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ঐতিহ্যবাহী জাহ্নমণির দশহারা গঙ্গাস্নান উৎসব। বুধবার ভোর থেকেই পাপমোচন ও আত্মশুদ্ধির আশায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা হাজার হাজার নারী-পুরুষ এই পুণ্যস্নানে অংশ নেন। দিনভর গঙ্গা দেবীর পূজা-অর্চনা, বিশেষ প্রার্থনা, গীতাপাঠ ও কীর্তনের মধ্য দিয়ে এই ধর্মীয় উৎসব পালন করা হয়।

প্রতি বছর জ্যৈষ্ঠ মাসের শেষ ভাগে কানসাটের গঙ্গা আশ্রম ও গুজরঘাট এলাকায় এই গঙ্গাস্নানের আয়োজন করা হয়। পূর্বপুরুষদের আমল থেকে চলে আসা এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে দূর-দূরান্ত থেকে ভক্তরা এখানে সমবেত হন। স্নান শেষে পুণ্যার্থীরা গঙ্গা দেবীর চরণে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন এবং দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় প্রার্থনা করেন।

গঙ্গাস্নান উপলক্ষ্যে নদীর তীরে বিশাল এক গ্রামীণ মেলার আয়োজন করা হয়েছে। মেলায় মাটির তৈরি খেলনা, কাঠের আসবাবপত্র, ঘর সাজানোর সামগ্রী ও নানা ধরনের মুখরোচক খাবারের পসরা সাজিয়ে বসেছেন দোকানিরা। মেলা প্রাঙ্গণে কীর্তনের সুর উৎসবের আমেজে এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে। স্থানীয়দের মতে, এই উৎসব কেবল ধর্মীয় আচার নয়, বরং এটি এই অঞ্চলের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণ।

অনুষ্ঠান সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। কানসাট ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে স্বেচ্ছাসেবক ও গ্রাম পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া জেলা পুলিশ ও গোয়েন্দা শাখার সদস্যরা পুরো এলাকায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। উৎসবস্থল ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার থাকায় নির্বিঘ্নে উৎসবে অংশ নিতে পারছেন ভক্তরা।