ঢাকা ০৬:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

নিরাপদ সবজি উৎপাদনে বাকৃবিতে জৈব বালাইনাশক কর্মশালা শুরু

নিরাপদ সবজি উৎপাদন নিশ্চিত করতে পরিবেশবান্ধব জৈব বালাইনাশকের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং এ বিষয়ক গবেষণার সক্ষমতা বাড়াতে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) দুই দিনব্যাপী এক প্রশিক্ষণ কর্মশালা শুরু হয়েছে। শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ব বিভাগের এমএস শ্রেণিকক্ষে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়। ‘ডেভেলপমেন্ট অব কমার্শিয়াল বায়োপেস্টিসাইড বেইজড অন নেটিভ এনটোমোপ্যাথোজেনিক ফাঙ্গাই (ইপিএফ) ফর সেইফ ভেজিটেবল প্রোডাকশন থ্রু একাডেমিয়া-ইন্ডাস্ট্রি কোলাবোরেশন’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় হিট-এটিএফের অর্থায়নে এটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।

কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাকৃবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া। এছাড়াও প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আমির হোসেন এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে কৃষি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. জি এম মুজিবর রহমান উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কীটতত্ত্ব বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. কৃষ্ণা রানী দাস। স্বাগত বক্তব্য দেন প্রকল্পের সাব-প্রকল্প ব্যবস্থাপক (এসপিএম) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তোফাজ্জল হোসেন হাওলাদার।

অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তোফাজ্জল হোসেন হাওলাদার জানান, কৃষিক্ষেত্রে রাসায়নিক বালাইনাশকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে মুক্তি পেতে পরিবেশবান্ধব জৈব বালাইনাশকের উন্নয়নই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। তিনি বলেন, গবেষণা ও শিল্প খাতের সমন্বয়ের মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন এবং একটি টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আমির হোসেন বলেন, কৃষির উন্নয়নে উদ্ভাবনী গবেষণার কোনো বিকল্প নেই। গবেষণার সুফল তখনই কৃষকের কাছে পৌঁছায়, যখন তা সহজলভ্য, নির্ভুল ও সাশ্রয়ী প্রযুক্তিতে রূপান্তরিত হয়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি তরুণ গবেষক ও শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি গবেষণার মানোন্নয়ন এবং নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনে উৎসাহিত করবে, যা দেশের কৃষিখাতের জন্য দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে সহায়ক হবে।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া জোর দিয়ে বলেন, এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী একটি প্রকল্প। তিনি দেশীয় পণ্যের ব্যবহারে উৎসাহ দেন এবং বলেন, দেশীয় পণ্য হারিয়ে গেলে আমরা বিদেশি পণ্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ব। তাই দেশীয় কৃষিপণ্য ও প্রযুক্তির উন্নয়নে আরও বেশি কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। গবেষকদের দেশীয় উপাদান ব্যবহার করে জৈব বালাইনাশক উৎপাদনে এগিয়ে আসার গুরুত্ব তুলে ধরেন উপাচার্য।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্বকাপে টিকে থাকার লড়াই: কুরাসাওয়ের সামনে ইকুয়েডর, দুই দলেরই বাঁচা-মরার ম্যাচ

নিরাপদ সবজি উৎপাদনে বাকৃবিতে জৈব বালাইনাশক কর্মশালা শুরু

আপডেট সময় : ০৫:০৪:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

নিরাপদ সবজি উৎপাদন নিশ্চিত করতে পরিবেশবান্ধব জৈব বালাইনাশকের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং এ বিষয়ক গবেষণার সক্ষমতা বাড়াতে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) দুই দিনব্যাপী এক প্রশিক্ষণ কর্মশালা শুরু হয়েছে। শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ব বিভাগের এমএস শ্রেণিকক্ষে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়। ‘ডেভেলপমেন্ট অব কমার্শিয়াল বায়োপেস্টিসাইড বেইজড অন নেটিভ এনটোমোপ্যাথোজেনিক ফাঙ্গাই (ইপিএফ) ফর সেইফ ভেজিটেবল প্রোডাকশন থ্রু একাডেমিয়া-ইন্ডাস্ট্রি কোলাবোরেশন’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় হিট-এটিএফের অর্থায়নে এটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।

কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাকৃবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া। এছাড়াও প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আমির হোসেন এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে কৃষি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. জি এম মুজিবর রহমান উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কীটতত্ত্ব বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. কৃষ্ণা রানী দাস। স্বাগত বক্তব্য দেন প্রকল্পের সাব-প্রকল্প ব্যবস্থাপক (এসপিএম) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তোফাজ্জল হোসেন হাওলাদার।

অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তোফাজ্জল হোসেন হাওলাদার জানান, কৃষিক্ষেত্রে রাসায়নিক বালাইনাশকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে মুক্তি পেতে পরিবেশবান্ধব জৈব বালাইনাশকের উন্নয়নই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। তিনি বলেন, গবেষণা ও শিল্প খাতের সমন্বয়ের মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন এবং একটি টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আমির হোসেন বলেন, কৃষির উন্নয়নে উদ্ভাবনী গবেষণার কোনো বিকল্প নেই। গবেষণার সুফল তখনই কৃষকের কাছে পৌঁছায়, যখন তা সহজলভ্য, নির্ভুল ও সাশ্রয়ী প্রযুক্তিতে রূপান্তরিত হয়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি তরুণ গবেষক ও শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি গবেষণার মানোন্নয়ন এবং নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনে উৎসাহিত করবে, যা দেশের কৃষিখাতের জন্য দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে সহায়ক হবে।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া জোর দিয়ে বলেন, এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী একটি প্রকল্প। তিনি দেশীয় পণ্যের ব্যবহারে উৎসাহ দেন এবং বলেন, দেশীয় পণ্য হারিয়ে গেলে আমরা বিদেশি পণ্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ব। তাই দেশীয় কৃষিপণ্য ও প্রযুক্তির উন্নয়নে আরও বেশি কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। গবেষকদের দেশীয় উপাদান ব্যবহার করে জৈব বালাইনাশক উৎপাদনে এগিয়ে আসার গুরুত্ব তুলে ধরেন উপাচার্য।