ঢাকা ০২:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় দখল ও ভরাটে মৃতপ্রায় ৪ খাল, লবণচাষ ব্যাহত

কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলায় প্রধান পিলটকাটা খালসহ চারটি খাল দখল ও ভরাটের কারণে মৃতপ্রায় হয়ে পড়েছে। প্রস্তাবিত খনন প্রক্রিয়া ধীরগতির হওয়ায় উপজেলার প্রায় ৫ হাজার একর জমির লবণচাষ ব্যাহত হচ্ছে। খালের পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় লবণ উৎপাদন কমে যাচ্ছে এবং কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

উপজেলার চারটি ইউনিয়ন – বড়ঘোপ, কৈয়ারবিল, লেমশীখালী ও উত্তর ধুরুং – হয়ে সাগরে মিশেছে পিলটকাটা খাল। এই খালের পানি ব্যবহার করে দ্বীপের প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্লুইসগেটের মাধ্যমে লবণাক্ত পানি সরবরাহ করে লবণ চাষ করা হয়। খালের তিনটি শাখা হলো দক্ষিণ ধুরুং ডিংগাভাঙা, লেমশীখালী কাজীর পাড়া এবং উত্তর ধুরুং কালার মা পাড়া খাল। ভাটার সময় এই খালগুলোতে পানি থাকে না এবং ক্রমশ ভরাট হয়ে যাচ্ছে। প্রভাবশালী লবণচাষিরা খালের উভয় পাড়ে বাঁধ দিয়ে নিজেদের লবণ মাঠ বাড়িয়ে নিয়েছেন, ফলে খালগুলো সরু ও মৃতপ্রায় হয়ে পড়েছে।

লবণচাষি নুরুল কবির জানান, খালের পলিমাটি জমে ভরাট হয়ে গেছে এবং দুই পাশে লবণের মাঠ বাড়ানোর কারণে এখন এটি নামমাত্র খালে পরিণত হয়েছে। সময়মতো পানি না জমায় লবণ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। তিনি খালগুলো খননের দাবি জানান। প্রাইভেট সার্ভেয়ার মোহাম্মদ জকরিয়া (আমিন) বলেন, উপজেলার প্রধান পিলটকাটা খালটি বিএস মতে প্রায় পাঁচ দশক আগে ৩০০ থেকে ৩৫০ ফুট প্রশস্ত ছিল, যা বর্তমানে ১০০ থেকে ১৫০ ফুটে দাঁড়িয়েছে। দখল ও ভরাটের কারণে খালগুলো মৃতপ্রায়। খনন উদ্যোগ নেওয়া হলে লবণ চাষে পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ এবং পানি নিষ্কাশনের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

উপজেলা স্থানীয় প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী সোহেল রানা জানান, পিলটকাটা খাল ১৫ কিলোমিটার এবং কাজীর পাড়া খাল সাড়ে ৩ কিলোমিটার খননের জন্য ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। গত বছর চাহিদাপত্র অনুযায়ী, পিলটকাটা খালের জন্য ৬ কোটি ৩০ লাখ এবং কাজীর পাড়া খালের জন্য ১ কোটি ৪৭ লাখ টাকা সম্ভাব্য ব্যয় ধরে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এই প্রকল্পে খালের পাড়ে কয়েক হাজার গাছ লাগানো হবে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ইকবাল হাসান জানান, দক্ষিণ ধুরুং ইউনিয়নের ডিংগাভাঙা খালে ৩৪২০ মিটার এবং উত্তর ধুরুং কালারমা পাড়া খালে ১১০০ মিটার খননের জন্য যথাক্রমে ১ কোটি ৭ লাখ এবং ৩৮ লাখ ৬৬ হাজার টাকা সম্ভাব্য ব্যয় ধরে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে কর্মসূচি প্রকল্পের জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এই বরাদ্দের সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি জানান।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে আপোষ নয়: সাঈদ আল নোমান

কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় দখল ও ভরাটে মৃতপ্রায় ৪ খাল, লবণচাষ ব্যাহত

আপডেট সময় : ১২:৪১:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলায় প্রধান পিলটকাটা খালসহ চারটি খাল দখল ও ভরাটের কারণে মৃতপ্রায় হয়ে পড়েছে। প্রস্তাবিত খনন প্রক্রিয়া ধীরগতির হওয়ায় উপজেলার প্রায় ৫ হাজার একর জমির লবণচাষ ব্যাহত হচ্ছে। খালের পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় লবণ উৎপাদন কমে যাচ্ছে এবং কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

উপজেলার চারটি ইউনিয়ন – বড়ঘোপ, কৈয়ারবিল, লেমশীখালী ও উত্তর ধুরুং – হয়ে সাগরে মিশেছে পিলটকাটা খাল। এই খালের পানি ব্যবহার করে দ্বীপের প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্লুইসগেটের মাধ্যমে লবণাক্ত পানি সরবরাহ করে লবণ চাষ করা হয়। খালের তিনটি শাখা হলো দক্ষিণ ধুরুং ডিংগাভাঙা, লেমশীখালী কাজীর পাড়া এবং উত্তর ধুরুং কালার মা পাড়া খাল। ভাটার সময় এই খালগুলোতে পানি থাকে না এবং ক্রমশ ভরাট হয়ে যাচ্ছে। প্রভাবশালী লবণচাষিরা খালের উভয় পাড়ে বাঁধ দিয়ে নিজেদের লবণ মাঠ বাড়িয়ে নিয়েছেন, ফলে খালগুলো সরু ও মৃতপ্রায় হয়ে পড়েছে।

লবণচাষি নুরুল কবির জানান, খালের পলিমাটি জমে ভরাট হয়ে গেছে এবং দুই পাশে লবণের মাঠ বাড়ানোর কারণে এখন এটি নামমাত্র খালে পরিণত হয়েছে। সময়মতো পানি না জমায় লবণ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। তিনি খালগুলো খননের দাবি জানান। প্রাইভেট সার্ভেয়ার মোহাম্মদ জকরিয়া (আমিন) বলেন, উপজেলার প্রধান পিলটকাটা খালটি বিএস মতে প্রায় পাঁচ দশক আগে ৩০০ থেকে ৩৫০ ফুট প্রশস্ত ছিল, যা বর্তমানে ১০০ থেকে ১৫০ ফুটে দাঁড়িয়েছে। দখল ও ভরাটের কারণে খালগুলো মৃতপ্রায়। খনন উদ্যোগ নেওয়া হলে লবণ চাষে পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ এবং পানি নিষ্কাশনের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

উপজেলা স্থানীয় প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী সোহেল রানা জানান, পিলটকাটা খাল ১৫ কিলোমিটার এবং কাজীর পাড়া খাল সাড়ে ৩ কিলোমিটার খননের জন্য ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। গত বছর চাহিদাপত্র অনুযায়ী, পিলটকাটা খালের জন্য ৬ কোটি ৩০ লাখ এবং কাজীর পাড়া খালের জন্য ১ কোটি ৪৭ লাখ টাকা সম্ভাব্য ব্যয় ধরে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এই প্রকল্পে খালের পাড়ে কয়েক হাজার গাছ লাগানো হবে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ইকবাল হাসান জানান, দক্ষিণ ধুরুং ইউনিয়নের ডিংগাভাঙা খালে ৩৪২০ মিটার এবং উত্তর ধুরুং কালারমা পাড়া খালে ১১০০ মিটার খননের জন্য যথাক্রমে ১ কোটি ৭ লাখ এবং ৩৮ লাখ ৬৬ হাজার টাকা সম্ভাব্য ব্যয় ধরে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে কর্মসূচি প্রকল্পের জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এই বরাদ্দের সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি জানান।