ঢাকা ১০:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

কৃষি সেচে শতভাগ সূর্যনির্ভরতার পথে সরকার, কৃষকদের উদ্বেগ

দেশের কৃষি সেচ ব্যবস্থাকে নিরবচ্ছিন্ন করতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার একটি মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে দেশজুড়ে সব ধরনের জ্বালানি ও বিদ্যুৎচালিত সেচ পাম্পকে সৌরশক্তিতে রূপান্তরিত করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এর ফলে আগামীতে দেশের কৃষি খাতে সেচব্যবস্থা শতভাগ সূর্যনির্ভর হয়ে পড়বে।

সরকারের এই উদ্যোগকে কৃষকরা স্বাগত জানালেও মাঠপর্যায়ে কিছু বাস্তব জটিলতার কথা তুলে ধরেছেন। কয়েকজন কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নির্বিঘ্ন সেচ কাজের জন্য ডিজেল ও বিদ্যুতের বিকল্প হিসেবে সৌরবিদ্যুৎ একটি ভালো উদ্যোগ হলেও অতীতে স্থাপিত কিছু সৌরপাম্প থেকে কাঙ্ক্ষিত সেবা মেলেনি।

নেত্রকোনার দুর্গাপুর গ্রামের কৃষক আজমি জানান, সরকারি ব্যয়ে তাকে একটি সৌর সেচপাম্প বসিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সারফেস ওয়াটার (উপরিভাগের পানি) দিয়ে চলায় এবং পর্যাপ্ত সূর্যালোক না থাকলে বা আকাশ মেঘলা থাকলে এই পাম্পগুলো চাহিদানুযায়ী পানি দিতে পারে না। সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত সূর্যের পর্যাপ্ত আলো থাকলেও, রাতে বা দিনে রোদ না থাকলে প্যানেলের ব্যাটারি পর্যাপ্ত ব্যাকআপ দিতে পারে না। ফলে ২৪ ঘণ্টার একটি বড় সময় সেচ বন্ধ রাখতে হয়।

অন্য আরও কয়েকজন কৃষক জানান, নিরবচ্ছিন্ন সেচ না পাওয়ায় দিনে যতটুকু জমির মাটি ভেজে, দীর্ঘসময় সেচ বন্ধ থাকায় পরের দিন আসার আগেই তা শুকিয়ে যায়। এ কারণে পরের দিন দ্বিগুণ সেচ দিতে হয়, যা শ্রম ও সময়ের অপচয় ঘটায়। তাদের মতে, পানির উপরিভাগের স্তরের ওপর এই সৌর পাম্পগুলো নির্ভরশীল হওয়ায় গভীর নলকূপ ছাড়া সার্বক্ষণিক সেচ দেওয়া সম্ভব হয় না।

এছাড়াও, বছরের প্রায় ছয় মাস সেচের প্রয়োজন থাকে না। ওই অফ-সিজনে মূল সার্ভারের সঙ্গে সংযোগ না থাকায় অব্যবস্থাপনায় অনেক দামি যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে যায়। এসব জটিলতার কারণে আজমি নামের ওই কৃষক পরবর্তীতে আড়াই লাখ টাকা ব্যয়ে নিজস্ব উদ্যোগে গভীর নলকূপ বসাতে বাধ্য হয়েছেন। কৃষকদের মতে, বিকল্প ব্যবস্থা রেখেই সরকারকে সৌরশক্তিতে যেতে হবে, অন্যথায় কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সেচকে শতভাগ সৌরশক্তিতে রূপান্তরিত করার এই নীতিগত সিদ্ধান্তের পর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সৌরপ্যানেল স্থাপনে আগ্রহ দেখাচ্ছে। বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা প্রতিনিয়ত কৃষিমন্ত্রী ও কৃষি সচিবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করছেন। সম্প্রতি ‘সুপার স্টার’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানও এই বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মন্ত্রিসভার চাপে কিয়ার স্টারমার: পদত্যাগের সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার ইঙ্গিত

কৃষি সেচে শতভাগ সূর্যনির্ভরতার পথে সরকার, কৃষকদের উদ্বেগ

আপডেট সময় : ০৯:১৯:০২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

দেশের কৃষি সেচ ব্যবস্থাকে নিরবচ্ছিন্ন করতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার একটি মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে দেশজুড়ে সব ধরনের জ্বালানি ও বিদ্যুৎচালিত সেচ পাম্পকে সৌরশক্তিতে রূপান্তরিত করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এর ফলে আগামীতে দেশের কৃষি খাতে সেচব্যবস্থা শতভাগ সূর্যনির্ভর হয়ে পড়বে।

সরকারের এই উদ্যোগকে কৃষকরা স্বাগত জানালেও মাঠপর্যায়ে কিছু বাস্তব জটিলতার কথা তুলে ধরেছেন। কয়েকজন কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নির্বিঘ্ন সেচ কাজের জন্য ডিজেল ও বিদ্যুতের বিকল্প হিসেবে সৌরবিদ্যুৎ একটি ভালো উদ্যোগ হলেও অতীতে স্থাপিত কিছু সৌরপাম্প থেকে কাঙ্ক্ষিত সেবা মেলেনি।

নেত্রকোনার দুর্গাপুর গ্রামের কৃষক আজমি জানান, সরকারি ব্যয়ে তাকে একটি সৌর সেচপাম্প বসিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সারফেস ওয়াটার (উপরিভাগের পানি) দিয়ে চলায় এবং পর্যাপ্ত সূর্যালোক না থাকলে বা আকাশ মেঘলা থাকলে এই পাম্পগুলো চাহিদানুযায়ী পানি দিতে পারে না। সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত সূর্যের পর্যাপ্ত আলো থাকলেও, রাতে বা দিনে রোদ না থাকলে প্যানেলের ব্যাটারি পর্যাপ্ত ব্যাকআপ দিতে পারে না। ফলে ২৪ ঘণ্টার একটি বড় সময় সেচ বন্ধ রাখতে হয়।

অন্য আরও কয়েকজন কৃষক জানান, নিরবচ্ছিন্ন সেচ না পাওয়ায় দিনে যতটুকু জমির মাটি ভেজে, দীর্ঘসময় সেচ বন্ধ থাকায় পরের দিন আসার আগেই তা শুকিয়ে যায়। এ কারণে পরের দিন দ্বিগুণ সেচ দিতে হয়, যা শ্রম ও সময়ের অপচয় ঘটায়। তাদের মতে, পানির উপরিভাগের স্তরের ওপর এই সৌর পাম্পগুলো নির্ভরশীল হওয়ায় গভীর নলকূপ ছাড়া সার্বক্ষণিক সেচ দেওয়া সম্ভব হয় না।

এছাড়াও, বছরের প্রায় ছয় মাস সেচের প্রয়োজন থাকে না। ওই অফ-সিজনে মূল সার্ভারের সঙ্গে সংযোগ না থাকায় অব্যবস্থাপনায় অনেক দামি যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে যায়। এসব জটিলতার কারণে আজমি নামের ওই কৃষক পরবর্তীতে আড়াই লাখ টাকা ব্যয়ে নিজস্ব উদ্যোগে গভীর নলকূপ বসাতে বাধ্য হয়েছেন। কৃষকদের মতে, বিকল্প ব্যবস্থা রেখেই সরকারকে সৌরশক্তিতে যেতে হবে, অন্যথায় কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সেচকে শতভাগ সৌরশক্তিতে রূপান্তরিত করার এই নীতিগত সিদ্ধান্তের পর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সৌরপ্যানেল স্থাপনে আগ্রহ দেখাচ্ছে। বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা প্রতিনিয়ত কৃষিমন্ত্রী ও কৃষি সচিবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করছেন। সম্প্রতি ‘সুপার স্টার’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানও এই বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।