ঢাকা ০৬:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে অর্ধশত অপরাধী চক্রের দৌরাত্ম্য: চাঁদাবাজির থাবায় অস্থির জনজীবন

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজির দৌরাত্ম্য চরম আকার ধারণ করেছে। ফুটপাত থেকে শুরু করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, হাট-বাজার, পরিবহন খাত এমনকি বালুমহাল পর্যন্ত চাঁদাবাজদের থাবা বিস্তৃত। একসময় শীর্ষ সন্ত্রাসী বা মাফিয়া গডফাদারদের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও, বর্তমানে সাধারণ টোকাই থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্তরের অপরাধীরাও চাঁদাবাজিতে জড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে রাজধানীর মোহাম্মদপুর, আদাবর ও শ্যামলী এলাকা চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্যে এক আতঙ্কের জনপদে পরিণত হয়েছে।

চাঁদা না দিলে মারধর, হুমকি-ধমকি ও নানা হয়রানির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। বাড়ি নির্মাণ, ব্যবসা শুরু এমনকি মাছ ধরার মতো সাধারণ কাজেও চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করতে গিয়ে প্রকাশ্যে খুনের শিকার হয়েছেন খোদ রাজনৈতিক কর্মীরাও।

জানা গেছে, গত ৮ জুন মৌচাকে আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করতে গিয়ে খুন হন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক নেতা বিল্লাল হোসেন। এর আগে মোহাম্মদপুর ও ধানমণ্ডি এলাকার ফুটপাত ও পরিবহনে একক চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে টিটিন নামের এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তার পরিবারের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনে এমনটি দাবি করা হয়েছিল।

অন্যদিকে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দীর্ঘ কারাবাস শেষে ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডের একাধিক শীর্ষ সন্ত্রাসী জামিনে মুক্তি পেয়েছে। জেল থেকে বেরিয়েই তারা বিভিন্ন এলাকার চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও ডিশ ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। এর ফলস্বরূপ, আন্ডারওয়ার্ল্ড আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে এবং একের পর এক নৃশংস খুনোখুনি শুরু হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃশ্যমান ব্যর্থতা ও নমনীয়তার কারণে রাজধানীর মোহাম্মদপুর, মিরপুর, পল্লবী, ভাষানটেক, কেরানীগঞ্জ, যাত্রাবাড়িসহ বেশ কিছু এলাকা সাধারণ মানুষের জন্য চরম আতঙ্কের জনপদে পরিণত হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত সারা দেশে চাঁদাবাজির ঘটনায় মোট ৬৯৬টি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং এসব মামলায় ৮২৩ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সূত্রমতে, গত ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত চার মাসে রাজধানীতে চাঁদাবাজির ঘটনায় মোট ২৩৬টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে ফেব্রুয়ারিতে ৪২টি, মার্চে ৫৮টি, এপ্রিলে ৭১টি এবং মে মাসে ৬১টি মামলা অন্তর্ভুক্ত।

সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে মন্তব্য করেন যে, যখন কোনো দলের নেতাকর্মীরা চাঁদাবাজিসহ আধিপত্য বিস্তারে জড়িয়ে পড়ে, তখন সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয় এবং সমাজে অস্থিরতা বাড়ে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্বকাপে টিকে থাকার লড়াই: কুরাসাওয়ের সামনে ইকুয়েডর, দুই দলেরই বাঁচা-মরার ম্যাচ

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে অর্ধশত অপরাধী চক্রের দৌরাত্ম্য: চাঁদাবাজির থাবায় অস্থির জনজীবন

আপডেট সময় : ০৫:০৮:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজির দৌরাত্ম্য চরম আকার ধারণ করেছে। ফুটপাত থেকে শুরু করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, হাট-বাজার, পরিবহন খাত এমনকি বালুমহাল পর্যন্ত চাঁদাবাজদের থাবা বিস্তৃত। একসময় শীর্ষ সন্ত্রাসী বা মাফিয়া গডফাদারদের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও, বর্তমানে সাধারণ টোকাই থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্তরের অপরাধীরাও চাঁদাবাজিতে জড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে রাজধানীর মোহাম্মদপুর, আদাবর ও শ্যামলী এলাকা চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্যে এক আতঙ্কের জনপদে পরিণত হয়েছে।

চাঁদা না দিলে মারধর, হুমকি-ধমকি ও নানা হয়রানির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। বাড়ি নির্মাণ, ব্যবসা শুরু এমনকি মাছ ধরার মতো সাধারণ কাজেও চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করতে গিয়ে প্রকাশ্যে খুনের শিকার হয়েছেন খোদ রাজনৈতিক কর্মীরাও।

জানা গেছে, গত ৮ জুন মৌচাকে আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করতে গিয়ে খুন হন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক নেতা বিল্লাল হোসেন। এর আগে মোহাম্মদপুর ও ধানমণ্ডি এলাকার ফুটপাত ও পরিবহনে একক চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে টিটিন নামের এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তার পরিবারের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনে এমনটি দাবি করা হয়েছিল।

অন্যদিকে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দীর্ঘ কারাবাস শেষে ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডের একাধিক শীর্ষ সন্ত্রাসী জামিনে মুক্তি পেয়েছে। জেল থেকে বেরিয়েই তারা বিভিন্ন এলাকার চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও ডিশ ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। এর ফলস্বরূপ, আন্ডারওয়ার্ল্ড আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে এবং একের পর এক নৃশংস খুনোখুনি শুরু হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃশ্যমান ব্যর্থতা ও নমনীয়তার কারণে রাজধানীর মোহাম্মদপুর, মিরপুর, পল্লবী, ভাষানটেক, কেরানীগঞ্জ, যাত্রাবাড়িসহ বেশ কিছু এলাকা সাধারণ মানুষের জন্য চরম আতঙ্কের জনপদে পরিণত হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত সারা দেশে চাঁদাবাজির ঘটনায় মোট ৬৯৬টি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং এসব মামলায় ৮২৩ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সূত্রমতে, গত ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত চার মাসে রাজধানীতে চাঁদাবাজির ঘটনায় মোট ২৩৬টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে ফেব্রুয়ারিতে ৪২টি, মার্চে ৫৮টি, এপ্রিলে ৭১টি এবং মে মাসে ৬১টি মামলা অন্তর্ভুক্ত।

সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে মন্তব্য করেন যে, যখন কোনো দলের নেতাকর্মীরা চাঁদাবাজিসহ আধিপত্য বিস্তারে জড়িয়ে পড়ে, তখন সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয় এবং সমাজে অস্থিরতা বাড়ে।