ফেনীতে সাতটি খাল পুনঃখনন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এই প্রকল্পগুলো জেলার সদর, দাগনভূঞা, ফুলগাজী, পরশুরাম এবং সোনাগাজী উপজেলায় বাস্তবায়িত হচ্ছে। কাগজে-কলমে ২ হাজার ৭৭৮ জনের বেশি শ্রমিকের অংশগ্রহণের কথা থাকলেও, বাস্তবে খনন কাজ চলছে কয়েকটি এক্সকাভেটর দিয়ে। এতে সরকারি কর্মসংস্থান কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় দরিদ্র শ্রমিকেরা কাজের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের নজরদারিতেই এই সকল কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
প্রায় সাড়ে ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এই সাতটি খাল পুনঃখনন প্রকল্পের কাজে নির্ধারিত গভীরতা ও প্রস্থ বজায় রাখা হচ্ছে না। শ্রমিক ব্যবহার না করে অর্থ আত্মসাৎ এবং নানা ধরনের অনিয়মের কারণে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে দেশব্যাপী জনগুরুত্বপূর্ণ খালগুলো খনন, পুনঃখনন এবং খালপাড়ে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এর আওতায় ফেনীর ছয় উপজেলার ১২টি খাল অগ্রাধিকার দিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল, যার মধ্যে সাতটি খাল অনুমোদিত হয়েছে এবং এগুলোর মোট দৈর্ঘ্য ৪৯ কিলোমিটার।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রকল্প শুরুর আগেই অনেকের কাছ থেকে কাজ দেওয়ার কথা বলে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি সংগ্রহ করা হয়েছিল। কিন্তু প্রকল্প উদ্বোধনের পর তাদের কাউকে কাজে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। ফলে, যাদের নামে ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে বা হচ্ছে, মাস্টার রোলে তাদের স্বাক্ষর বা টিপসইর সঙ্গে বাস্তবে কোনো মিল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ধারণা করা হচ্ছে, প্রকল্পের অর্থ লুটপাটের উদ্দেশ্যে শ্রমিকের এসব ভুয়া অ্যাকাউন্ট ও মাস্টার রোল তৈরি করা হচ্ছে। এছাড়াও, ফেনী সদর উপজেলার শর্শদিতে ইউএনও পরিদর্শনের অজুহাতে তড়িঘড়ি করে স্থানীয় ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ইউনিয়ন বিএনপি কর্মীদের একদিনের শ্রমিক হিসেবে দেখানো হয়েছে। দ্রুত কাজ শেষ করে অধিক অর্থ আত্মসাতের জন্য শ্রমিকের পরিবর্তে নামমাত্র কাজে ছয়টি ভেকু মেশিন ব্যবহার করা হচ্ছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ফেনী জেলা প্রশাসক মনিরা হক বলেন, ‘অবশ্যই প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে।’
রিপোর্টারের নাম 























