ধরুন, একদল নারী-পুরুষ ও শিশুকে গভীর রাতে দুর্গম ও নজরদারিবিহীন সীমান্ত এলাকায় ধরে আনা হলো এবং ভয় দেখিয়ে বলা হলো, ‘এবার সীমান্ত অতিক্রম করো’। সভ্যবিশ্বের দৃষ্টিতে, এ কাজটি কি মানব পাচার নয়?
লোকচক্ষুর আড়ালে এমন দৃশ্য সম্প্রতি বারবার রূপায়িত হচ্ছে ভারত-বাংলাদেশ দীর্ঘ সীমান্তের ভঙ্গুর অংশে। কোনো অ-রাষ্ট্রীয় অপরাধ চক্র কিন্তু পরিচালনা করছে না আদমসন্তান ধরা ও অবৈধভাবে ‘রপ্তানি’র এই ধারাবাহিক পর্বগুলো, যার শিরোনাম (বাংলাদেশমুখী) ‘পুশইন’। নির্ভুলতার স্বার্থে সাংবাদিকরা তো বলতেই পারেন এই অপকর্মটি রাষ্ট্রপরিচালিত মানব পাচার।
রাতের অন্ধকারে ‘জিম্মি’ লোকদের বাধ্য করা হয় অনুপ্রবেশকারীর ভান করতে। আর তারা বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করে ব্যর্থ হলে, তাদের ফিরে যেতে বাধা দেয় ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। এই অসহায় মানুষেরা আটকা পড়ে থাকে সীমান্তের শূন্যরেখায়—খোলা আকাশের নিচে, খাদ্য বা পানি সরবরাহ ছাড়াই।
ভারতের নাগরিক বা যেকোনো মানুষই হোক—জোরপূর্বক কাউকে সীমান্তে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা আন্তর্জাতিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনার নীতিমালা এবং এমনকি দ্বিপক্ষীয় চুক্তির বরখেলাপ। অনেকেই ‘পুশইন’কে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সচেতন পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন, যার সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের প্রতি ইসরাইলি বাহিনীর নিষ্ঠুর আচরণের মিল পাওয়া যায়।
ভারতের বাইরের পণ্ডিতরা হয়তো অবাক হবেন, কেন উপনিবেশোত্তর গণতান্ত্রিক ভারতে নির্বাচিত প্রতিনিধি ও প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা এমন কাজ করেন, যেসব কর্মকাণ্ড তাদের দেশের জন্য শুধু দুর্নাম ও ঘৃণা তৈরি করে? সরল দৃষ্টিতে দেখলে এতে রাজনৈতিকভাবে সঠিক কোনো লাভ হচ্ছে না ভারতের।
ভাষা, ধর্ম কিংবা পুরোনো কাগজপত্র না থাকার অজুহাতে বিভিন্ন রাজ্য থেকে নিরপরাধ মানুষকে ধরে এনে কীভাবে বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া যায়? উদ্দেশ্য গণবহিষ্কার তো! এ কাজ ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক দুর্বলতাকেই বাইরের পৃথিবীর কাছে প্রকাশ করে দেয়। ফলে ভৌগোলিকভাবে নিকটতম প্রতিবেশী বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কও তিক্ত হয়।
ভারতের অভিযোগ, সীমান্ত দিয়ে ঠেলে পাঠানো ব্যক্তিরা বাংলাদেশের অধিবাসী। সে ক্ষেত্রে তাদের বৈধভাবে ফেরত পাঠানো যেত। ‘পুশইন’-এর শিকার মানুষদের অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসী হওয়ার সম্ভাবনা কিন্তু শূন্যের কাছাকাছি। কারণ ভারত এখনো ইউরোপ, আমেরিকা বা মধ্যপ্রাচ্যের মতো অভিবাসনপ্রত্যাশীদের কাছে স্বপ্নের গন্তব্য নয়। মানুষকে রাজনৈতিক খেলায় ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহার করা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও মানবিক নীতির পরিপন্থী।
রিপোর্টারের নাম 




















