ঢাকা ১২:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

জাপানি পুরুষদের প্রতি নারীদের আহ্বান: স্টেডিয়ামের মতো ঘরেও পরিচ্ছন্নতার দায়িত্ব নিন

বিশ্বকাপের ম্যাচ শেষে গ্যালারি পরিষ্কার করে বিশ্বজুড়ে প্রশংসা কুড়িয়েছেন জাপানি ফুটবল সমর্থকেরা। তবে এবার নিজ দেশেই তাদের এই দ্বিমুখী আচরণ নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছেন পুরুষ সমর্থকরা। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জাপানি নারীরা প্রশ্ন তুলেছেন, যে পুরুষেরা বাইরে পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে এত সচেতন, তারা কেন ঘরের কাজে স্ত্রীদের সহায়তা করেন না?

চলতি সপ্তাহে ম্যাচ শেষে জাপানি দর্শকদের আবর্জনা পরিষ্কারের কিছু ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ার পর এই বিতর্ক শুরু হয়। দেশটির অনেক নারী একে ‘দ্বিমুখী নীতি’ হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, যেসব পুরুষ স্টেডিয়ামের আবর্জনা পরিষ্কারে ব্যস্ত, তারাই ঘরের সব কাজের বোঝা স্ত্রীদের ওপর চাপিয়ে দেন।

এক্স (সাবেক টুইটার) প্ল্যাটফর্মে একটি পোস্ট ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে, যা প্রায় ৬০ হাজার মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। ওই পোস্টে দুটি ছবি পাশাপাশি দেখানো হয়: একপাশে একজন পুরুষ স্টেডিয়ামে আবর্জনা কুড়াচ্ছেন, আর অন্যপাশে সেই একই পুরুষ ঘরে সোফায় শুয়ে ফোন ব্যবহার করছেন এবং তার পাশে কাপড়ের ঝুড়ি রাখা, যেখানে তার স্ত্রী একাকী বাসন মাজছেন। পোস্টটিতে লেখা ছিল, ‘জাপানি পুরুষদের ঘরে আরও বেশি সাহায্য করা উচিত, কারণ গৃহস্থালির কাজে তাদের ব্যয় করা সময় বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে কম।’

একজন এক্স ব্যবহারকারী আমেরিকান লেখক পি জে ও’রোর্কের একটি উক্তি উল্লেখ করে মন্তব্য করেছেন, ‘সবাই পৃথিবী বাঁচাতে চায়, কিন্তু মাকে বাসন মাজতে কেউ সাহায্য করতে চায় না।’ অন্য একজন লিখেছেন, ‘স্টেডিয়ামে আবর্জনা কুড়ানো এই পুরুষদের অনেকেরই হয়তো ঘরে ছোট সন্তান আছে। তারা স্ত্রীকে একা ফেলে রেখে এখানে বিশ্বকাপ দেখতে এসেছেন।’

উন্মুক্ত স্থান বা পাবলিক প্লেস পরিষ্কার রাখা জাপানি সংস্কৃতির একটি বড় অংশ। তবে ঘরের কাজের ক্ষেত্রে উন্নত দেশগুলোর মধ্যে জাপানি পুরুষদের অবস্থান সবার নিচে। ২০২১ সালের ‘অর্গানাইজেশন অব ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’ (ওইসিডি)-এর তথ্য অনুযায়ী, জাপানি নারীরা দিনে ৩ ঘণ্টার বেশি সময় ঘরের বিনা মজুরির কাজে ব্যয় করেন, যা পুরুষদের তুলনায় পাঁচ গুণ বেশি। জাপানি পুরুষেরা দিনে মাত্র ৪৭ মিনিট ঘরের কাজ করেন। তরুণ পরিবারগুলোর মধ্যে এই বৈষম্য আরও বেশি প্রকট। ২০২১ সালের একটি সরকারি জরিপ অনুযায়ী, ৬ বছরের কম সন্তান রয়েছে এমন কর্মজীবী দম্পতিদের মধ্যে নারীরা দিনে ৭ ঘণ্টার বেশি সময় ঘরের কাজে কাটান, যেখানে পুরুষেরা কাটান দুই ঘণ্টারও কম।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফেনীর সাত খাল পুনঃখননে ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ: শ্রমিক বঞ্চিত, সরকারি অর্থ লোপাটের শঙ্কা

জাপানি পুরুষদের প্রতি নারীদের আহ্বান: স্টেডিয়ামের মতো ঘরেও পরিচ্ছন্নতার দায়িত্ব নিন

আপডেট সময় : ১০:২৮:৫৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

বিশ্বকাপের ম্যাচ শেষে গ্যালারি পরিষ্কার করে বিশ্বজুড়ে প্রশংসা কুড়িয়েছেন জাপানি ফুটবল সমর্থকেরা। তবে এবার নিজ দেশেই তাদের এই দ্বিমুখী আচরণ নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছেন পুরুষ সমর্থকরা। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জাপানি নারীরা প্রশ্ন তুলেছেন, যে পুরুষেরা বাইরে পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে এত সচেতন, তারা কেন ঘরের কাজে স্ত্রীদের সহায়তা করেন না?

চলতি সপ্তাহে ম্যাচ শেষে জাপানি দর্শকদের আবর্জনা পরিষ্কারের কিছু ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ার পর এই বিতর্ক শুরু হয়। দেশটির অনেক নারী একে ‘দ্বিমুখী নীতি’ হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, যেসব পুরুষ স্টেডিয়ামের আবর্জনা পরিষ্কারে ব্যস্ত, তারাই ঘরের সব কাজের বোঝা স্ত্রীদের ওপর চাপিয়ে দেন।

এক্স (সাবেক টুইটার) প্ল্যাটফর্মে একটি পোস্ট ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে, যা প্রায় ৬০ হাজার মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। ওই পোস্টে দুটি ছবি পাশাপাশি দেখানো হয়: একপাশে একজন পুরুষ স্টেডিয়ামে আবর্জনা কুড়াচ্ছেন, আর অন্যপাশে সেই একই পুরুষ ঘরে সোফায় শুয়ে ফোন ব্যবহার করছেন এবং তার পাশে কাপড়ের ঝুড়ি রাখা, যেখানে তার স্ত্রী একাকী বাসন মাজছেন। পোস্টটিতে লেখা ছিল, ‘জাপানি পুরুষদের ঘরে আরও বেশি সাহায্য করা উচিত, কারণ গৃহস্থালির কাজে তাদের ব্যয় করা সময় বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে কম।’

একজন এক্স ব্যবহারকারী আমেরিকান লেখক পি জে ও’রোর্কের একটি উক্তি উল্লেখ করে মন্তব্য করেছেন, ‘সবাই পৃথিবী বাঁচাতে চায়, কিন্তু মাকে বাসন মাজতে কেউ সাহায্য করতে চায় না।’ অন্য একজন লিখেছেন, ‘স্টেডিয়ামে আবর্জনা কুড়ানো এই পুরুষদের অনেকেরই হয়তো ঘরে ছোট সন্তান আছে। তারা স্ত্রীকে একা ফেলে রেখে এখানে বিশ্বকাপ দেখতে এসেছেন।’

উন্মুক্ত স্থান বা পাবলিক প্লেস পরিষ্কার রাখা জাপানি সংস্কৃতির একটি বড় অংশ। তবে ঘরের কাজের ক্ষেত্রে উন্নত দেশগুলোর মধ্যে জাপানি পুরুষদের অবস্থান সবার নিচে। ২০২১ সালের ‘অর্গানাইজেশন অব ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’ (ওইসিডি)-এর তথ্য অনুযায়ী, জাপানি নারীরা দিনে ৩ ঘণ্টার বেশি সময় ঘরের বিনা মজুরির কাজে ব্যয় করেন, যা পুরুষদের তুলনায় পাঁচ গুণ বেশি। জাপানি পুরুষেরা দিনে মাত্র ৪৭ মিনিট ঘরের কাজ করেন। তরুণ পরিবারগুলোর মধ্যে এই বৈষম্য আরও বেশি প্রকট। ২০২১ সালের একটি সরকারি জরিপ অনুযায়ী, ৬ বছরের কম সন্তান রয়েছে এমন কর্মজীবী দম্পতিদের মধ্যে নারীরা দিনে ৭ ঘণ্টার বেশি সময় ঘরের কাজে কাটান, যেখানে পুরুষেরা কাটান দুই ঘণ্টারও কম।