ঢাকা ০২:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে সক্রিয় অর্ধশত অপরাধী চক্র: চাঁদাবাজি ও খুনের আতঙ্কে জনজীবন

রাজধানীর মোহাম্মদপুর, আদাবর ও শ্যামলী এলাকা বর্তমানে চাঁদাবাজি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে এক আতঙ্কের জনপদে পরিণত হয়েছে। ফুটপাত থেকে শুরু করে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, হাট-বাজার, নদীর ঘাট, পরিবহন, বালুমহাল—এমন কোনো খাত নেই যেখানে চাঁদাবাজি হচ্ছে না। আগে শীর্ষ সন্ত্রাসী বা মাফিয়া গডফাদারদের আধিপত্য থাকলেও, এখন টোকাইরাও চাঁদাবাজিতে লিপ্ত হচ্ছে।

সাধারণ মানুষ চাঁদা না দিলে মারধর, হুমকি-ধমকি এবং নানা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। বাড়ি নির্মাণ, ব্যবসা শুরু বা এমনকি মাছ ধরতে গিয়েও চাঁদা দিতে হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করতে গিয়ে প্রকাশ্যে খুনের শিকার হচ্ছেন খোদ রাজনৈতিক কর্মীরাও। গত ৮ জুন মৌচাকে আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করতে গিয়ে খুন হন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক নেতা বিল্লাল হোসেন। এর আগে মোহাম্মদপুর ও ধানমন্ডি এলাকার ফুটপাত ও পরিবহনে এককভাবে চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে টিটিন নামের এক চাঁদাবাজকে গুলি করে হত্যা করা হয় বলে তার পরিবার দাবি করেছিল।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দীর্ঘ কারাবাস শেষে ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডের একাধিক শীর্ষ সন্ত্রাসী জামিনে মুক্তি পেয়েছে। জেল থেকে বেরিয়েই তারা বিভিন্ন এলাকার চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও ডিশ ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। এর ফলে আন্ডারওয়ার্ল্ড আবার উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে এবং শুরু হয়েছে একের পর এক নৃশংস ও রক্তাক্ত খুনোখুনি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নমনীয়তা এবং অপরাধীদের দমনে দৃশ্যমান ব্যর্থতার কারণে রাজধানীর মোহাম্মদপুর, মিরপুর, পল্লবী, ভাষানটেক, কেরানীগঞ্জ, যাত্রাবাড়িসহ বেশকিছু এলাকা এখন সাধারণ মানুষের জন্য মৃত্যুকূপ ও চরম আতঙ্কের জনপদে পরিণত হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানায়, গত জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত সারা দেশে চাঁদাবাজির কারণে ৬৯৬টি মামলা দায়ের হয়েছে এবং এসব মামলার ৮২৩ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) সূত্র অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত চার মাসে রাজধানীতে চাঁদাবাজির ঘটনায় ২৩৬টি মামলা দায়ের হয়েছে। এর মধ্যে ফেব্রুয়ারিতে ৪২টি, মার্চে ৫৮টি, এপ্রিলে ৭১টি এবং মে মাসে ৬১টি মামলা দায়ের হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সাঘাটায় আহত শিবির নেতা সালাউদ্দিনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে সক্রিয় অর্ধশত অপরাধী চক্র: চাঁদাবাজি ও খুনের আতঙ্কে জনজীবন

আপডেট সময় : ০৯:১৭:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

রাজধানীর মোহাম্মদপুর, আদাবর ও শ্যামলী এলাকা বর্তমানে চাঁদাবাজি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে এক আতঙ্কের জনপদে পরিণত হয়েছে। ফুটপাত থেকে শুরু করে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, হাট-বাজার, নদীর ঘাট, পরিবহন, বালুমহাল—এমন কোনো খাত নেই যেখানে চাঁদাবাজি হচ্ছে না। আগে শীর্ষ সন্ত্রাসী বা মাফিয়া গডফাদারদের আধিপত্য থাকলেও, এখন টোকাইরাও চাঁদাবাজিতে লিপ্ত হচ্ছে।

সাধারণ মানুষ চাঁদা না দিলে মারধর, হুমকি-ধমকি এবং নানা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। বাড়ি নির্মাণ, ব্যবসা শুরু বা এমনকি মাছ ধরতে গিয়েও চাঁদা দিতে হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করতে গিয়ে প্রকাশ্যে খুনের শিকার হচ্ছেন খোদ রাজনৈতিক কর্মীরাও। গত ৮ জুন মৌচাকে আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করতে গিয়ে খুন হন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক নেতা বিল্লাল হোসেন। এর আগে মোহাম্মদপুর ও ধানমন্ডি এলাকার ফুটপাত ও পরিবহনে এককভাবে চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে টিটিন নামের এক চাঁদাবাজকে গুলি করে হত্যা করা হয় বলে তার পরিবার দাবি করেছিল।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দীর্ঘ কারাবাস শেষে ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডের একাধিক শীর্ষ সন্ত্রাসী জামিনে মুক্তি পেয়েছে। জেল থেকে বেরিয়েই তারা বিভিন্ন এলাকার চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও ডিশ ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। এর ফলে আন্ডারওয়ার্ল্ড আবার উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে এবং শুরু হয়েছে একের পর এক নৃশংস ও রক্তাক্ত খুনোখুনি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নমনীয়তা এবং অপরাধীদের দমনে দৃশ্যমান ব্যর্থতার কারণে রাজধানীর মোহাম্মদপুর, মিরপুর, পল্লবী, ভাষানটেক, কেরানীগঞ্জ, যাত্রাবাড়িসহ বেশকিছু এলাকা এখন সাধারণ মানুষের জন্য মৃত্যুকূপ ও চরম আতঙ্কের জনপদে পরিণত হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানায়, গত জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত সারা দেশে চাঁদাবাজির কারণে ৬৯৬টি মামলা দায়ের হয়েছে এবং এসব মামলার ৮২৩ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) সূত্র অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত চার মাসে রাজধানীতে চাঁদাবাজির ঘটনায় ২৩৬টি মামলা দায়ের হয়েছে। এর মধ্যে ফেব্রুয়ারিতে ৪২টি, মার্চে ৫৮টি, এপ্রিলে ৭১টি এবং মে মাসে ৬১টি মামলা দায়ের হয়েছে।