দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উপাচার্য নিয়োগ প্রক্রিয়াকে ঘিরে নতুন করে রাজনীতিকরণের অভিযোগ উঠেছে, যা উচ্চশিক্ষার মান ও পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর ফ্যাসিবাদী ও গণহত্যায় সহযোগী উপাচার্যদের সরিয়ে তুলনামূলক গ্রহণযোগ্য শিক্ষকদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল, যদিও তাদের মধ্যে অনেকেই বিএনপির অনুসারী বা সক্রিয় সদস্য ছিলেন।
তবে বর্তমান বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার এক মাসের মধ্যেই উপাচার্য পরিবর্তনের ধারা শুরু হয়েছে। ৫৯টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে এ পর্যন্ত অন্তত ২৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং বাকিগুলোতেও পরিবর্তনের সম্ভাবনা থাকায় সংশ্লিষ্ট মহলে চলছে নানা তৎপরতা। পর্যায়ক্রমে উপ-উপাচার্য (প্রো-ভিসি) ও ট্রেজারার পদেও নতুন লোক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, উপাচার্য ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে একাডেমিক ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা-যোগ্যতার চেয়ে রাজনৈতিক বিবেচনাকেই প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। এমনকি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে আরবিসহ ভিন্ন বিভাগের শিক্ষককে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে। নিজ প্রতিষ্ঠানে যোগ্য প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও অনেক ক্ষেত্রে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। এই ধরনের নিয়োগ প্রক্রিয়াকে ঘিরে ইতিমধ্যে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ ও সংঘাতের ঘটনাও ঘটেছে।
কিছু বিতর্কিত শিক্ষকের নিয়োগও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। যেমন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগের এক ঘণ্টার মধ্যেই তা বাতিল করা হয়েছিল। একই ধরনের অভিযোগে জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে ২৩ দিনের মাথায় পরিবর্তন করা হয়।
এসব নিয়োগ নিয়ে বিএনপিপন্থি শিক্ষক, শিক্ষাবিশেষজ্ঞ এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রতিবাদ, অস্বস্তি ও তীব্র সমালোচনা বিরাজ করছে। বিশেষ করে উপাচার্য পদপ্রত্যাশী যোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে ব্যাপক হতাশা দেখা দিয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থানপরবর্তীতে উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণের এই সংস্কৃতি থেকে বের হতে না পারাটা দুঃখজনক বলে মনে করছেন অনেকে। উপাচার্যের পাশাপাশি উচ্চশিক্ষা তদারক প্রতিষ্ঠান বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান নিয়োগ নিয়েও চাপা অসন্তোষ রয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 




















