ঢাকা ০২:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

ঢাকা-বেইজিং কৌশলগত সম্পর্ক: নতুন ভিত্তি গড়তে প্রধানমন্ত্রীর ঐতিহাসিক চীন সফর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন চীন সফরকে ঘিরে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে সরকার গঠনের পর থেকেই জল্পনা চলছিল, প্রধানমন্ত্রী তার প্রথম দ্বিপক্ষীয় সফরে দিল্লি নাকি বেইজিংয়ে যাবেন। সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে আগামীকাল রোববার মালয়েশিয়া হয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বহুল আলোচিত চীন সফরে যাচ্ছেন। আগামী ২২ থেকে ২৬ জুন সস্ত্রীক এই সফরে বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাতে প্রস্তুত বেইজিং।

অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, জাতীয় স্বার্থ এবং ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের কারণে প্রধানমন্ত্রীর এই চীন সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে চলমান আলোচনা এবং পুশইনসহ বিভিন্ন ইস্যুতে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের ক্ষেত্রে যখন কিছুটা অস্থিরতা বিরাজ করছে, ঠিক তখনই প্রধানমন্ত্রীর এই বেইজিং যাত্রা কৌশলগত দিক থেকে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পদস্থ কর্মকর্তা ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সফরের মধ্য দিয়ে ঢাকা-বেইজিংয়ের রাজনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্কের এক নতুন ভিত্তি তৈরি হতে যাচ্ছে। এই মুহূর্তে বাংলাদেশের জন্য চীনের রাজনৈতিক ও কৌশলগত সমর্থন অত্যন্ত জরুরি।

আসন্ন এই সফরে শিক্ষা, মানবসম্পদ উন্নয়ন, কৃষি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), গণমাধ্যম, যোগাযোগ ও উন্নয়ন সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে তিনটি চুক্তিসহ ১০টিরও বেশি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের রাজনৈতিক ও কৌশলগত গুরুত্ব সবকিছুকে ছাপিয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সফরকে ফলপ্রসূ করতে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে পুরোদমে। ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাস এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দফায় দফায় বৈঠক করছেন। সম্প্রতি ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন এবং পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়ামের সঙ্গে সফর নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। এর আগে গত ৫-৭ মে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বেইজিং সফর করে প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের বিষয়টি চূড়ান্ত করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সাঘাটায় আহত শিবির নেতা সালাউদ্দিনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর

ঢাকা-বেইজিং কৌশলগত সম্পর্ক: নতুন ভিত্তি গড়তে প্রধানমন্ত্রীর ঐতিহাসিক চীন সফর

আপডেট সময় : ০৯:২০:৪১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন চীন সফরকে ঘিরে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে সরকার গঠনের পর থেকেই জল্পনা চলছিল, প্রধানমন্ত্রী তার প্রথম দ্বিপক্ষীয় সফরে দিল্লি নাকি বেইজিংয়ে যাবেন। সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে আগামীকাল রোববার মালয়েশিয়া হয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বহুল আলোচিত চীন সফরে যাচ্ছেন। আগামী ২২ থেকে ২৬ জুন সস্ত্রীক এই সফরে বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাতে প্রস্তুত বেইজিং।

অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, জাতীয় স্বার্থ এবং ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের কারণে প্রধানমন্ত্রীর এই চীন সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে চলমান আলোচনা এবং পুশইনসহ বিভিন্ন ইস্যুতে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের ক্ষেত্রে যখন কিছুটা অস্থিরতা বিরাজ করছে, ঠিক তখনই প্রধানমন্ত্রীর এই বেইজিং যাত্রা কৌশলগত দিক থেকে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পদস্থ কর্মকর্তা ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সফরের মধ্য দিয়ে ঢাকা-বেইজিংয়ের রাজনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্কের এক নতুন ভিত্তি তৈরি হতে যাচ্ছে। এই মুহূর্তে বাংলাদেশের জন্য চীনের রাজনৈতিক ও কৌশলগত সমর্থন অত্যন্ত জরুরি।

আসন্ন এই সফরে শিক্ষা, মানবসম্পদ উন্নয়ন, কৃষি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), গণমাধ্যম, যোগাযোগ ও উন্নয়ন সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে তিনটি চুক্তিসহ ১০টিরও বেশি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের রাজনৈতিক ও কৌশলগত গুরুত্ব সবকিছুকে ছাপিয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সফরকে ফলপ্রসূ করতে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে পুরোদমে। ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাস এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দফায় দফায় বৈঠক করছেন। সম্প্রতি ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন এবং পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়ামের সঙ্গে সফর নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। এর আগে গত ৫-৭ মে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বেইজিং সফর করে প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের বিষয়টি চূড়ান্ত করেন।