ঢাকা ০২:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

২৩ জুন ঘিরে দেশজুড়ে অস্থিরতা তৈরির নীলনকশা, গোয়েন্দা তথ্যে উদ্বেগ

ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ তাদের আসন্ন ২৩ জুনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে এক ধরনের অস্থিরতা ও নাশকতা সৃষ্টির পরিকল্পনা করছে বলে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তথ্য পেয়েছে। মাঠপর্যায়ে হঠকারী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি, ঝটিকা মিছিল ও ককটেল বিস্ফোরণের মতো বেআইনি পন্থায় রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করার একটি ‘নীলনকশা’ তৈরি করেছে বলে জানা গেছে।

ইতিমধ্যে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের কয়েকটি স্থানে চোরাগোপ্তা ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে, যা নিরাপত্তা সংস্থা সংশ্লিষ্টদের মতে ২৩ জুনের মূল নাশকতার মহড়া বা ‘ট্রেলার’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একই সময়ে নতুন উসকানি হিসেবে গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে ‘রামমন্দির’ ইস্যুর মতো আকস্মিক এজেন্ডা যুক্ত হয়েছে। এই ধর্মীয় সেন্টিমেন্টকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে পরিস্থিতি ঘোলা করার অপচেষ্টা চলছে বলেও তথ্য মিলেছে।

গোয়েন্দা সূত্রগুলো বলছে, একদিকে নিষিদ্ধ সংগঠনটির নেতাকর্মীদের চোরাগোপ্তা হামলা ও নৈরাজ্য সৃষ্টির পাঁয়তারা, অন্যদিকে অপ্রাসঙ্গিক একটি ধর্মীয় ইস্যুকে সামনে এনে মাঠ গরম করার চেষ্টা—সব মিলিয়ে আগামী ২৩ জুনকে কেন্দ্র করে একটি কৃত্রিম সংকট তৈরির অপকৌশল নেওয়া হয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আগামী ২৩ জুনকে কেন্দ্র করে ঢাকা, সাভার ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে চোরাগোপ্তা মিছিল এবং হামলার ছক এঁকেছে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ। গোয়েন্দা সূত্রগুলো আরও জানায়, জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে তারা ককটেল বিস্ফোরণ ও গাড়ি ভাঙচুরের মতো হঠকারী পথ বেছে নিতে পারে। অন্যদিকে পুলিশ সদর দপ্তরের কনফিডেনসিয়াল শাখার এক চিঠিতে সতর্ক করা হয়েছে যে, ২৩ জুন কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া এই সংগঠনটির সদস্যরা দেশের বিভিন্ন জেলায় তাদের দলীয় কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন এবং ব্যানারসহ রাজপথে প্রকাশ্যে মিছিল বের করতে পারে। এই কর্মসূচির কারণে বিদ্যমান অন্যান্য রাজনৈতিক দল বিশেষ করে এনসিপি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের সঙ্গে সংঘর্ষ তৈরির আশঙ্কা রয়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হিসেবে ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ডে বাধা দিলে তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর ক্ষুব্ধ হতে পারে। নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, রাজধানী ঢাকার অন্তত ১৫টি স্পর্শকাতর পয়েন্টে একযোগে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পরিকল্পনা করা হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সাঘাটায় আহত শিবির নেতা সালাউদ্দিনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর

২৩ জুন ঘিরে দেশজুড়ে অস্থিরতা তৈরির নীলনকশা, গোয়েন্দা তথ্যে উদ্বেগ

আপডেট সময় : ০৯:১৮:৫৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ তাদের আসন্ন ২৩ জুনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে এক ধরনের অস্থিরতা ও নাশকতা সৃষ্টির পরিকল্পনা করছে বলে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তথ্য পেয়েছে। মাঠপর্যায়ে হঠকারী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি, ঝটিকা মিছিল ও ককটেল বিস্ফোরণের মতো বেআইনি পন্থায় রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করার একটি ‘নীলনকশা’ তৈরি করেছে বলে জানা গেছে।

ইতিমধ্যে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের কয়েকটি স্থানে চোরাগোপ্তা ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে, যা নিরাপত্তা সংস্থা সংশ্লিষ্টদের মতে ২৩ জুনের মূল নাশকতার মহড়া বা ‘ট্রেলার’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একই সময়ে নতুন উসকানি হিসেবে গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে ‘রামমন্দির’ ইস্যুর মতো আকস্মিক এজেন্ডা যুক্ত হয়েছে। এই ধর্মীয় সেন্টিমেন্টকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে পরিস্থিতি ঘোলা করার অপচেষ্টা চলছে বলেও তথ্য মিলেছে।

গোয়েন্দা সূত্রগুলো বলছে, একদিকে নিষিদ্ধ সংগঠনটির নেতাকর্মীদের চোরাগোপ্তা হামলা ও নৈরাজ্য সৃষ্টির পাঁয়তারা, অন্যদিকে অপ্রাসঙ্গিক একটি ধর্মীয় ইস্যুকে সামনে এনে মাঠ গরম করার চেষ্টা—সব মিলিয়ে আগামী ২৩ জুনকে কেন্দ্র করে একটি কৃত্রিম সংকট তৈরির অপকৌশল নেওয়া হয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আগামী ২৩ জুনকে কেন্দ্র করে ঢাকা, সাভার ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে চোরাগোপ্তা মিছিল এবং হামলার ছক এঁকেছে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ। গোয়েন্দা সূত্রগুলো আরও জানায়, জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে তারা ককটেল বিস্ফোরণ ও গাড়ি ভাঙচুরের মতো হঠকারী পথ বেছে নিতে পারে। অন্যদিকে পুলিশ সদর দপ্তরের কনফিডেনসিয়াল শাখার এক চিঠিতে সতর্ক করা হয়েছে যে, ২৩ জুন কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া এই সংগঠনটির সদস্যরা দেশের বিভিন্ন জেলায় তাদের দলীয় কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন এবং ব্যানারসহ রাজপথে প্রকাশ্যে মিছিল বের করতে পারে। এই কর্মসূচির কারণে বিদ্যমান অন্যান্য রাজনৈতিক দল বিশেষ করে এনসিপি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের সঙ্গে সংঘর্ষ তৈরির আশঙ্কা রয়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হিসেবে ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ডে বাধা দিলে তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর ক্ষুব্ধ হতে পারে। নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, রাজধানী ঢাকার অন্তত ১৫টি স্পর্শকাতর পয়েন্টে একযোগে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পরিকল্পনা করা হয়েছে।